604>||--এক ভয়ঙ্কর দিন--|| + ||--শিয়রে শমন::----||




604>||--এক ভয়ঙ্কর দিন--||
                     <--©----আদ্য নাথ------->

ঘূর্ণি ঝড়ের কবলে 29th Nov 1988 সুন্দরবনের
গোসাবা, দুলকিতে।সম্ভবত সেদিন ছিল মঙ্গলবার।
আবার একবার মৃত্যুকে দেখলাম একেবারে কাছে থেকে।
এসেও ফিরে গেল মৃত্যু মাত্র কিছু মুহূর্তের ফাঁকে।

নখন আমি নাগপুর থেকে এসে ধানবাদে চাকুরিতে
যোগ দিয়েছি।দশ দিনের ছুটিতে বাড়ি আসছিলাম।বোম্বে মেল ভীষণ দেরিতে চলছিল।ভাবলাম বর্ধমানে নেমে বর্ধমান লোকালে ব্যান্ডেল হয়ে,
নৈহাটি থেকে  শিযালদা লোকালে বেলঘড়িয়াতে নামবো।
বর্ধমানে নেমে পাউরুটি ঘুগলি খাচ্ছিলাম।
হঠাৎ দেখি আব্দুলও ঘুগনি রুটি খাচ্ছে।
সুন্দর বন অঞ্চলের গোসবার কাছে দুলকি তে
আব্দুল ভাই( আব্দুল মোল্লা)র বাড়ি।
আব্দুল ভাই বলেছিলওদের এলাকায় প্রাই রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখাজায়।(আব্দুল ভাইয়ের সাথে আমার পরিচয় সেই কুন্তলি থেকে,সে আর এক গল্প পড়ে সময় হলে বলবো)।ওই বলেছিল একটু চেষ্টা করলেই ,ওদের এরিয়ায় বা জঙ্গলে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার দেখা যেতে পারে। এমন জিনিস দেখবার লোভ সামলানো কুশকিল।একেবারে অরিজিনাল
রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার।
আব্দুল ভাইও বাড়ি যাচ্ছে ।আমি অনুরোধ করলাম ওরসাথে ওদের বাড়ি নিয়ে যেতে। এবং ছুটি নেওয়াই আছে তাই দুই এক দিন থাকাও যাবে।
ভাগ্যে থাকলে অমন বিখ্যাত জিনিষ দেখতে পাবো।

