610>|| | নারী শক্তি।। (ছোট গল্প)
610>|| নারী শক্তি।। (ছোট গল্প) ||
<-----আদ্যনাথ--->
<-----আদ্যনাথ--->
আমর খুবই কাছের মানুষ কিশানু ভেগড, বিশেষ ধনি মানুষ যার ছিল অগাধ সম্পত্তি, বিশাল বাড়ি,গাড়ি।অর্থ লোভী ধনকুবের বললেই হয়তো ঠিক বলা হবে।
তার কাছে জীবনের অর্থ মানে ছিল অর্থ আর ধণ উপার্জন।
ইচ্ছা ছিল অর্থ দিয়ে কিনবে পৃথিবীর সকল সুখ । অর্থ ছাড়া কিছুই করেন নি চিন্তা।
জীবনের সুখ, শান্তি,যাই বলো তার কাছে সকলের থেকে মূল্যবান অর্থ।
আমরা বার বার যেতাম তার কাছে। নানান অর্থ সাহায্য চাইতে।
যদিও তিনি আমাকে ভীষণ ভালো বাসতেন, তার বাড়ির বা তার নিজের কোন সমস্যা হলেই
আমাকে ডাকতেন,আমার পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করতেন।
ওনার চেম্বারে বসে দেখতাম,যখনই কেউ আসতেন কোন অর্থ সাহায্য চাইতে তা কোন মঠ বা মিশন ই হোক বা দেশের কোন আপদ কালেই হোক। তিনি দৃঢ় ভাবে প্রত্যাখান করে তাড়িয়ে দিতেন।
তবে হ্যা তার বাড়ি থেকে কোনদিন কেউ খালি হাতে ফিরতেন না।
কারণ ওনার স্ত্রী, যিনি সত্যই মহা পূণ্য বতী ও বুদ্ধি মতি । উনি আমাদের সকল আবদার হাসি মুখে মেনে নিতেন, এবং যে কোন শুভ কাজে বা দরিদ্রের সহায়তায় উনি সঠিক মনে করলে সাধ্য মতন সাহায্য করতে কুন্ঠা বোধ করতেন না।
এইতো সেই সুনামির পরে ওনার স্ত্রী দশ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন আর্ত গণের সহায়তায়।
ভেগড জী জানতে পারলে নিশ্চই আফসোস করতেন।
কিন্তু ওনার স্ত্রীর কথা হলো এই টাকা ওনার নিজের, ওনার বাবার দেওয়া।
ভদ্র মহিলার বাবা বড় বাজারের ব্যবসাহী। অনেক উদার ও দয়ালু মানুষ।
তবে একটি ঘটনা না বললেই নয় যে কথাটি ওনার স্ত্রী অনেকবার আমাদের শুনিয়েছেন। একদিন ভেগড জীর ছোট শালা ভেগড জীর বাগানে খেলতে গিয়ে বেশ খানিকটা কেটে গিয়েছিল। ভেগড জীর স্ত্রী তার ভাইকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবার জন্য ভেগডজীর নিকট টাকা চাইতে ভেগড জী অনেক কথা বোলে অনেক উপদেশ দিয়ে শেষে একশত টাকা দিয়েছিলেন। ওনার স্ত্রী আরও বেশি চাইলেও ভেগড জী কোনমতেই আর টাকা দেন নি।
বরঞ্চ উনি সেই একশত টাকারউল্লেখ করে বহু বৎসর পর্যন্ত নিজেকে জাহির করতেন এবং ওই একশত টাকার হিসাব চেয়ে না পাওয়াতে স্ত্রী কে দোষী সাবস্ত করতেন এই বলে যে বাকি টাকা গুলি তার স্ত্রী হাতিয়ে নিয়ে শালাকে দিয়েছেন। প্রথম প্রথম ওনার স্ত্রী লজ্জা বোধ করে কান্না কাটি করতেন।
পরে ওনার স্ত্রী নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করে লজ্জায় চুপ থাকতেন।
আশা করি ভেগড জীর আর কোন পরিচয় দেবার কোন প্রয়োজন নাই। এর থেকে আর বেশি পরিচয় না দিয়ে আসল কথায় ফিরে যাই।
তার কাছে জীবনের অর্থ মানে ছিল অর্থ আর ধণ উপার্জন।
ইচ্ছা ছিল অর্থ দিয়ে কিনবে পৃথিবীর সকল সুখ । অর্থ ছাড়া কিছুই করেন নি চিন্তা।
জীবনের সুখ, শান্তি,যাই বলো তার কাছে সকলের থেকে মূল্যবান অর্থ।
