608>|| ক্লিওপেট্রা এক ঐতিহাসিক নারী:||


608> || ক্লিওপেট্রা এক ঐতিহাসিক নারী:||
                                      <---©-আদ্যনাথ--->

        || ক্লিওপেট্রা ||
                  <-----©-আদ্যনাথ--->
চির স্বরনীয় নয় তো বটে তিনি,
কিন্ত আজো আছেন সকলের মনে যিনি।
ক্লিওপেট্রা নামেই চেনে ইতিহাস,
নারী শ্রেষ্ঠ গড়েছেন নিজেই ইতিহাস।
ক্লিওপেট্রা ক্ষমতার লোভে,
নিজেরে বিলায়েছে অকাতরে।
উন্মুক্ত যৌবন ও প্রেমের আগুনে
নিজেকে বিলিয়েছেন সাদরে।
কিন্তু দেশের উন্নতি ও শিক্ষার প্রসারে
তীক্ষ্ম বুদ্ধি মত্তা প্রকাশ করেছেন ত্বেজে।
তিনটি গুণের জন্য
ইতিহাস তাকে আজও মনে করে।
প্রেম ও যৌবনের প্রবল আকর্ষণ,
আবার হিংস্রতার শ্রেষ্ঠ উদাহরন।
সেই নারী আবার সমাজ গঠন,
জ্ঞান বিজ্ঞানে প্রকাশ শ্রেষ্ঠ আসন।
নাই থাক রূপ, ছিলো যৌবন,
আর ছিলো শ্রেষ্ঠ কলা কৌশল।
অনেক ভাষার অধিকারী,
সমাজে প্রতিষ্ঠিত শ্রেষ্ঠ নারী।
কতো বীর যোদ্ধা হয়েছে তার প্রেমে পাগল,
ক্ষমতার লোভে সেই নারী সদাই অটল।
প্রেম আর হিংসা অতি তুচ্ছ ব্যাপার,
ক্ষমতার শ্রেষ্ঠ আসন করেছিল অধিকার।
প্রাচীন মিশরের ইতিহাস শ্রেষ্ঠ
নিজেই করেছিল নিজেকে প্রতিষ্ঠিত।
যৌবনের কামনায় তিনি শ্রেষ্ঠ
হিংসা, ক্রুরতাতেও তিনি শ্রেষ্ঠ ।
সমাজ গঠন, নারী শিক্ষায় আদরণীয়,
কৃষি,জ্ঞান বিজ্ঞানে ও তিনি আদরণীয়।
সামান্য 39 বৎসরের জীবন,
আজও ইতিহাস তারে রেখেছে স্মরণ।
সেই নারী ক্লিওপেট্রা,
দেখে এলাম তার কীর্তি খানিকটা।
কেউ তারে দোষে দুষ্টু বলে,
কেউ মনে রেখেছে আদর করে ।
আমরা ছিলাম ভাবে বিউভল,
দেখেছি সেই নারীর ছবিই কেবল।
দৃঢ়তা ও আত্ম বিশ্বাসের পরাকাষ্ঠা,
দেশের তরে ছিলো তার একান্ত নিষ্ঠা।
   সে ছিল নারী ক্লিওপেট্রা।
    <-----©-আদ্যনাথ--->
     【--anrc--23/05/-2019--】
     【=রাত্রি:12:31:22am=】 【=তেঘড়িয়া=কোলকাতা -59=】
==========================
ক্লিওপেট্রা প্রাচীন মিসর এবং ইতিহাসের এক বিস্ময়কর নাম।
ইতিহাসের একজন  বিখ্যাত নারী ।
সৌন্দর্য আর সীমাহীন ক্ষমতার অধিকারী।
যে নারী নিমেষে পারে সীমিত শক্তিকে
অসীমে পৌঁছে দিতে।
সেই বিখ্যাত ক্লিওপেট্রা।
লোকে বলে তার ছিলো সম্মোহনী ক্ষমতা।
আসলে সে ছিল বহু ক্ষমতা অধিকারী।
আট নয়টি ভাষায় ছিলো অসীম দক্ষতা।
আধুনিক ইতিহাসবিদদের মতে, পরমাসুন্দরী হিসেবে তার খুব বেশি খ্যাতি ছিল না। কিন্তু তীক্ষ্ন বুদ্ধিমত্তা, অন্যকে বশ করার প্রত্যয়ী মমতা, সহজাত রসবোধ এবং প্রচণ্ড উচ্চাভিলাষ ও তা বাস্তবায়নের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি নিজেকে সর্বকালের সেরা মহিলাদের থেকে অনেক  অগ্রে পৌঁছে ছিলেন।
আয়ু ছিলো মাত্র 39 বৎসর।
অথচ এই স্বল্প সময়েই তিনি একের পর এক নাটকীয় ঘটনার সৃষ্টি করেন।
অনেক পুরুষের অসাধ্য কাজ তিনি করতে পারতেন অতি সহজে।
তার জীবনে কোন বাঁধা কেই  তিনি বাঁধা বলে মনে করতেন না।
সেই প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত
ইতিহাস ও নাটকে তার ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।
বিশ্ববিখ্যাত অনেক লেখক সাহিত্যিকই তাকে নিয়ে কালজয়ী নানান উপাখ্যান রচনা করেছেন।
সেগুলি মধ্যে আছে উইলিয়াম শেক্সপিয়রের ‘অ্যান্টনি অ্যান্ড কিওপেট্রা’, জর্জ বার্নাড শর ‘সিজার কিওপেট্রা’, জন ড্রাইডেনের ‘অল ফর লাভ’, হেনরি হ্যাগার্ডের ‘ক্লিওপেট্রা’। অনেক কাহিনীতে ভালো দিকের চেয়ে খারাপ দিককেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বেশি।
" হ্যালিওয়েল তাকে ‘দ্য উইকেডেস্ট উইম্যান ইন দ্য হিস্ট্রি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।"
প্রেম আর মৃত্যু  এই দুই নিয়ে ক্লিওপেট্রা তার জীবনে পুতুল খেলার মতন খেলেছেন। 
তিনি যেমন ভালোবাসা ও প্রেমের আগুনে ঝাপিয়ে পড়তে পারতেন তেমনি
প্রয়োজনে মারাত্মক হিংস্রতা প্রকাশ করতেও
কোন দ্বিধা করতেন না।
তিনি অতি ঠান্ডা মাথায় নিজেকে প্রেমিকের
কোলে ঝাপিয়ে পড়তে পারতেন আবার প্রজনে সেই প্রেমিককে নিষ্ঠুর ভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে দুইবার চিন্তা করতেন না।
পথের কাঁটা মনে করলে যে কাউকে নির্মমভাবে সরিয়ে দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করতেন না।
এটাই ক্লিওপেট্রার জীবনের সব থেকে
ট্রেজিডি।
রোমান রাজনীতির অত্যন্ত সঙ্কটজনক কালে ক্লিওপেট্রা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন করেছিলেন।
তিনি সে যুগের নারীদের মতো সাধারণ জীবন মেনে নেননি।