আইও মত পাল্টে আবদুলের সাথে সুন্দর বনের দিগে চল্লাম।আব্দুল বলছিল ওদিগে দুই তিন দিন ধরে দেশ ঝড় বৃষ্টি হচ্ছে। আমি তথাপি ওর সাথে চললাম।
সাল আর মাস টা মনে আছে তারিখ টা মনেনাই
তবে বলতে পারি 1988 র নভেম্বরের একেবারে শেষে।সম্ভবত 29th November 1988.
আবদুলের বাড়িতে পোঁছে।ঝড় বৃষ্টির প্রভাব চলছিল।
বসতে দিল বাড়ির উঠোনে,একটি এক চলায়।
আবদুলের মা জখোন জানলেন আমি ব্রাহ্মণ,
তখনই একটি মাটির উনান লিপে পুছে,
কাঠের সগুনের ব্যবস্থা করে বললেন--
বাবা একটু কষ্ট করে তোমাকে নিজেই নান্না(রান্না) করে খেতে হবে।কারন আমরা তো মুসলমান তাই তুমি হয়তো আমাদে রান্না খাবেনা।
আমি বললাম-- আমি ওসকল জাত ধর্ম মানিনা।
আপনি আবদুলের মা আবদুল আমার বন্ধু অর্থাৎ আপনি আমারও মাএর সমান।
আপনার হাতের রান্না আমি মজা করেই খাব।
আগে একটু চা খাওয়ান। পরে রাত্রে যাহোক খাব।
"আমাদের তো রাত্রে মুড়ি আর বুট সেধ্য -- তুমি কি খেতে পারবে? আমি এমন খাবার তো মহা আনন্দে খাব।ঠিক আছে তবে এই দুর্যোগের রাতে আজ রাত হয়ে আসছে কালকে মুর্গার গোস্ত খাওয়াব।
এমন আলোচনার সময় হঠাৎ আব্দুল বলে উঠল
শিগগির ঘরে ঢুকুন ওই এখনই ঝড় আসবে।
বলতে বলতেই বিকট আওয়াজ করে আবদুলের বাড়ির খড়ের চালটা হওয়ায় উড়ে গেল।
পরমুহূর্তে কিছু বুঝে উঠবার আগেই সব লন্ড ভ্যন্ড হয়ে গেল। অন্ধকার হয়ে গেল।কে কোথায় গেল কিছুই বুঝে উঠতে মারলাম না।
আসে পাশের বাড়ি ঘর গুলো একটু দূরে দূরে।
তাই অস্পষ্ট কিছু আওয়াজ চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ পাচ্ছিলাম।
হঠাৎএকে বারে কাছে আমার ডানদিকে শুনতে পেলাম কোন নবজাতকের কান্নার আওয়াজ।
মনে পড়লো আবদুল বলে ছিল ওর বউ এর সন্তান হবে ।ডাক্তার আরো একসপ্তাহ সময় দিয়েছে।
কোথায় কি সব লন্ড ভন্ড।
কেউ কোথায় নাই।
বাড়ি ঘর গুলো কোথায় হওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
আবদুল, আবদুল কোথায় আবদুল।
কেউ কোথাও নাই।অন্ধকারে আন্দাজ করলাম কিছু মানুষ চিৎকার করতে করতে দৌড়ছে।
বার বার ডাকাডাকি করেও আবদুল ও তাঁর মা এর কোন সন্ধান করতে পারলাম না।
কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না।
ওরা সকলে কি হাওয়ায় মিলিয়ে গেল,নাকি কোন ধ্বংস স্তূপে চাপা পড়ে গেল।
অন্ধকারে কিছুই বুঝে উঠতে পারলাম না।
একে নুতন জায়গা পথঘাট কিছুই চিনিনা,
তাঁর উপরে অন্ধকার। প্রবল জোরে হাওয়া ও বৃষ্টি।
কি করি কোনদিগে যাই, নিজেকে বড়ই আশায় বোধ করছি।
ভয় ও একটু পাচ্ছিলাম।
কারন দুটো শৃগাল নাকি অন্য কিছু ঠিক আমার পাশ দিয়ে ছুটে পালালো।
আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
ঠিক এমন সময় একেবারে খুক কাছে থেকেই সদ্যজাত শিশুর কান্না শুনতে পেলাম।
কি করি কি করা উচিত কিছুই বোধগম্য হোল না।
যেদিগ দিয়ে বাচ্চাটির কান্নার আওয়াজ আসছিল
সেইদিগে ছুটে গেলাম।
অন্ধকারে কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না।
বিদ্যুৎ চমকের আলোতে মহল বাচ্চাটি দাঁড়ান্দা থেকে নিচে পড়ে কাঁদছে।
বিদ্যুতের ঝলকে অনুভ করলাম শিশুটি সদ্যজাত,
কিন্তু এর মা কোথায়?
কি করে কোথায় খুঁজি?
বাচ্চাটির চিৎকারে থাকতে নাপেরে তুলে নিলাম দুইহাতে।
প্রচন্ড আঠালো তার উপরে খর মাটিতে মাখা মাখি।
অনুপায় হয়ে আবার ডাকলাম-- আবদুল,
আবদুল---
কোথায় কে কারুর কোন উপস্থিতির টের পেলাম না।
আরে বাচ্চাটির মা গেলেন কোথায়?
মা তো আর বাচ্ছা ফেলেরেখে পালাবে না---
তবে কি----
কিজানি, বার বার বিদ্যুতের ঝলকে এদিক ওদিক খুঁজি---
হঠাৎ মনেহলো যেন কালো একটা কি ওই খড়ের চালের নিচে চাপা পড়ে আছে।
ওটা কি?
এগিয়ে যেতে একটু ভয় করলো তথাপি অন্ধকারে হারতে একটু এগিয়ে গেলাম।
যদি কেউ চাপা থেকে।
হ্যাঁ আমার অনুমান সত্য।
একটি মহিলা বিরাট এক শাল বল্লীর নীচে চাপা পড়ে আছে।
এক হাতে বাচ্ছা টি অন্য হাতে ব্যর্থ চেষ্টা করলাম
মেয়ে টিকে বার করবার।
আন্দাজে যা বুজলাম যে ওটা সরানো আমার একার পক্ষে অসম্ভব।তা ছাড়া ওই মেয়েটি বেঁচে থাকবার কোন লক্ষণ বুঝে উঠতে পারলাম না।
কি করি কোথায় যায় কোনদিগে বা যাই।
বার বার বাচ্চাটির কান্না আমাকে আরো অস্থির করে তুলেছিল।
অন্তত বাচ্চাটিকে বাঁচাই কিকরে।
এমন ভাবনার নানান চিন্তায় কোথা থেকে কি যে হল কিছুই মনে করতে পারছিনা।
শেষ অংশটুকু
27th January তে লিখেছি-----

|--শিয়রে শমন::----||
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে ঘূর্ণি ঝড়ের কবলে
29th Nov 1988 সুন্দর বনের
গোসাবা, দুলকি )
( অনেক জটিলতা ও বিশেষ শর্তাবলির কারনে কিছু পরিবর্তন করা হোল )

                                                                        【--anrc-28/01/2018--】
                                                                            【=রাত্রি:01:08:22=】
                                                                              【=কোলকাতা -56=】

                                                      ||========================||


605/0>||--শিয়রে শমন::----||

(সত্য ঘটনা অবলম্বনে ঘূর্ণি ঝড়ের কবলে
29th Nov 1988 সুন্দর বনের
গোসাবা, দুলকি )