আমরা বার বার যেতাম তার কাছে। নানান অর্থ সাহায্য চাইতে।
যদিও তিনি আমাকে ভীষণ ভালো বাসতেন, তার বাড়ির বা তার নিজের কোন সমস্যা হলেই
আমাকে ডাকতেন,আমার পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করতেন।
ওনার চেম্বারে বসে দেখতাম,যখনই কেউ আসতেন কোন অর্থ সাহায্য চাইতে তা কোন মঠ বা মিশন ই হোক বা দেশের কোন আপদ কালেই হোক। তিনি দৃঢ় ভাবে প্রত্যাখান করে তাড়িয়ে দিতেন।
তবে হ্যা তার বাড়ি থেকে কোনদিন কেউ খালি হাতে ফিরতেন না।
কারণ ওনার স্ত্রী, যিনি সত্যই মহা পূণ্য বতী ও বুদ্ধি মতি । উনি আমাদের সকল আবদার হাসি মুখে মেনে নিতেন, এবং যে কোন শুভ কাজে বা দরিদ্রের সহায়তায় উনি সঠিক মনে করলে সাধ্য মতন সাহায্য করতে কুন্ঠা বোধ করতেন না।
এইতো সেই সুনামির পরে ওনার স্ত্রী দশ লক্ষ টাকা দিয়েছিলেন আর্ত গণের সহায়তায়।
ভেগড জী জানতে পারলে নিশ্চই আফসোস করতেন।
কিন্তু ওনার স্ত্রীর কথা হলো এই টাকা ওনার নিজের, ওনার বাবার দেওয়া।
ভদ্র মহিলার বাবা বড় বাজারের ব্যবসাহী। অনেক উদার ও দয়ালু মানুষ।
তবে একটি ঘটনা না বললেই নয় যে কথাটি ওনার স্ত্রী অনেকবার আমাদের শুনিয়েছেন। একদিন ভেগড জীর ছোট শালা ভেগড জীর বাগানে খেলতে গিয়ে বেশ খানিকটা কেটে গিয়েছিল। ভেগড জীর স্ত্রী তার ভাইকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাবার জন্য ভেগডজীর নিকট টাকা চাইতে ভেগড জী অনেক কথা বোলে অনেক উপদেশ দিয়ে শেষে একশত টাকা দিয়েছিলেন। ওনার স্ত্রী আরও বেশি চাইলেও ভেগড জী কোনমতেই আর টাকা দেন নি।
বরঞ্চ উনি সেই একশত টাকারউল্লেখ করে বহু বৎসর পর্যন্ত নিজেকে জাহির করতেন এবং ওই একশত টাকার হিসাব চেয়ে না পাওয়াতে স্ত্রী কে দোষী সাবস্ত করতেন এই বলে যে বাকি টাকা গুলি তার স্ত্রী হাতিয়ে নিয়ে শালাকে দিয়েছেন। প্রথম প্রথম ওনার স্ত্রী লজ্জা বোধ করে কান্না কাটি করতেন।
পরে ওনার স্ত্রী নিজের ভাগ্যকে দোষারোপ করে লজ্জায় চুপ থাকতেন।
আশা করি ভেগড জীর আর কোন পরিচয় দেবার কোন প্রয়োজন নাই। এর থেকে আর বেশি পরিচয় না দিয়ে আসল কথায় ফিরে যাই।
এহেন ভেগড জী একদিন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন। হসপিটালে আইসিউ তে ভর্তি করা হল। ডাক্তারদের মত এটা তার থার্ড স্ট্রোক।
সেই ভেগডজী হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জীবন দায়ী মেশিন গুলি দেখে জীবনের প্রকৃত সত্যের উপলব্ধি করলেন।-------
তার নিজের কথাতেই বলছি বাকিটুকু।
সেই ভেগডজী হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জীবন দায়ী মেশিন গুলি দেখে জীবনের প্রকৃত সত্যের উপলব্ধি করলেন।-------
তার নিজের কথাতেই বলছি বাকিটুকু।
"জীবন দায়ী মেশিন গুলির মৃদু সংকেত যা প্রতিটি মুহূর্তে আমাকে জানান দিচ্ছে
আমি এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর দিকে। আমি একটু একটু করে এগিয়ে চলেছি জীবনের শেষ ক্ষণের দিকে।