বরঞ্চ নিজেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
আর সেই কারনেই আজও  তাকে স্মরণ করা হয়।
প্রাচীন মিশর থেকে পরবর্তী যুগে
অনেক নারীর নাম আছে আমাদের মনে।
কিন্তু সকলকে পেছনে ফেলে এই ক্লিওপেট্রা
আছেন এগিয়ে।
ক্লিওপেট্রা তার জীবিতকালেই শত্রুপক্ষের যে নেতিবাচক প্রচারণার শিকার হয়েছিলেন, এত বছর পরও তা কমেনি।
সেই প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত
প্রতি যুগেই তার চরিত্রকে নানাভাবে রূপান্তরিত করা হয়েছে।
ইতিহাসের কতো লেখক,কাহিনি কার।
চিত্রতারকা, শিল্পী , গণ,রাজনীতিবিদ, কখনো সাহিত্যিক,কখনো চিত্রকর, কখনো বর্ণবাদী গোষ্ঠী, কখনো স্বাধীনতাকামীরা করেছেন।
নানান ভাবে ক্লিওপেট্রার জীবন করেছেন বর্ণন।
কখনো তিনি শত্রু, কখনো স্বাধীনতাকামী, কখনো আবেদনময়ী নারী, কখনো খলনায়িকা নানা জনে নানা যুগে এভাবেই তাকে চিত্রিত করে চলেছে।
দুরান্তে দেইলি আলিগিয়েরি বা দান্তে (Dante) (1265 - 1321) ছিলেন এক বিখ্যাত ইতালীয় কবি। তার মতে
লালসার শাস্তি হিসেবে ক্লিওপেট্রা নরকের দ্বিতীয় স্তরে দাউ দাউ করে পুড়ছেন।
কারো কারো মতে ক্লিওপেট্রা  ছিলেন ‘সারপেন্ট অব দ্য নাইল’।
অর্থাৎ নীর নদের বিশাল বিষাক্ত সাপ।
অনেকেই তার যৌন আচরণের কেই
বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
আবার কেউ তাকে  এশিয়ান হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এশিয়ানদের সব কিছুই যে খারাপ তা বোঝানোর জন্যও তার নেতিবাচক দিকগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন বা তাদের অতি উর্বর মস্তিষ্কে অনেক কিছু আবিষ্কৃতও হয়েছে।
তা ছাড়া অক্টাভিয়ান তার বিজয়ের পর যাতে শুধু রোমানদের লেখা ইতিহাসই টিকে থাকে
তার জন্য  মিসরের হাজার হাজার নথিপত্র পুড়িয়ে ফেলেছেন। আর সেই কারণে ই
ক্লিওপেট্রার প্রকৃত ইতিহাস অনেকাংশেই অজানা রয়ে গেছে।
সেই সময়ের সাম্রাজ্যবাদী রোমানরা  কিওপেট্রাকে এক খলনায়িকা হিসেবেই দেখতে চেয়েছিল।এবং সেই ধারাবাহিকতা র
অনেকটাই  এখনো বয়ে চলেছে।মনে হয় যত দিন তার নামটি টিকে থাকবে, তত দিন এই রূপান্তরও নানান ভাবে চলতে থাকবে।
আর কেউ কেউ আরো বিকৃতি ঘটাবে।
এতো সকল ঘটনার পরেও বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে ক্লিওপেট্রার।
ক্লিওপেট্রা মিসরের রানী ছিলেন তিনি। অথচ তিনি প্রকৃত খাঁটি মিসরীয়  ছিল না।
তথাপি একথা অতি সত্য যে ক্লিওপেট্রা  মিশর এবং মিশরীয়দের ভালোবাসতেন। তাদের উন্নয়নের জন্য বহু কাজ করেছেন। চাষাবাদের সুবিধার জন্য নীল নদ থেকে খাল কেটে আলেক্সান্দ্রিয়ার ভেতরে নিয়ে গিয়েছিলেন। মিসরের ব্যবসায়-বাণিজ্যের উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন। প্রাণবন্ত এই রাজকুমারী সহজেই সবার সপ্রশংস দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। মিসরীয়সহ তিনি মোট ৯টি ভাষা জানতেন। গণিতবিদ ও ব্যবসায়ী হিসেবেও তার সুনাম ছিল।
রাজনৈতিক কারণে তিনি নিজেকে সূর্যদেবতা ‘রা’-এর বংশধর হিসেবে প্রচার করতেন এবং দেবী আইসিসের শিরোস্ত্রাণ ধারণ করতেন। সাহিত্য ও দর্শনে তার প্রবল অনুরাগ ছিল। তার চূড়ান্ত অভিলাষ ছিল রোমের আওতার বাইরে থেকে প্রথম টলেমি প্রতিষ্ঠিত পুরো এলাকার রাজক্ষমতা লাভ করা।
এই কারনেই রোমানরা মনে করতেন ক্লিওপেট্রাই রোম সাম্রাজ্য বিস্তারের বিশাল বাধা।
সাধারণভাবে তিনি ক্লিওপেট্রা সপ্তম হিসেবে পরিচিত। মেসিডোনিয়ান বংশোদ্ভূত সপ্তম মিসরীয় রানী হওয়ায় তাকে এই পরিচিতি বহন করতে হয়। তার আগে আরো ছয়জন কিওপেট্রা ছিলেন। তিনি ছিলেন টলেমি দ্বাদশের তৃতীয় মেয়ে। তিনি জন্মগ্রহণ করেন খ্রিষ্টপূর্ব  69 সালে।
ক্লিওপেট্রা ছিলেন সিজারের প্রেমিকা ও মার্ক অ্যান্টনির স্ত্রী।এবং এই হিসেবেই তিনি বেশি খ্যাত।
ক্লিওপেট্রার পূর্ব পুরুষ টলেমি ছিলেন  আলেক্সান্ডারের দি গ্রেট এর একজন সেনাপতি।
খ্রিষ্টপূর্ব 323সালে আলেক্সান্ডার মারা যাবার পরে তার অন্যতম সেনাপতি টলেমি মিশরের স্বাধীন রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। কিওপেট্রা এই বংশেরই শেষ শাসক। তার মৃত্যুর তে  মিসরে প্রায় 300 বছরের মেসিডোনিয়ান শাসনের অবসান ঘটে। তার মায়ের দিককার কোন পরিচয় পাওয়া যায় নি। এ কারণে তিনি রোমানদের মতো শ্বেতাঙ্গ ছিলেন, নাকি অনেক মিসরীয়র মতো কৃষ্ণাঙ্গ ছিলেন, সে ব্যাপারেও অনেক দ্বন্দ্ব আছে।
ক্লিওপেট্রার প্রেম আর যুদ্ধের কাহিনী শুরু হয় খ্রিষ্টপূর্ব 51 সালে। পিতা টলেমি আওলেটেস মারা যাওয়ার পর।
