Posts

Showing posts from January, 2019

606>||-মানুষ মানুষের জন্য-||

606>||-মানুষ মানুষের জন্য-||                        <---©----আদ্যনাথ---> সেদিন যাচ্ছিলাম তেঘরিয়া, ডানলপ থেকে DN2 বাসটা একটু ভিড় কম দেখে উঠে পড়লাম।  হলদিরাম স্টপেজে নামলাম, তারপর হেটেই তেঘরিয়ার দিগে রওনা দিলাম। মনে হোল একটু খিদে পেয়েছে। ভাবলাম এখন এগারটা বাজে, সকাল থেকে কিছুই খাই নি। প্রেসারের ওষুধ টা খেতে হবে।তাই একটু কিছু খেতে হবে। ব্রিজের নীচে অনেক খাবারের দোকান। একটা দোকান থেকে ডিম পাউরুটি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ নজরে পড়লো , রাস্তার ধারে এক মহিলা একটি বাচ্চাকে কোলে নিয়ে ভিক্ষা করছে এবং ঠিক তার পাশেই বসে একটি বাচ্চা মেয়ে একটি বই নিয়ে খাতায় কি জেন লিখছে।একটু কৌতূহল হল। জানতে ইচ্ছা হল বাচ্চাটি কি লিখছে এক মনে। আমার টিফিন খাওয়া শেষ করে ওষুধ টা খেয়ে , একটু লিকার চা খেয়ে (যদিও এখানে লিকার চা কেউই বানাতে চায় না অনেক বলে কয়ে কোন মতে একটু লাল চা বানা করিয়ে খেয়ে নিলাম)।কারন আমি দুধ চা খেতে পারি না।দুধ চা খেলেই আমার গ্যাস  হয়।তাই কষ্ট অনেক কষ্টে একটু লাল চা জোগাড় করে খেয়ে নিলাম। এবারে আমার কৌতূহল মেটাতে ওই ভিখারিনি...

605>||-শিখিয়ে - শিখলাম-||

605>||-শিখিয়ে - শিখলাম-||                 <--©- ---আদ্যনাথ---> কালের প্রভাবে সময় এগিয়ে চলে। প্রকৃতির নিয়মে সকল কার্য চলতে থাকে। আমরা সমান্য কিছু করে প্রশংসা কুড়াই। এই প্রশংসা বড়ই বিদঘুটে ব্যাপার। প্রশংসা কখনো উৎসাহ যোগায় আরো ভালো কাজ কারবার। কখনো দম্ভের জন্ম দেয় মনে, আর এই দম্ভ মানুষকে ঠেলে দেয়  অধঃপতনের গভীর তলে।  সে যেমন হোক আজ যা বলতে চাই সেও এক জীবনের ঘটনা আর সেই   ঘটনার চিন্তা করলে আজো মনেহয় মানুষ কি না পারে করতে। এই কিছু করার জন্য চাই প্রবল  উৎসাহ,উদ্দীপনা মনের একান্ত ভাবনা, কিছু আলাদা করার প্রেরণা। গল্প টা শুরু ব্ল্যাকডায়মন্ড ট্রেন টি রানীগঞ্জ স্টেশনে যখন  ঢুকছিল। আমি তখন ধানবাদে  পোস্টিং। দিন টা ছিল 27 ফেব্রুয়ারি 1993,. তারিক টা মনে থাকার বিশেষ কারন ছিল।  কারন 28 ফেব্রুয়ারি আমার জীবনে একটি বিশেষ দিন। এবং সেই কারণেই তারিখ তা মনে আছে।  বৎসর টা ঠিক মনে নাই, তবে যতদূর মনে পরে 1993 সালই হবে। আমি প্রত্যেক শনিবার বিকেলে ব্ল্যাকডায়মন্ড ধরে বাড়ি ফিরি।  আ...