এখন নিজের হৃদপিন্ডের সেই ধূপ ধূপ আওয়াজ, ক্রমে ম্লান হয়ে আসছে,মেশিনের মৃদু আওয়াজ ও তাদের সংকেত জানিয়ে দিচ্ছে জীবনের ক্ষণ অস্তিত্ব।
আমি এগিয়ে চলেছি মৃত্যুর দিকে। আমি একটু একটু করে এগিয়ে চলেছি জীবনের শেষ ক্ষণের দিকে।
এখন নিজের হৃদপিন্ডের সেই ধূপ ধূপ আওয়াজ, ক্রমে ম্লান হয়ে আসছে,মেশিনের মৃদু আওয়াজ ও তাদের সংকেত জানিয়ে দিচ্ছে জীবনের ক্ষণ অস্তিত্ব।
জীবন তো আমায় দিয়েছে অনেক সাথে শিখিয়েছেও অনেক ।
আমি, শুধু নাম, আর অর্থের চিন্তাতেই ছিলাম বিভোর। সমাজ সেবা যেটুকু করেছি সেখানেও ছিল নমে মনে, মান স্মমালের লোভ। জীবনে নাম আর অর্থ ছাড়া কিছুই ভাবিনি কোন দিন।
নিজের মনের আনন্দের জন্যও একটুও ভাবিনি কখনো, সময়ও পাইনি।
নিজের সুখ,পরিবারের সুখ এই সকল নিয়ে চিন্তা করার সময় ছিলনা আমার।
শুধু নাম কিনতে ও অর্থ রোজগার করতে গিয়ে সুখ ও শান্তির কথা মনে পড়েনি কোনদিন।
আমি, শুধু নাম, আর অর্থের চিন্তাতেই ছিলাম বিভোর। সমাজ সেবা যেটুকু করেছি সেখানেও ছিল নমে মনে, মান স্মমালের লোভ। জীবনে নাম আর অর্থ ছাড়া কিছুই ভাবিনি কোন দিন।
নিজের মনের আনন্দের জন্যও একটুও ভাবিনি কখনো, সময়ও পাইনি।
নিজের সুখ,পরিবারের সুখ এই সকল নিয়ে চিন্তা করার সময় ছিলনা আমার।
শুধু নাম কিনতে ও অর্থ রোজগার করতে গিয়ে সুখ ও শান্তির কথা মনে পড়েনি কোনদিন।
আজ সব অনর্থ মনে হয় জীবনটাই যেন বৃথা বোঝা বয়ে চলা।
আমি এক বিত্তবান কেবল রয়েগেল আমার এই এক পরিচয়।
কিন্তু আজ মৃত্যুর পারে দাঁড়িয়ে সকল কিছুই বৃথা মনে হয়।
আমি এক বিত্তবান কেবল রয়েগেল আমার এই এক পরিচয়।
কিন্তু আজ মৃত্যুর পারে দাঁড়িয়ে সকল কিছুই বৃথা মনে হয়।
আজ প্রতিটি সেকেন্ড প্রতি মুহূর্ত একটু একটু করে, মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছি।
পাশে রাখা সব জীবন রক্ষক মেশিন তাদের সবুজ লাইট গুলো জ্বলছে।
মেশিনের মৃদু শব্দ মনে করিয়ে দিচ্ছে মৃত্যু আমার সন্নিকটে। আজ বুঝতে পারছি জীবনে
যাকিছু উপার্জন করেছি, সফলতা পেয়েছি প্রতিটি পদে। কিন্তু আজ কিছুই নিতে যেতে পারবনা সাথে।
সব পরে রবে ।আজ সফলতা এইটুকুই যে বেডে শুয়ে আছি সেটি কেবল বিশেষ ধনীদের জন্য রক্ষিত
সাধারন মানুষ এই বেড পায় না। আজ আমার আত্মীয় স্বজন লোক লস্কর, ড্রাইভার, নোকর চাকর
পাশে রাখা সব জীবন রক্ষক মেশিন তাদের সবুজ লাইট গুলো জ্বলছে।
মেশিনের মৃদু শব্দ মনে করিয়ে দিচ্ছে মৃত্যু আমার সন্নিকটে। আজ বুঝতে পারছি জীবনে
যাকিছু উপার্জন করেছি, সফলতা পেয়েছি প্রতিটি পদে। কিন্তু আজ কিছুই নিতে যেতে পারবনা সাথে।
সব পরে রবে ।আজ সফলতা এইটুকুই যে বেডে শুয়ে আছি সেটি কেবল বিশেষ ধনীদের জন্য রক্ষিত
সাধারন মানুষ এই বেড পায় না। আজ আমার আত্মীয় স্বজন লোক লস্কর, ড্রাইভার, নোকর চাকর
সকলেই আছে।কিন্তু আমার অসুখের ভাগি কেউ নয়। আমার টাকা পয়সার অভাব নাই।