এ সময়ে ক্লিওপেট্রার বয়স ছিল 18বছর। টলেমি আওলেটেস তার উইলে কিওপেট্রাকে তার ছোট ভাই টলেমি ত্রয়োদশের যার বয়স
সেই সময় ছিল 12 বছর, তার সাথে উত্তরসূরি মনোনীত করেন।
সে সময়ের মুদ্রায় অঙ্কিত ছবিতে ক্লিওপেট্রাকে পরমাসুন্দরী হিসেবে দেখা যায় না। তবে তার প্রসন্ন ভাব, স্পর্শকাতর নিখুঁত গ্রিসিয়ান মুখাবয়ব, গোলাকার দৃঢ় চিবুক, ধনুকের মতো ঢেউ খেলানো ভুরু যুগলের নিচে অদ্ভুত সুন্দর ভাসা ভাসা চোখ, প্রশস্ত ললাট আর সুতীক্ষন নাসিকার চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়। আর সৌন্দর্যে কিছুটা কম হলেও প্রখর বুদ্ধিমত্তা ছিলো।
যেকোনো পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেয়ার মতা, অপরকে বশ করার ক্ষমতা তাকে শ্রেষ্ঠ করে তুলেছিল।
ক্লিওপেট্রার জীবনে এক বিশেষ মর্মান্তিক
কাহিনীর বর্ণনা পাওয়া যায়।
হার্মেসিস যিনি সেথ রাজবংশের শেষ উত্তরাধিকারী, এবং তার দূর সম্পর্কিত বোন চারমিয়ন,তারাও চেয়েছিলেন কিওপেট্রাকে উৎখাত করে মিসরে মিসরীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে।
আবার রাজ জ্যোতিষীবেশে কিওপেট্রার পাশে হার্মেসিসকে এবং পরিচারিকা হিসেবে চারমিয়নকে দেখা যায়।
খ্রিষ্টপূর্ব 51 সালে ক্লিওপেট্রার  পিতার মৃত্যুর পর তিনি ভাই টলেমি ত্রয়োদশের সাথে যৌথভাবে মিশরের শাসক হন (খ্রিষ্টপূর্ব 51-47)।
সে কালে মিসরে ভাই-বোন বিয়ে প্রচলিত ছিল মিসরের আইন অনুযায়ী ভাই বা পুত্র যেকোনো একজনকে অংশীদার করতেই হতো, এ ক্ষেত্রে বয়স কোনো ব্যাপারই নয়। তাই ক্লিওপেট্রা একাধারে ছিলেন সম্রাটের বোন ও স্ত্রী। তবে দু’জনের মধ্যকার সুসম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। কিছু সময় পরেই দু’জনের মধ্যকার সম্পর্কে ফাটল ধরে। 
ফলে ক্লিওপেট্রা নিজে একছত্র অধিকার বজায় রাখতে সরকারি সব দলিল পত্র থেকে
সব সরকারি দলিলপত্র থেকে তার ভাইয়ের নাম মুছে ফেলতে থাকেন।
এমনকি মুদ্রায় তার একক পোর্ট্রেট ও নাম সংযোজন করেন।
এতকিছু করেও ক্লিওপেট্রা  টিকতে পারেননি। দেশে বিশৃঙ্খলা, দুর্ভি, প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের ফলে কিওপেট্রাকে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে হয়। কিন্তু তিনি দমে যাননি। ধারণা করা হয় বোন আরসিনোইকে নিয়ে আরব সৈন্যদের সহায়তায় তিনি সিরিয়ায় চলে যান।
============
খ্রিষ্টপূর্ব 48 সালে রোমের অধিপতি জুলিয়াস সিজারের সাথে  তার প্রতিদ্বন্দ্বী পম্পেইর সাথে যুদ্ধ চলাকালীন পম্পেই পালিয়ে যায় মিশরে । পম্পেই এর  পিছু ধাওয়া করতে করতে জুলিয়াস সিজার মিশরে উপস্থিত হন। পম্পেই আশা করেছিলেন মিশরে  তিনি আশ্রয় পাবেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছার  পরেই তিনি আততায়ীদের হাতে  নিহত হলেন। এর ঠিক চার দিন পর সিজার বিশাল সৈন্যবাহিনী নিয়ে মিশরে  পৌঁছলেন। মিশর -সম্রাট টলেমি তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করলেও শেষে ব্যর্থ হলেন । এদিকে 
ক্লিওপেট্রা পুরো ঘটনাগুলির ওপর তীক্ষ্ণ  নজর রাখছিলেন। তিনি সুযোগ গ্রহণের অপেখ্যায় ছিলেন । তিনি দেখলেন সিজার শক্তিশালী এবং সেই সাথে একনায়ক। সবচেয়ে বড় কথা তার ওপর নির্ভর করা চলে । তখন ক্লিওপেট্রা  সিদ্ধান্ত নিলেন যে একমাত্র সিরাজের  সহায়তায় তিনি  আবার রাজক্ষমতা  ফিরে পাবেন , এবং সেই মতোই তিনি উদ্যোগ নেন।
এ সময় সিজারের চাহিদা ছিল সম্পদের। আর কিওপেট্রার রাজক্ষমতা । দু’জন দু’জনের পরিপূরক হিসেবে অবস্থান নিলেন। এতে দু’জনই লাভবান হলেন।
সিজারের সাথে ক্লিওপেট্রার সাক্ষাতের ঘটনাটিও বেশ আকর্ষণীয়। আলেক্সান্দ্রিয়ায় রাজপ্রাসাদে সিজারের পাহারায় ছিল কিওপেট্রার স্বামী-ভাইয়ের বাহিনী। ফলে সেখানে নিজের  পরিচয়  প্রকাশ করে সিজারের কাছে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনাও ছিল না। তাই কৌশল গ্রহণ করলেন। এক দিন এক ব্যবসায়ীকে হাত করলেন। ব্যবসায়ী  সিজারের সামনে রোল করা কয়েকটি কার্পেট প্রদর্শনের জন্য আনলেন । সেগুলি  একে একে খোলা হলো সিজারের সামনে। সেগুলোরই একটির ভেতর থেকে নাটকীয়ভাবে বেরিয়ে এলেন ক্লিওপেট্রা। তার বুদ্ধিমত্তা আর সৌন্দর্যে ভেসে গেলেন রোমান সম্রাট।
কী ঘটতে যাচ্ছে টলেমি ত্রয়োদশ  ঠিকই বুঝতে পারলেন এবং তিনি নগরবাসীকে বোঝানোর  চেষ্টা করলেন। কিন্তু  ব্যর্থ হলেন। পরিণতিতে তাকে নীল নদে ডুবিয়ে দেয়া হলো।

