601>|||-ভাল মন ও ইচ্ছাশক্তি-||



601>|||-ভাল মন ও ইচ্ছাশক্তি-||

<--©----আদ্য নাথ------->

সুবলের বাড়ি বর্ধমানের বড় নিলপুরের কাছে, পাড়া গ্রামে।

সুবল যখন ক্লাস এইটে পড়ে তখনই ওর বাবা ক্যান্সারে মারা যান।

সুবল মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে সে একদিন ডাক্তার হবে।

সুবল বোঝেনা যে ডাক্তারি পড়তে কি বিপুল খরচ।তবুও শিশু মন।তাই সে ওই শিশু মন নিয়েই পড়াশুনা চালিয়ে যেতে লাগল।

এমনিতে সুবল বেশ মেধাবী ও শান্ত প্রকৃতির ছেলে।

বাবা মারা যাবার পরে সুবলের মা নিজে তাদের সামান্য জমি চাষ করে কুমড়ো,শসা

সাগ পাতা সামান্য যে টুকু ফলত তা নিজেই বাজারে গিয়ে বেঁচে সংসার চালাতো।

এমনি চলছিল কিন্তু সুবলের দশ ক্লাসেই পরীক্ষার ঠিক আগে একদিন তার মা বাজার থেকে ফেরার সময় হঠাৎ পথ দুর্ঘটনায় মারা যান।

সুবলের মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ে।

কিকরে চলবে নিজের জীবন ও কিকরে পূর্ন করবে তার স্বপ্ন ।

সুবল সাময়িক একটু বিচলিত হলেও

নিজেকে সামলে নিল।

সে তার নিজের প্রতিজ্ঞা ও মনের সংকল্পে অটল।




একবার সুবল তার স্কুলের খরচ জোগাড় করার জন্যে সকাল বেলা খবরের কাগজ ফেরি করতে লাগল।তারপরে বাড়ি বাড়ি সবজি বিক্রি করতে লাগলো।

এমনি ভাবে চালিয়ে সে বারক্লাসে ভাল ভাবেই পাশ করল।

জয়েন্ট এন্ট্রান্স বেশ ভাল নম্বর নিয়েই পাশ করলো।

ডাক্তারিতে চান্স পেল। নিজের কিছু জমি বিক্রি করে মেডিকেলে ভর্তি হয়ে পড়াশুনা চলতে শুরু করল।

কিন্তু মেডিকেল পড়তে যে এত বিপুল খরচ সেটা তার জানাছিল না।

ফলে দিন ভর কলেজ ও রাত্রে ট্যাক্সি চালাতে শুরু করলো।

ঠিক মত ঘুম ও বিশ্রাম না পেয়ে পড়াশুনার বেশ ক্ষতি হতে লাগলো।

একদিন রাত্রে প্রায় দেড়টায় একজন প্যাসেঞ্জার নিয়ে বর্ধমান থেকে দুর্গাপুর গেল।

প্যাসেঞ্জার ভদ্র লোক গন্তব্যে পৌঁছে সুবলকে প্রতীক্ষা করতে বললো।

অনেক পরে প্রায় ভোর হয় হয় এমন সময় প্যাসেঞ্জার ভদ্র লোক ফিরে এসে ট্যাক্সি তে বসে দেখল সুবলের বুকের ওপরে একটি এনেস্থিসিয়াসের বই এবং সুবল গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। ভদ্র লোকটির একটু তারা ছিল তাই তিনি বারবার সুবলকে ডেকেও কোন সাড়া না পেয়ে একটু অবাক হয়ে সুবলের গায়ে হাত দিয়ে ডাকতে উদ্যত হলেন।