তবুও কেউ আমাকে নুতন জীবন দিতে পারবেনা । আমার অহঙ্কার ছিল টাকা দিয়ে সকল কিছুই সম্ভব
কিন্তু আজ বুঝতে পারছি আমার চিন্তাই ছিল ভুল। টাকা দিয়ে সবকিছু হলেও
সময় কে কেনা যায়না, জীবনকে এক মুহূর্তের জন্যও ফিরে পাওয়া যায় না।
আজও আমার আছে অজস্র টাকা, আজ আমর কাছে এটিএম, পেটিএম, ক্রেডিড, বেভিড,কার্ড
সব আছে। চাইলে যেকোন ব্যাংক এখুনি ক্রোড় ক্রোড় টাকা ধার দেবে,এক ঘণ্টার মধ্যে।
তবে আর কি চাই টাকা যতচাই ততই পাবো ।
কিন্তু এইযে আমার এমন সময়ে আমার নিজের কেউ নাই কাছে। এক গ্লাস জল খেতে গেলেও
ডাক্তারের আদেশ চাই। তাও নিজের কেউ একটু জলও দিতে পারবেনা।
আজ আমি বরই একা।"
আমরা বললাম, কেন এইযে আমরা আছি। নিচে আপনার স্ত্রী,ছেলে মেয়ে আত্মীয় স্বজন সকলেই আছে।কে বলে কেউ নেই কাছে।
তবুও কেউ আমাকে নুতন জীবন দিতে পারবেনা । আমার অহঙ্কার ছিল টাকা দিয়ে সকল কিছুই সম্ভব
কিন্তু আজ বুঝতে পারছি আমার চিন্তাই ছিল ভুল। টাকা দিয়ে সবকিছু হলেও
সময় কে কেনা যায়না, জীবনকে এক মুহূর্তের জন্যও ফিরে পাওয়া যায় না।
আজও আমার আছে অজস্র টাকা, আজ আমর কাছে এটিএম, পেটিএম, ক্রেডিড, বেভিড,কার্ড
সব আছে। চাইলে যেকোন ব্যাংক এখুনি ক্রোড় ক্রোড় টাকা ধার দেবে,এক ঘণ্টার মধ্যে।
তবে আর কি চাই টাকা যতচাই ততই পাবো ।
কিন্তু এইযে আমার এমন সময়ে আমার নিজের কেউ নাই কাছে। এক গ্লাস জল খেতে গেলেও
ডাক্তারের আদেশ চাই। তাও নিজের কেউ একটু জলও দিতে পারবেনা।
আজ আমি বরই একা।"
আমরা বললাম, কেন এইযে আমরা আছি। নিচে আপনার স্ত্রী,ছেলে মেয়ে আত্মীয় স্বজন সকলেই আছে।কে বলে কেউ নেই কাছে।
"জানি আজ বুঝতে পারছি আছে সকলে কিন্তু সকলের এক চিন্তা। আমার টাকা পয়সা, সম্পত্তির
ভাগ কে কেমন পাবে। দেখুন গিয়ে এইনিয়ে ওদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছে। আমি যে অসুস্থ তার চিন্তা কারুর নাই।
আপনারা আছেন কাছে , কারণ আপনাদের কোন স্বার্থ নাই, তাই আপনারা আছেন।
কতবার কত কুকথা বলে তাড়িয়ে দিয়েছি আপনাদের। জীবনে কাউকে কোন সাহায্য করিনি।
তাই কারুর কাছে সাহায্য চাই কিকরে। দেখুন আমার এতো কষ্টের উপার্জন, যা ভাগ করেনেবার জন্য ওরা শকুনের মতন মারামারি করছে, ওরা তো পাবেই, তাও ওরা লড়ছে নিজেদের মধ্যে।
কারণ কত সহজে ওরা রাতারাতি ধনী হয়ে যাবে। ফলে অযথায় সব খরচ করবে। কেউ হয়তো ঐ টাকা হাতে পেয়ে বিপথে যাবে। আজ আমি বুজতে পারছি যে টাকা কতোটা অনর্থের কারণ।
আর সেই টাকা উপার্জন করতে নিজের সব সুখ আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করেছি।
ভাগ কে কেমন পাবে। দেখুন গিয়ে এইনিয়ে ওদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছে। আমি যে অসুস্থ তার চিন্তা কারুর নাই।
আপনারা আছেন কাছে , কারণ আপনাদের কোন স্বার্থ নাই, তাই আপনারা আছেন।
কতবার কত কুকথা বলে তাড়িয়ে দিয়েছি আপনাদের। জীবনে কাউকে কোন সাহায্য করিনি।