অবশ্য এই ঘটনার অনেক  আগে থেকেই মিশরের  ব্যাপারে রোমান শাসকেরা নাক গলাতে শুরু করেছিল। কিওপেট্রার পিতা রোম সম্রাটের সাহায্যে রাজ্ ক্ষমতা  পুনর্দখল করেছিলেন।
অনেকের মতে, সিজার চেয়েছিলেন ক্লিওপেট্রাকে মিশরে  রোমের বশংদর  হিসেবে রাখতে। সমঝোতা হিসেবে কিওপেট্রা তার অপর ভাই টলেমি চতুর্দশকে (এই সময় তার বয়স ছিল 11 বছর) বিয়ে করেন (তা স্থায়ী হয়েছিল 47-44 খ্রিষ্টপূর্ব পর্যন্ত)। এই বিয়েটা হয়েছিল আলেক্সান্দ্রিয়াবাসী ও মিসরের পুরোহিতদের খুশি রাখতে। কারণ বিয়ে করা  সত্ত্বেও একই সাথে তিনি সিজারের 15 দিন মিশরে  অবস্থানকালে তার প্রেমিকা হিসেবেও বহাল থাকেন।

চাঁদনি রাতে বজরায় করে দুইজনে নীলনদে ভেসে বেড়ান। সিজারের এক পুত্রসন্তানের জন্মও দেন ক্লিওপেট্রা । তার নাম রাখা হয় সিজারিয়ান (ছোট সিজার বা টলেমি সিজার)। সে-ই ছিল সিজারের একমাত্র পুত্র।
রোমে অবস্থিত সিজারের স্ত্রীর কোনো পুত্রসন্তান ছিল না। পরে এই সিজারিয়ানের সাথে কিওপেট্রা আবার মিশরের  রাজক্ষমতা  পরিচালনা করেন (খ্রিষ্টপূর্ব 44-30)।
পম্পেই এবং অন্যান্য শত্রূ দমন  করতে সিজারের কয়েক বছর কেটে যায়। তবে দু’জনের মধ্যে সুসম্পর্ক ছিল। কিওপেট্রা প্রায়ই সিজারের সাথে সাক্ষাৎ  করতে যেতেন। আসলে তিনি রোমান শাসকদের সাথে সুসম্পর্ক রেখেই মিশরের  স্বাধীনতা বজায় রাখতে চাইতেন। খ্রিষ্টপূর্ব 46 সালে সিজারের অনুরোধে ক্লিওপেট্রা পুত্র এবং তার স্বামী-ভাইকে নিয়ে রোমেও যান তার জয়োল্লাস
প্রত্যক্ষ  করতে।

ক্লিওপেট্রা রোমে পৌঁছলে  সিজার কিওপেট্রাকে অত্যন্ত সম্মানিত আসন দান করেন। এমনকি ভেনাসের মন্দিরে ক্লিওপেট্রার একটি স্বর্ণমূর্তিও স্থাপন করেন । তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করেন, সিজারিয়ান তার ছেলে।
 কিন্তু এসব কিছু রোমানদের ভালো লাগেনি। এমনকি তারা মনে করতে থাকে সিজার হয়তো ক্লিওপেট্রাকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন, যদিও রোমান আইনে একই সাথে দুই স্ত্রী রাখা কিংবা বিদেশিনী বিয়ে করা নিষিদ্ধ। তা ছাড়া জুলিয়াস সিজার রাজধানী আলেক্সান্দ্রিয়ায় সরিয়ে নিতে চান বলেও
গুজব ছড়ানো হয়। খ্রিষ্টপূর্ব 44 সালে তার রোমে অবস্থানের সময়েই সিনেট ভবনের বাইরে সিজার সিনেটরদের হাতে নিহত হন মাত্র 55 বছর বয়সে। সিজারের আকস্মিক মৃত্যুতে ক্লিওপেট্রার
নিরঙ্কুশ ক্ষমতা  লাভের প্রথম প্রয়াস ব্যর্থ হয়। কারণ সিজার ক্লিওপেট্রা কিংবা সিজারিয়ানকে তার উত্তরসূরি মনোনীত করে যেতে পারেননি।
ক্লিওপেট্রা বাধ্য হয়ে মিশরে  ফিরে আসেন। এবং  রোমান রাজনীতিতে তিনি নিরপেক্ষ থাকার নীতি অবলম্বন করেন। তবে রোমান রাজনীতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছিলেন।
তিনি পরিকল্পনা করেছিলেন, যে-ই চূড়ান্তভাবে জয়ী হবে, তিনি থাকবেন তার পাশে। অযথা কাউকে শত্রূ  বানিয়ে লাভ কী!