কিন্তু দেখলেন সুবলের গা আগুনের মতন গরম। এবং সুবল সজ্ঞাহীনন হয়ে পড়ে আছে।

ভদ্র লোকটি একটু চিন্তায় পড়ে গেলেন,

ট্যাক্সি ড্রাইভার অথচ হাতে এনেস্থিসিয়াসের বই।

যাই হোক সঙ্গে সঙ্গে উনি বাড়ির কাজের লোকদের জাগালেন।

এবং সুবলকে ঘরে নিয়ে যেতে বললেন।

আসলে এই ভদ্র লোকটি নিজেও একজন ডাক্তার,

কিছু ঔষধ ও খাবার দাবার পরে সুবল স্বাভাবিক হল।

সুবল সুস্থ হবার পরে ডাক্তার বাবু জানতে পারলেন সুবলের সকল কথা।

আসলে কদিন ধরে সুবল কিছু তেমন খাওয়া হয়নি এবং ঘুমোও হয় নি তাই ওর এমন অবস্থা হয়েছে।

আসলে সুবলের দুটি বই কেনার ভীষণ দরকার ছিল এবং আগামী সেমিস্টারের টাকাও দেবার ছিল।তাই ওই টাকা জোগাড় করবার জন্যই সুবল দিন রাত কাজ করে চলছিল।

ডাক্তার বাবু সব শুনে সুবলকে আশ্বাস দিল যে আজ থেকে সুবলকে আর টক্সি চালাতে হবেনা।

বর্ধমানে গিয়ে ওনার সাথে ই সুবলকে নিজের কাছে রেখে নিলেন এবং সুবলের সকল খরচের ভার বহন করবেন বলে মনস্থির করলেন।

ডাক্তার বাবুর নিজে বিয়ে করেন নি,

আজীবন শুধু মানুষের সেবা করে চলেছেন।

এমন ডাক্তারের বদান্যতায় সুবলকে আর পিছে তাকাতে হলনা।

সুবল এখন বিলেত ফেরত এম ডি,

এফারসিএস।

বিলেত থেকে বর্ধমানে ফিরে দেখলেন ডাক্তার বাবুর শরীর তেমন ভাল নাই।

সুবল নিজে বাবার মতন শ্রদ্ধা করত ডাক্তার বাবুকে। তাই সুবল ডাক্তার বাবুর মতামত নিয়ে ডাক্তার বাবুর বাড়িটি তে একটি নারসিং হোম গরে তুললো এবং নিজের বর্ধমানের বাড়িতে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় ও নার্সিং হোম , প্যাথলজি গড়ে তুললো।

এবং নিজের বাড়ির নারসিং হোম, প্যাথলজি,

সকল একদম বিনা পয়সায় চিকিৎসা করতে শুরু করলো।

এবং ডাক্তার বাবুর দুর্গাপুরের নারসিং হোম থেকে যা আয় হয় তা প্রায় সবটাই বর্ধমানের দাতব্য নারসিং হোমে খরচ হয়ে যায়।

আর নিজে শুধু সামান্য ফি নিয়ে দুর্গাপুরে একটি চেম্বারের খুলে বসলো।

সুবলের কাজ কারবার দেখে ডাক্তার বাবু ভীষণ খুশি।

একদিন ডাক্তার বাবু সুবলকে ডেকে

বললেন সুবল ঠিক এমন ইচ্ছা নিয়েই আমি ডাক্তারি করছিলাম। কিন্তু এতো কিছু কিকরে সামলাব সেই চিন্তাতে বিশেষ চিন্তিত ছিলাম ।

সুবল তুমি আমার স্বপ্ন পূরণ করলে।

ঈশ্বর তোমার মঙ্গল করুক।

ডাক্তার বাবু মৃত্যুর আগে তাঁর সকল স্থাবর অস্থাবর সম্পত্তি সুবলের নামে করে দিয়ে গেলেন।

সুবলও তাঁর সকল আয় ও পরিশ্রম গরিব দুস্থ দের জন্য ব্যয় করতে লাগলো।

গল্পটি সম্পুর্ন কাল্পনিক।

তবে এমনটি যদি কাল্পনিক নাহয় সত্য ঘটনা হত তবে কেমন হত??????

                                                                    【--anrc---04/07/2018--】
                                                                      【07:31:32 pm===】
                                             =============================






Comments

Popular posts from this blog

618> || এক জন্ম দিন ||

626>||--দাদু ভাই--||

627>এক বর্ষার রাত::-