--শিয়রে শমন::----
মৃত্যু কে দেখেছিলাম,
একেবারে কাছে থেকে।
মৃত্যুই যেন তার প্রতিকার,
চারিদিগে মৃত্যুর হাঁ-হাঁ কার।
এ কেমন বিচার?
ছিল সঙ্কেত পূর্বাভাস।
হঠাৎ শিয়রে দণ্ডায়মান,
মূর্তিমান মৃত্যুর দূত।

সেদিন এক ভয়ঙ্কর ঘূর্ণি ঝড়,
লন্ড ভন্ড করে দিয়ে গেল পন্ড।
প্রবল বায়ুর বেগে,
ভয়ে কম্পমান,
দিক দিশার পাইনি অন্ত।
অন্ধকারে জন্ম নিল অসহায় শিশু।
মৃত মাতৃ ক্রোড়ে প্রবল আর্তনাদ,
জন্ম মুহূর্তে চিৎকার আর্তনাদ,
ঊর্ধ্বমুখে মুষ্ঠিবদ্ধ দুটি হাত,
এবং নিতান্ত ক্ষুদ্র দুটি পা,বার বার,
চাইছে আকাশটাকে ঠেলে দিতে।
নিজের স্থান নিজেই গড়ে নিতে,
ক্রম বর্ধমান চিৎকারে।
রক্তে মাখা মাখি,
মা ও শিশুর---
রক্ত মিলে মিশে একাকার,
চারিদিক ভীষণ অন্ধকার,
শুধুই মৃত্যুর বিভীষিকা হাঁ-হাঁ কার।

সেদিনের ঘূর্ণি ঝড়ে,
মৃত্যু হয়েছিল যাদের।
তাদের মধ্যে ওই সদ্যজাত--
নিষ্পাপ শিশুটির মা ও ছিলেন।
চারিদিক আন্ধকার।
সেই ক্ষনে জনমানব বলতে,
ওই শিশু টি ও আমি।
হারিয়ে গেল আবদুল ও তাঁর মা,
কোথায় যে গেল, কি হোল জানিনা।
আর কোনদিন খুঁজে পাইনি ওদের।
প্রকৃতি ভীষণ মৃত্যু তান্ডব চালিয়ে,
হঠাৎ যেন একটু থমকে ছিল।

তুলে নিয়ে ছিলাম,
খুব সাবধানে।
ভয় করছিল, অপরিষ্কার হাত।
উপায় কোননাই,
তুলে নিয়েই দিয়েছিলাম ছুট,
কাছের কোন চিকিৎসালয়ের খোঁজে।
চারিদিকে শুধুই ধ্বংসলীলা।
অন্ধকারক্রমেই বাড়ছে।
তবুও ছুটছি,
জানিনা কোন দিগে যাব।
শুধুই ধ্বংসলীলা স্তূপাকার,
জন মানব শূন্য।
পথে মিললো শৃগাল ও
ওই জাতীয় কিছু,
তারাও আমার মতন,
প্রাণে বাঁচতে চায়।
তাই দৌড় আর দৌড়।

তারপরে সব অন্ধকার----
যখন চোখ খুললাম,
দেখি অনেক ডাক্তার দাঁড়িয়ে,
আমাকে ঘিড়ে।
এস এস কে এম সাসপাতালের
ইমারজেন্সি বেডে।
অনেক পরে জেনে ছিলাম।
কারা কেমন করে এনেছিল আমাকে এখানে,
আমি নাকি তিন দিন অজ্ঞান ছিলাম।
প্রচন্ড আঘাতের কারণে।
জেনেছিলাম,শিশুটিকে,
এক মিলিটারি কর্নেল নিয়েছেন দত্তক।
এক নারকীয় ভয়ঙ্কর ঘূর্ণি ঝড়ের সাক্ষি।
আজ অনেকদিন সুদীপাকে দেখিনি,
ওরা এখন নাকি বিশাখাপত্তমে থাকে।
ওরা জানিয়ে ছিল কিছুদিন আগে,
সুদীপার সন্তানের বৎসর পূর্তিতে।
আমি যোগাযোগ করতে পারিনি।
ওরা স্বামী স্ত্রী দুজনেই,
পোর্টে চাকুরী করে।
সেই ভয়ঙ্কর সেদিনের পরে,
একবারই হয়েছিল দেখা খড়্গপুরে।
তখন সুদীপা কলেজে পড়ে।
আহা কি শান্ত নম্র মেয়েটি,
সেই ভয়ঙ্কর তান্ডবের চিহ্ন মাত্র নাই।

        【--anrc-27/01/2018--】
           【=রাত্রি:01:08:22=】
             【=কোলকাতা -56=】

   ||========================||

( অনেক জটিলতা ও বিশেষ শর্তাবলির কারনে কিছু পরিবর্তন করা হোল )

Comments

Popular posts from this blog

618> || এক জন্ম দিন ||

626>||--দাদু ভাই--||

627>এক বর্ষার রাত::-