পরবর্তী সুযোগের জন্য তিনি অপোয় থাকলেন। যা-ই হোক, দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হয়
খ্রিষ্টপূর্ব 42 সালে। প্রতিদ্বন্দ্বী অল্প বয়স্ক গেয়াস অক্টাভিয়াসকে বেকায়দায় রেখে এ সময়
মার্ক অ্যান্টনি হন রোমের শাসক। অ্যান্টনির সাথে ক্লিওপেট্রার আগেই সামান্য পরিচিতি ছিল। ক্লিওপেট্রা আবার পরিকল্পনা করেন, রোমান শক্তি দিয়েই রোমকে রুখতে হবে।
রোমের শাসন ক্ষমতা  পেয়েই অ্যান্টনি অন্যান্য রোমান জেনারেলের মতো পারস্য অভিযান শুরুর উদ্যোগ নেন।এই  সুযোগটি নিলেন ক্লিওপেট্রা। অ্যান্টনি ছিলেন বিবাহিত। তার স্ত্রী ফুলভিয়া ইতালিতে অবস্থান করে স্বামীর প্রতিদ্বন্দ্বীদের নানাভাবে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ক্লিওপেট্রার ছলাকলায় মুগ্ধ হয়ে সব কিছু ভুলে গেলেন অ্যান্টনি। ক্লিওপেট্রা নিজে উদ্যোগী হয়ে জাঁকজমকভাবে এশিয়া মাইনরের টারসাসে তার কাছে যান। একজন পরাক্রমশালী জেনারেল হওয়া সত্ত্বেও অ্যান্টনি ছিলেন উচ্ছৃঙ্খল, আসঙ্গলিপ্সু এবং ছটফটে চরিত্রের মানুষ। কিওপেট্রা এই দিকটি জেনে নিলেন এবং নিজের স্বার্থে তা ভালোভাবেই কাজে লাগালেন। নিজের ক্ষমতায়  তিনি ছিলেন যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
এ সময় তার বয়স ছিল 28 কি 29 বছর। সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে নৌকা বইয়ে  রুপার পাতে মোড়া নৌকার গলুই, মুক্তা ও রত্নরাজিতে পাল সাজিয়ে প্রেমের দেবী আফ্রোদিতির সাজে আধশোয়া ক্লিওপেট্রাকে যখন মার্ক অ্যান্টনির কাছাকাছি পৌঁছালেন, বলাবাহুল্য, অ্যান্টনি নিজেকে সংবরণ করতে পারেননি। রোম সম্রাট অ্যান্টনি পারস্য অভিযান বাদ দিয়ে কিওপেট্রার ‘কেনা গোলাম’ হিসেবে তার সাথে আলেক্সান্দ্রিয়ায় (মিসরের তদান্তীন রাজধানী) যান। ক্লিওপেট্রা অ্যান্টনিকে বশে বা ভুলিয়ে রাখার জন্য সম্ভব সব কিছু করেন। ক্লিওপেট্রার মোহে বন্দী রোমান সম্রাট অ্যান্টনি ঘোষণা করেন, মিশর  রোমের করদরাজ্য নয়, বরং মিশর  স্বাধীন একটি দেশ আর কিওপেট্রা এ দেশের রানী।