604>||--এক ভয়ঙ্কর দিন--|| + ||--শিয়রে শমন::----||

604>||--এক ভয়ঙ্কর দিন--||                      <--©----আদ্য নাথ-------> ঘূর্ণি ঝড়ের কবলে 29th Nov 1988 সুন্দরবনের গোসাবা, দুলকিতে।সম্ভবত সেদিন ছিল মঙ্গলবার। আবার একবার মৃত্যুকে দেখলাম একেবারে কাছে থেকে। এসেও ফিরে গেল মৃত্যু মাত্র কিছু মুহূর্তের ফাঁকে। নখন আমি নাগপুর থেকে এসে ধানবাদে চাকুরিতে যোগ দিয়েছি।দশ দিনের ছুটিতে বাড়ি আসছিলাম।বোম্বে মেল ভীষণ দেরিতে চলছিল।ভাবলাম বর্ধমানে নেমে বর্ধমান লোকালে ব্যান্ডেল হয়ে, নৈহাটি থেকে  শিযালদা লোকালে বেলঘড়িয়াতে নামবো। বর্ধমানে নেমে পাউরুটি ঘুগলি খাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি আব্দুলও ঘুগনি রুটি খাচ্ছে। সুন্দর বন অঞ্চলের গোসবার কাছে দুলকি তে আব্দুল ভাই( আব্দুল মোল্লা)র বাড়ি। আব্দুল ভাই বলেছিলওদের এলাকায় প্রাই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখাজায়।(আব্দুল ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় সেই কুন্তলি থেকে,সে আর এক গল্প পড়ে সময় হলে বলবো)।ওই বলেছিল একটু চেষ্টা করলেই ,ওদের এরিয়ায় বা জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখা যেতে পারে। এমন জিনিস দেখবার লোভ সামলানো কুশকিল।একেবারে অরিজিনাল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। আব্দুল...

603>||আজ 12ই ফেব্রুয়ারি দুইটি বিপরীত ঘটনার স্বাক্ষী।

603>||আজ 12ই ফেব্রুয়ারি দুইটি বিপরীত ঘটনার স্বাক্ষী।                                 <--©----আদ্য নাথ-------> এক মনীষীর জন্মদিন। অন্য জনের মৃত্যু দিন। আজ 12ই জানুয়ারি স্বামী বিবেকানন্দের জন্মের 155 বৎসর। স্বামীজীর জন্ম 12ই জানুয়ারি1863সালে, এবং মৃত্যু 4 জুলাই 1902 সালে মাত্র 39 বৎস ছিলেন এই ধরা ধামে।বিবেকানন্দের এই জন্মদিনের অতি আনন্দের দিনে আরেকটি দুঃখ জনক ঘটনার কথাও আমাদে মনকে ভারী করে তোলে। আজকের দিনটা কেন বিশেষ জিজ্ঞাসা করলে শতকরা নিরানব্বই ভাগ ভারতীয় উত্তর দেবেন বিবেকানন্দের জন্মদিন ৷ কিন্তু বিশ্বাস করুন দু'একজন এমনও আছেন যাদের কাছে আজকের দিনটা অন্য কারণে বিশেষ ৷ আজ মাস্টার দা সূর্য সেনের মৃত্যু দিন৷ ( মাস্টার দা সূর্য সেনের জন্ম 22শে মার্চ 1894, ডাকনাম ছিল কালু। মৃত্যু 12ই ফেব্রুয়ারি 1934, মাত্র 40 বছর বয়সে। ) আজ 12ই ফেব্রুয়ারি তাকে ফাঁসি দিয়েছিলো তৎকালীন বৃটিশ সরকার ৷ বলা ভুল হলো বোধহয়, তাকে নয় তার মৃতদেহ কে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিলো আজ ৷ মৃত্যু তার আগেই হয়েছিলো জেলের ভিতর অকথ্য অত্যাচারে ...

602>||-ছাত্র ও শিক্ষক------গল্প হলেও সত্যি-।|

602>||-ছাত্র ও শিক্ষক------গল্প হলেও সত্যি-।|                             <--©----আদ্য নাথ-------> ---এটি আমার শোনা গল্প। এটি গল্প হলেও সত্য ঘটনা অবলম্বনে। গল্পটি ভালো লেগেছে তাই যেটুকু মনে আছে সেটুকু লিখে রাখলাম-------- এক প্রতিষ্ঠানের অধক্ষ মহারাজের সাথে এক অভিজাত সম্ভ্রান্ত পরিবারের এক ছাত্রের সাথে কিছু কথোপকথন------- মহারাজ:-- তোমরা কয় ভাই বোন ? ছাত্র:--আমার একটা বোন,আমার থেকে দুই বছরের ছোট I মহারাজ:-- তোমার মা কি করেন ? ছাত্র:--মা কিছু করেনা,বাড়িতেই থাকে I বাবা চাকরি করে I সকাল ৮টায় যায় সন্ধ্যা ৬টায় আসে I মহারাজ:-- ঠিক আছে,তোমার মা বাড়িতে কি করেন ? ছাত্র:--সে রকম কিছু না I রান্না করে, আমাদের খেতে দেয়, আমার আর বোনের স্কুলব্যাগ গুছিয়ে দেয়, আমাদের জামা কাপড় ধুয়ে দেয় I এই আর কি I মহারাজ:-- মা, সন্ধ্যা বেলা কি করেন? ছাত্র:--আমাকে আর বোনকে পড়াতে বসায় I পড়া হয়ে গেলে, রান্না করে I মহারাজ: তোমাদের বাবা তোমাদের পড়ান না ? ছাত্র:--না, বাবা খুব ক্লান্ত থাকে I অফিস থেকে এসে, কিছু খেয়ে, পেপার ও অন্য বই পড়ে I মহারাজ:--...