তাই কারুর কাছে সাহায্য চাই কিকরে। দেখুন আমার এতো কষ্টের উপার্জন, যা ভাগ করেনেবার জন্য ওরা শকুনের মতন মারামারি করছে, ওরা তো পাবেই, তাও ওরা লড়ছে নিজেদের মধ্যে।
কারণ কত সহজে ওরা রাতারাতি ধনী হয়ে যাবে। ফলে অযথায় সব খরচ করবে। কেউ হয়তো ঐ টাকা হাতে পেয়ে বিপথে যাবে। আজ আমি বুজতে পারছি যে টাকা কতোটা অনর্থের কারণ।
আর সেই টাকা উপার্জন করতে নিজের সব সুখ আনন্দ বিসর্জন দিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করেছি।
আজ আপনাদের বলছি সকল মানুষের উচিৎ কিছু ভালো কাজ করা। অসহায় কে কিছু সহায়তা করা।
কারণ এই সংসারের শেষ সীমানায় সকলকেই পৌঁছতে হবে। যেখানে টাকা পয়সা কিছুরই কোন মূল্য নাই। চাই শুধু মানুষের ভালোবাসা ও মানুষের সাহচর্য।
তাই দুঃখ একটাই এমনকরে জীবনকে দেখতে আগে শিখিনি। আজ মৃত্যুর এপারে দাঁড়িয়ে সময়ের অপেক্ষার কালে দেখতে পেলাম নিজেকে। এমন দেখা যদি দেখতে পেতাম কুড়ি বৎসর আগে তবে হয়তো জীবনটাই পাল্টে যেতে পারতো।"
আমি বললাম চিন্তার কোন কারণ নাই।
আপনার স্ত্রী বলেছেন, এবার থেকে আপনি আরাম করবেন আর শুধু পরামর্শ দেবেন ।
আর আপনার স্ত্রী ই ব্যবসা সামলাবেন। ভাগাভাগির কোন প্রশ্নই নাই।
ভেগড জি আমার হাত দুটো ধরে বললেন "দাদা আমিকী আর বাঁচবো !"
ডাক্তার বাবু বলেছেন এখন আপনি অনেকটাই ভালোর দিগে। শীগ্রই সুস্থ হয়ে যাবেন।
আমার কথায় বেগড জী একটু মৃদু হাসলেন। আবার বললেন
"মানুষের পয়সা আয় করা নিতান্ত প্রয়োজন। সাথে জীবনকে উপভোগ করাও কর্তব্য।
সময়ে জীবনের উপভোগ,আনন্দ, প্রকৃতিকে জানা ও ভালবাসা নিতান্ত জরুরি। সাথে যৎসামান্য হলেও সমাজের তথা দুস্থের সেবা করা অতি প্রয়োজন। আজ আমি বুঝতে পারছি জীবনে
কিভুল করেছি। পয়সা ছাড়া কাউকে ভালোবাসিনি চিনিওনি।"
তৎকালে ভেগড জী মৃত্যুর সাথে লড়াই করে নুতন জীবন পেলেন। যদিও সম্পূর্ণ সুস্থ
নাহলেও কার্যক্ষম হতে বৎসর গড়িয়ে গেল।
এই এক বৎসরে ওনার স্ত্রী ব্যবসা ঘর সংসার সামলে স্বামীকে সুস্থ করে তুলে সকল কিছুই আমূল পরিবর্তন করে ব্যবসার প্রচুর উন্নতি করে ভেগডজী র জ্ঞান চক্ষু খুলে দিয়েছিলেন।
আমি প্রায় বৎসর পাঁচেক পরে একবার চিরিমিরি কোলিয়ারির কিছু কাজ সেরে। কোলকাতা ফেরবার মন করছিলাম হঠাৎ মনে হলো একবার শ্যাডোল বাজার ঘুড়ে যাই।
মনের কৌতূহল পূরণের তাগিদে পৌঁছে গেলাম শ্যাডোল ডিস্ট্রিক বাজারে।তখন বেলা দুটো বাজে
কিছু খেতে হবে তাই খাবার হোটেল খুঁজছিলাম। এতো বেলায় কোনহোটেলেই কোন খাবার নাই।
অগত্যা রাস্তার ধারে এক চায়ের দোকানে রাস্তার পাশে বেঞ্চে বসে ডিমপাউরুটি ও চা খাচ্ছিলাম।
একটি রিক্সা এসে পাশের পান দোকানে দাঁড়াতেই দোকাদার কতগুলি পান এগিয়ে দিলো আর তখনি
রিক্সায় বসা ভদ্র মহিলা ও আমি দুজনে দুজনকে দেখলাম। আমি দেখেই চিনতে পারলাম যে উনি মিস্টার ভেগডএর স্ত্রী। কিন্তু কিকরে ডাকি,যদি একই রকম দেখতে অন্য কেউ হয় !