বেশ কিছু দিন তারা একত্রে প্রেমের জোয়ারে ভাসতে থাকেন । খ্রিষ্টপূর্ব 40 সালে তিনি রোমে তার অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী অক্টাভিয়াসের সাথে বোঝাপড়া করার উদ্যোগ নেন। এই উদ্যোগ সাময়িকভাবে সফল হয়। সমঝোতা হিসেবে অ্যান্টনি প্রতিদ্বন্দ্বী অক্টাভিয়াসের (পরে সম্রাট অগাস্টাস হিসেবে পরিচিত) বিধবা বোন অক্টাভিয়াকে বিয়ে করেন (এর কিছু দিন আগে তার আগের স্ত্রী ফুলভিয়া মারা গিয়েছিল)। সুন্দরী ও বুদ্ধিমতী হওয়া সত্ত্বেও অক্টাভিয়ার দুর্ভাগ্য, তার সন্তান হয় কন্যা। পুত্র হলে ইতিহাস অন্য হতে পারত। যা-ই হোক, তিনি তিন বছরের মধ্যে বুঝতে পারলেন, অক্টাভিয়াসের সাথে তার সম্প্রীতি টিকবে না। তাই বিকল্প ভাবতে থাকলেন। এ সময় কিওপেট্রাও চুপচাপ বসে ছিলেন না। তিনিও আরেকটি খেলায় মেতে উঠেছিলেন। তিনি রোমের আরেকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হেরোডকে বশ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতে সফল হননি।
এ দিকে ক্লিওপেট্রার জন্য অ্যান্টনির মন উতলা হয়ে ওঠে। তাই তিনি মিশরে  কিওপেট্রার সান্নিধ্যে চলে আসেন। খ্রিষ্টপূর্ব 36 সালে তারা বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন। এটি ছিল একটি চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী ঘটনা। ইতোমধ্যে জন্ম নেও য়া কিওপেট্রার দুই জমজ সন্তানকে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে অ্যান্টনি স্বীকৃতি দেন। এটা এক দিকে অক্টাভিয়াস ও তার বোন অক্টাভিয়ার জন্য ছিল একটি অত্যন্ত অসম্মানজনক আঘাত। আবার রোমান আইন অনুযায়ী এই বিয়ে ছিল অবৈধ। তাই পুরো রোম অক্টাভিয়াসের সাথে একজোট হয়। তারা ঐক্যবদ্ধভাবে অ্যান্টনিকে দমন করতে অগ্রসর হয়। অক্টাভিয়াস-অ্যান্টনি যুদ্ধ অপরিহার্য হয়ে ওঠে। অ্যান্টনিও 31 সালে অক্টাভিয়াকে চূড়ান্তভাবে তালাক দেন।
তবে ক্লিওপেট্রাকে খুশি করতে এবং সেই সাথে আলেক্সান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন সাম্রাজ্য গড়ার দিকেও অ্যান্টনি নজর দেন। 34 সালে তিনি মিশর , সাইপ্রাস, ক্রিট, সিরিয়ার শাসক্ষমতা কিওপেট্রাকে দান করেন। কিন্তু বেশি দিন শান্তিপূর্ণভাবে এই ক্ষমতা  ভোগ করতে পারেননি।
খ্রিষ্টপূর্ব 32-31 সালে অ্যান্টনি-ক্লিওপেট্রা প্রতিকূলতার মধ্যেও গ্রিসে অবস্থান করেন। এ দিকে অক্টাভিয়ান অ্যান্টনিকে হারিয়ে রোমের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা  পেতে সর্বাত্মক প্রয়াস শুরু করেন। অক্টাভিয়ান খ্রিষ্টপূর্ব 31 সালে চূড়ান্ত অভিযান চালনা করেন। গ্রিসের দক্ষিন উপকূলে অনুষ্ঠিত হয় এই যুদ্ধ। অ্যান্টনি ছিলেন স্থলযুদ্ধে পারদর্শী। কিন্তু কিওপেট্রার পরামর্শেই তিনি নাকি নৌযুদ্ধে নেমেছিলেন। নৌযুদ্ধের অত্যন্ত সন্ধিক্ষণে  কিওপেট্রা হঠাৎ করেই তার বাহিনী প্রত্যাহার করে নেন। কেন তিনি এই বাহিনী সরিয়ে নিয়েছিলেন, তা নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে এর ফলে যুদ্ধে অ্যান্টনি পরাজিত হয়ে যুদ্ধত্রে থেকে পালিয়ে আসে। এই যুদ্ধের মাধ্যমে অক্টাভিয়ান রোমের সম্রাট হন।
আর অ্যান্টনির সব ক্ষমতা  শেষ হয়ে যায়। সেই সাথে ক্লিওপেট্রার কাছে অ্যান্টনি মূল্যহীন হয়ে পড়লেন। ক্লিওপেট্রাও নতুন চাল শুরু করেন। এবার তার সব পরিকল্পনা রচিত হতে থাকে অক্টাভিয়াসকে তার মায়াজালে বন্দী করতে। কিন্তু এখানেই তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি করেন। পরিণতিতে তিনি জীবন পর্যন্ত খোয়ান।
তিনি বুঝতে পারলেন, অক্টাভিয়াসকে হাত করতে হলে অ্যান্টনিকে বাদ দিতে হবে। অথচ অ্যান্টনিকে হত্যা করার বা মিসর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার কোনো ক্ষমতা  তখন তার নেই। তাই সে যাতে আত্মহত্যা করতে উদ্বুদ্ধ হয় তিনি সেই পথ বের করলেন। ভাবলেন, এতে অনায়াসেই তিনি তার স্বার্থ হাসিল করতে সক্ষম  হবেন। কিওপেট্রা এক দিন নিজের সুরতি মন্দিরে অবস্থান নিয়ে প্রচার করে দেন, তিনি আত্মহত্যা করেছেন। ক্লিওপেট্রার মৃত্যুর খবর পেয়ে অ্যান্টনির বেঁচে থাকার সব ইচ্ছা হারিয়ে ফেলেন। তিনি তার তরবারি নিজের বুকে বিদ্ধ করেন। কিন্তু পরক্ষণেই  তিনি বুঝতে পারলেন, তিনি ভুল শুনেছেন বা তাকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। কিন্তু ততণে তার পরপারের ডাক চলে এসেছে। তবে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে কিওপেট্রার কাছে নেয়া হয়। তিনি তার কোলেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
10 মাস পরে বিজয়ী অক্টাভিয়াস আলেক্সান্দ্রিয়ায় আসেন। এ সময় ক্লিওপেট্রা অক্টাভিয়াসকে সম্মোহিত করতে চাইলেন। আগে তিনি দু’বার দুই দোর্দণ্ড শক্তিশালী সম্রাটকে নিজের মায়াজালে মোহিত করে কব্জায় এনেছিলেন। কিন্তু তৃতীয়বার পুরোপুরি ব্যর্থ হন। তবে অক্টাভিয়াস চাইছিলেন, যেভাবেই হোক ক্লিওপেট্রাকে জীবিত ধরতে হবে। তাই তিনি তাকে নানা আশ্বাস দিচ্ছিলেন। অক্টাভিয়া নিজেও জানতেন, তিনি যদি কিওপেট্রার চোখের দিকে তাকান, তবে সাথে সাথে তার সব শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে। তাই তিনি কিওপেট্রার সাথে কথা বলার সময় সর্বক্ষণ  চোখ রেখেছিলেন মেঝের দিকে।
তাই ক্লিওপেট্রা বুঝতে পারলেন এই রোমান সম্রাটকে বশ করা যাবে না। তার মনে হলো অক্টাভিয়াস বুঝি তাকে লাঞ্ছিত করবে। হয়তো মিশর  বা রোমের রাজপথে যুদ্ধলব্ধ সামগ্রী হিসেবে তাকে ও তার সন্তানদের লোহার শিকল পরিয়ে প্রদর্শন করবে। এটা মেনে নিতে পারছিলেন না তিনি।
অপমানের আশঙ্কায় তিনি ভেঙে পড়েন। এই অপমানের চেয়ে মৃত্যুই তার কাছে শ্রেয় মনে হলো। তাই তদানীন্তন রাজকীয় প্রথা হিসেবে বিষধর এক বিশেষ ধরনের সাপের (অ্যাস্প্ নামের এই সাপ হয় মাত্র কয়েক ইঞ্চি লম্বা, অথচ তাদের বিষ মারাত্মক। ডুমুরের ঝুড়িতে করে বিশেষ ব্যবস্থায় আনা হয়েছিল সাপ দু’টি) ছোবলে আত্মহত্যা করেন। ওই সময়ে মিসরে মনে করা হতো সাপের কামড়ে মারা যাওয়া মানুষ অমরত্ব লাভ করে। তাই কিওপেট্রা ওই পথই বেছে নিলেন।
দিনটি ছিল খ্রিষ্টপূর্ব 30 সালের 30 আগস্ট। অ্যান্টনি ও কিওপেট্রা দু’জনকেই রোমে সমাহিত করা হয়। 39 বছরের জীবনে তিনি 22 বছর রানী এবং 11 বছর অ্যান্টনির সাথী ছিলেন।
অতএব এহেন বুদ্ধিমতী ও আত্ম বিশ্বাসী নারীকে কোন ভাবেই  যৌন বিকৃতিগ্রস্ত মহিলা হিসেবে  চিহ্নিত করা যায় না। কারণ সিজার ও অ্যান্টনি ছাড়া অন্য কোনো পুরুষকে দেখা যায় না তার প্রেমিক হিসেবে। তা ছাড়া তিনি তাদের দু’জনকেও একসাথে কাছে টানেননি।
অনেকে মনে করেন, তার উচ্চাভিলাষ কিছুটা কম হলে তিনি আরো অনেক বেশি ক্ষমতা  পেতেন এবং তা বেশি দিন উপভোগ করতে পারতেন। নারী হয়েও পুরুষের একচ্ছত্র প্রাধান্য স্বীকার করেননি। সাম্রাজ্যবাদকেও মেনে নেননি। তিনি রাজকন্যা হিসেবে জন্মেছিলেন, মারা যান রানী হিসেবে।
বোধহয় সেই কারণেই সেই প্রাচীন কাল থেকে আজ মনে রেখেছে ক্লিওপেট্রাকে।
তবে প্রেমিকা, ক্ষমতালিপ্সু নাকি খলনায়িকা কোনটায় তিনি বড় ছিলেন  তা নিয়ে বিতর্ক
থাকতেই পারে।
===============================