601>|||-ভাল মন ও ইচ্ছাশক্তি-||

601>|||-ভাল মন ও ইচ্ছাশক্তি-|| <--©----আদ্য নাথ-------> সুবলের বাড়ি বর্ধমানের বড় নিলপুরের কাছে, পাড়া গ্রামে। সুবল যখন ক্লাস এইটে পড়ে তখনই ওর বাবা ক্যান্সারে মারা যান। সুবল মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে সে একদিন ডাক্তার হবে। সুবল বোঝেনা যে ডাক্তারি পড়তে কি বিপুল খরচ।তবুও শিশু মন।তাই সে ওই শিশু মন নিয়েই পড়াশুনা চালিয়ে যেতে লাগল। এমনিতে সুবল বেশ মেধাবী ও শান্ত প্রকৃতির ছেলে। বাবা মারা যাবার পরে সুবলের মা নিজে তাদের সামান্য জমি চাষ করে কুমড়ো,শসা সাগ পাতা সামান্য যে টুকু ফলত তা নিজেই বাজারে গিয়ে বেঁচে সংসার চালাতো। এমনি চলছিল কিন্তু সুবলের দশ ক্লাসেই পরীক্ষার ঠিক আগে একদিন তার মা বাজার থেকে ফেরার সময় হঠাৎ পথ দুর্ঘটনায় মারা যান। সুবলের মাথায় যেন বাজ ভেঙে পড়ে। কিকরে চলবে নিজের জীবন ও কিকরে পূর্ন করবে তার স্বপ্ন । সুবল সাময়িক একটু বিচলিত হলেও নিজেকে সামলে নিল। সে তার নিজের প্রতিজ্ঞা ও মনের সংকল্পে অটল। একবার সুবল তার স্কুলের খরচ জোগাড় করার জন্যে সকাল বেলা খবরের কাগজ ফেরি করতে লাগল।তারপরে বাড়ি বাড়ি সবজি বিক্রি করতে লাগলো। এমনি ভাবে চালিয়ে সে বারক্লাসে ভাল ভাবেই পাশ করল। জয়েন...

600>||-প্রত্যাবৃত্ত-||--ছোট গল্প,:--( বুধনী )

600>||-প্রত্যাবৃত্ত-||--ছোট গল্প,:--( বুধনী )                          <--©----আদ্যনাথ---> আসলে কারুর জন্য কিছু করতে পারলে বড় ভালো লাগে। খবরটা জেনে ভীষণ ভালো লাগলো। চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছি অক্টবর 2010 তে। তার পর থেকে অনেক বার ধানবাদে গেছি। কখনো কাজে,কখনো নিছক পুরোনো বন্ধুদের সাথে দেখা করতে। ৬- ঐ অক্টোবর ২০১৮; 7টা 20 মিনিট : ধানবাদ থেকে বুধনী দেবীর ফোন । ওনার জন্ম বুধবার হয়েছিল তাই বিহারের রেয়াজ অনুযায়ি ওনার নাম রাখা হয় বুধনী । বুধনী ফোনে 'অবর্ষিত অশ্রুভরা" কন্ঠে আমাকে বললেন "বাবা ( বিহারে ব্ৰাহ্মণ বয়স্ক মানুষ কে ওরা বাবা বলেই সম্বোধন করে ) মুঝে হেড মিস্ট্রেস কা পদ মিলা, কাল সামকো G.M. সাহাব নে মুঝে বুলাকর পত্র দিয়া অউর কম্পিউটর কে হেড ইন চার্জ কে পদভি সমালনেকো কহা"। সকালে এমন একটা ফোন পেয়ে ভীষণ ভালো লাগলো। আমার মনে কিছু পুরানো স্মৃতি ভেসে উঠলো। 18 ই মে 2016 বুধবার: সেদিন ধানবাদ গিয়ে ছিলাম। স্টেশনে লক্ষণের সাথে দেখা। লক্ষণ সেন্ট্রাল হসপিটালে এসে ছিল । লক্ষণ জোড়করে ওর বাড়িতে নিয়ে গেল আমাকে । ফুলারিটারে নুত...