ক্লিওপেট্রা
---------------

মিসর সম্রাজ্ঞী, যিনি শ্বেতাঙ্গিনী নাকি কৃষ্ণাঙ্গ
কৃষ্ণাঙ্গিনী সেটা জানা নাগেলেও তিনি নিজ গুনে হয়েছিলেন  ছিলেন প্রাচ্যের প্রতিনিধি,
এক ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব ক্লিওপেট্রা।
রহস্যাবৃতা, অপরূপ সৌন্দর্যের অধিকারিণী, চিরন্তন মোহিনী এমনটা কি ছিলেন তিনি?
সেটাও জনানাই।
তাসে যেমনি হোক কেন দুই হাজার
বছরেরও বেশি সময় ধরে দশম শতাব্দীর এই রানীকে নিয়ে পৃথিবীর মাতামতি কমেনি বরং বেড়েছে। তাঁর নাম ও কল্পিত রূপ সৌন্দর্যকে ব্যবহার করে আজও কত ব্যবসা চলছে।
 যেমন প্রসাধন ও অলঙ্কার।
আবার কত কালজয়ী সব চলচ্চিত্র অথবা নাটকের উপজীব্য বিষয়। কিন্তু এর সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেছে তাঁর প্রতি মানুষের মুগ্ধতা ও ভালোবাসা। তাঁকে নিয়ে আপল্গুত হয়েছেন বিশ্বে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মনীষী, শিল্পী ও সাহিত্যিকরা।
ক্লিওপেট্রা অসাধারণ ছিলেন তার ব্যক্তিত্বে ও মোহিনী শক্তিতেও।মিসরের ঐতিহাসিকরা বলেন_ ক্লিওপেট্রা চিকিৎসাশাস্ত্র, অ্যালকেমি প্রভৃতির ওপর বই লিখেছিলেন এবং জনদরদিও ছিলেন। তিনি খুব সহজেই হিব্রু, আরবি, সিরিয়ান, ইথিওপিয়ান প্রভৃতি কম করে আট-নয়টি ভাষায় কথা বলতে পারতেন।
যিশু খ্রিস্টের জন্মের আগের নারী হলেও বিশ্বজুড়ে আজোও তাকে নিয়ে কৌতূহলের কোনো কমতি নেই ।

                       <--©--●আদ্যনাথ●--->
                     【--anrc-18/04/2019--】
                        【=রাত্রি :03:20:20=】
                   【=তেঘড়িয়া=কোলকাতা -59=】
                                          ============================



ক্লিওপেট্রা-------
         <--------আদ্যনাথ------->

মিশর ঘুরে এসেছি একবৎসর হয়ে গেছে ,
কিন্তু মিশর ভ্রমনের দিনগুলি আজ বার বার মনকে নাড়া দেয়।
মিশরের সকল কিছুই তো ইতিহাস।
সে ইতিহাসের মধ্যেও খুঁজে পাই কত রোমান্স, প্রেম, ভালোবাসার কত ছলনা,
প্রতারণা।
এমনি সকল কিছুর মধ্যে রহস্যময়ী সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রার চরিত্র ও তার পেরমের কাহিনী, সকল কিছুই আজও
রহস্যে ঢাকা।

আজ আমরা সহজেই বলতে পারি যে ক্লিওপেট্রা এমন একটি চরিত্রের নাম যিনি সমগ্র বিশ্বে  প্রথম ‘সেলিব্রিটি'  হিসাবে পরিচিত।
 তিনি ছিলেন রহস্যময়ী সম্রাজ্ঞী ।
সেই  রহস্যময়ী ক্লিওপেট্রার সমাধির খোঁজ মেলেনি আজও।

ইতিহাসে যার সৌন্দর্য ও আকর্ষনের গল্প
সকলি আজ  মিথের পর্যায় পরিবেশিত ।
যা কিনা স্বয়ং শেক্সপিয়রকেও মোহিত করেছে, সেই আকর্ষণ ।
এত কিছু সত্বেও আজও তাঁর কবরের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
বলতে গেলে, আজ একথা সহজেই বলা চলে যে ক্লিওপেট্রার মৃত্যুর সঙ্গেই শেষ হয় মিশর সভ্যতার বহমান ধারা।
তাঁর এত ধন দৌলত, সেসবেরও কোন খোঁজ পাওয়া যায় নি। অনেকেই বিশ্বাস করেন, হয়ত ক্লিওপেট্রার  সমাধির সঙ্গেই রয়েছে তাঁর সেই বিপুল সম্পত্তি ।
নীল নদের অববাহিকা ও ইজিপ্টের নানা জায়গায় ঐতিহাসিকরা নিপুন ভাবে খোঁজ করেছেন।
এমন কি সেই টোম্ব অফ ক্লিওপেট্রা,  বলা হয় যেখানে জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছিলেন রানি, সেখানেও বিস্তর খোঁজ করা হয়। সেই সময়ের রোমান লেখা, মিশরীয় প্যাপিরাস যা কিছু এখনও অবধি পাওয়া গেছে সকল কিছু তন্নতন্ন করে খোঁজা হয়েছে, কিন্তু কোন হাদীসই পাওয়া যায়নি
রহস্যময়ী ক্লিওপেট্রার সমাধি ও তাঁর ধন সম্পত্তির।

ঐতিহাসিকরা এই হারিয়ে যাওয়া ‘হাই প্রোফাইল’ সমাধির একটি নামও দিয়েছেন;
"টোম্ব অফ অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা।"
আরও বিশেষ খবর এমনটাই যে এই
"টোম্ব অফ অ্যান্টনি অ্যান্ড ক্লিওপেট্রা।" নিয়ে একটি ভিত্তিও তৈরি করেছেন তাঁরা।

প্লুটার্ক, সুয়েটোনিয়াস প্রমুখ রোমান ঐতিহাসিক যারা ওই সময়ের একটা বর্ণনা রেখে গেছিলেন, তাঁরা বলেছিলেন অগাস্টাস নিজে নির্দেশ দিয়েছিলেন দুজনকে একসঙ্গে সমাধি দেওয়ার। সেখান থেকেই এই টোম্বের উৎপত্তি।
কিন্তু কোথাও পাওয়া যায় নি সেই
সমাধি খোঁজ।

ঐতিহাসিকদের আরও একটি সন্দেহ,
এই সমাধিক্ষেত্রটি হয়তো জলের তলায় চলে গেছে। প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়া নগর, যেটা ক্লিওপেট্রার রাজধানী ছিল, সেটি এখন সমুদ্রের ২০ ফুট নিচে। সেই ধংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গেলেও, ওখানে সমাধি খোঁজার প্রক্রিয়া সেভাবে শুরু হয়নি। হয়তো সেখানেই লুকিয়ে আছেন সেই রহস্যময়ী রানি। পাশেই শুয়ে আছেন তাঁর প্রেমিক। সমস্ত কোলাহল থেকে দূরে এসে, একসঙ্গে খানিক নিরালাতেই কাটছে মৃত্যু পরবর্তী জীবন। শেক্সপিয়রের ভাষায়-
“She shall be buried by her Antony:
No grave upon the earth shall clip in it A pair so famous.”
( মূল তথ্যটি সংগ্রহ  বাকি টুকু কাল্পনিক)
            02/05/2020
=======================

ক্লিওপেট্রা==

মিশরের অধিবাসী না হয়েও মিশরের সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী নারী ক্লিওপেট্রা মাত্র 17 বছর বয়সে মিশরের সর্বোচ্চ ক্ষমতাবান রানী হয়েছিলেন। তিনি
শরীরবিদ্যা, রাষ্ট্রনীতি,অর্থনীতি  প্রাণিবিদ্যা, রসায়ন বিদ্যা,ইতিহাস, ভূগোল
প্রভৃতি বিদ্যা সহ  9টি ভাষা তাঁর  জানাছিল। 
এইসকল কারণেই নিঃসন্দেহে তিনি প্রভাবশালী, ক্ষমতা সম্পন্ন রানীছিলেন
তাতে কোন সন্দেহ নাই।
মাত্র 22 বছর রাজত্ব করার পর তিনি মারা যান কিন্তু তার মৃত্যু আজও রহস্যময়।

ক্ষমতার লোভে নিজের ভাইকে বিয়ে করেন এই সম্রাজ্ঞী এবং তাঁকে নদীর জলে ডুবিয়েও মারেন।

ক্লিওপেট্রা মাত্র 18 বৎসর বয়সে তার পিতাকে হারান।
পিতার মৃত্যুর সময়ে কিশোরী ক্লিওপেট্রা  তার দুই ভাই তারাও কিশোর ছিলেন।
এ হেন অবস্থায় বাবার মৃত্যুশোক কাটিয়ে ক্লিওপেট্রা 18 বছর বয়সেই সিংহাসনের লোভে তার 2 ভাইকেই বিয়ে করেন।
ভাই বোনের বিবাহ মিশরীয় সমাজের এক রীতি ছিলো।
সেই সময়ের মিশর রাজ পরিবার বিশ্বাস করত তাদের পরিবার দেবতার আশীর্বাদ ধন্য। মূলতঃ রাজরক্ত যাতে পবিত্র থাকে সেজন্য রাজ পরিবারে নিজেদের ভাই বোনের মধ্যে বিবাহের রীতি চালু ছিল।

ক্লিওপেট্রা নিজের 2 ভাইকে বিবাহ করে সিংহাসনে নিজের দাবি সুনিশ্চিত করার পরেই  এক ভাই তথা পতি ক্লিওপেট্রকে  সিংহাসনের দাবি থেকে সরিয়ে দেন। 
ফলে সম্রাজ্ঞী প্রতিশোধের আগুনে জ্বলে
হাত মেলান জুলিয়াস সিজারের সঙ্গে।
এবং তিনি তার স্বামী তথা ভাইএর সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রার কাছে যুদ্ধে হেরে যান তার ভাই।

ক্লিওপেট্রা তার স্বামী তথা ভাই কে  নীল নদের জলে ডুবিয়ে হত্যা করেন।
এভাবেই তিনি  হয়ে ওঠেন মিশরের বিখ্যাত সম্রাজ্ঞী।
জানাজায়  ক্লিওপেট্রা  নিজের সৌন্দর্যকে ব্যবহার করে অনেক শক্তিশালী রাজাকে সেই সময় এক এক করে বশবর্তী করেছিলেন এবং তাদের কাছ থেকে রাষ্ট্র সংক্রান্ত অনেক গোপন তথ্যও নিজেকে ব্যবহার করে আদায় করে নিতেন। 
ঠিক এভাবেই তিনি এন্টনি নামক সিজারের এক সেনানায়কের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং নিজের সঙ্গে মিশরের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছিলেন।

বলা হয় ক্লিওপেট্রা মিশরের সিংহাসন লাভের পেছনে তার বিশেষ কিছু উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য পূরণের চাহিদা ছিল।
পরবর্তী সময়ে সেই লক্ষ্য পরিপূরণ হয়ে যাওয়ার পরেই তিনি সর্পাঘাতে মারা যান।
যদিও সম্রাজ্ঞী ক্লিওপেট্রার মৃত্যু আজও রহস্যময়।
তার মৃত্যুর পর রোম এবং মিশরে
প্রবলভাবে খ্রিস্টধর্মের অদ্ভুথ্যান চালু হয়ে যায়।
===================================

             




Comments

Popular posts from this blog

618> || এক জন্ম দিন ||

626>||--দাদু ভাই--||

627>এক বর্ষার রাত::-