আমি চায়ের কাপ হাতেনিয়ে নানান চিন্তা করছি। হঠাৎ দেখি ওই ভদ্র মহিলা আবার রিক্সা ঘুরিয়ে ফিরে এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন " আপনি রায় চৌধুরী তো " আমি উঠে দাঁড়াতেই উনি
আমাকে প্রণাম করলেন। আমি একটু পিছিয়ে গিয়ে বলেছিলাম " না না একি করছেন আমাকে প্রণাম করবেন না। প্রণাম যদি করতেই চান তবে ঈশ্বরকে প্রণাম করুন "
আমার এমন কথার উত্তরে উনি বলেছিলেন " আমি ঠিক চিনতে পেরেছি আপাকে। শুধু আমার চেনায় ভুল হল কিনা সেটাই জানতে প্রণাম করেছিলাম। কারন আমার মনে আছে যে আপনি কারুর প্রণাম নেন না। সে যাই হোক এবারে যখন চিনেই ফেলেছি তখন তো আপনাকে সঙ্গে নানিয়ে আমি যাবোনা। "
আমি জানালাম যে আমি নিজেই ওনার বাড়ি তে যাবার জন্যই শ্যাডোল এসেছি।
আমি ওনার বাড়ি গিয়ে দেখে শুনে অবাক হলাম। আর মনে মনে ঈশ্বরকে জানালাম জগতের সকল পরিবারই যে এমনি হয়।
এবারে একটু ছোট করে বলি , ভেগড জীর বাড়িতে গিয়ে দেখলাম যে ভেগড জী এখন অনেকটাই
সুস্থ । তবে উনি বিশেষ কাজ না থাকলে অফিসে যান না। ওনার স্ত্রী অফিসের কাজ ,ফেক্টরীর কাজ ,
বাড়ির কাজ সকল কিছুই একলা করেন। ভেগড জী যেমন চালাতেন তার কোম্পানী তার থেকে অনেক ভালোই চালাচ্ছেন।
ভেগড জী বললেন " আমি যাকে ১০০টাকা দিয়ে অনেক কথা বলেছিলাম আজ সেই আমার স্ত্রী আজ সব সামলাচ্ছে ,কোম্পানির কারুর কোন অভিযোগ নাই। এইতো গতমাসে কেদার বদ্রি ঘুড়ে এলাম ,জীবনে এই প্রথম ঘড়ের বাইরের জগৎ দেখলাম।
জানেন আমার কোম্পানির যেমন বেড়েছে পোডাকশন তেমনি বেড়েছে মালের চাহিদা।
এ সকলি আমার স্ত্রীর গুন্। যে প্রতিভাকে আমি চিনতেই পারিনি।
আজ বুঝেছি সত্যি ঈশ্বর মঙ্গোল ময় ,আমার এমন অসুখ নাহলে একটা প্রতিভা চিরতরে ছাই চাপা থাকতো। আরও জানেন আমার কোম্পানির সকল মানুষ যারা আমার ব্যবহারে ক্ষুব্ধ ছিল। কিছু লোক তো শুধু নেতাগিরি করেই কাটাতো ,মাহিনা নিতো কোন কাজ করতোনা। আজ তারাও মনের আনন্দে কাজ করে প্রতিটি মানুষ দুই বেলা আমার খোঁজ রাখে।
আজ আমাকে আর কেউ গালি দেয় না। সকলেই আজ সুখী। আর এমন পরিস্তিতি পরিবর্তনের কারন
আমার স্ত্রীর কর্ম দক্ষতা। আজ আমি সত্যি সুখী। কিন্তু কষ্ট একটাই যে ওকে একলা সকল সামলাতে হচ্ছে। ফলে একটুও বিশ্রাম পায় না যা দেখে আমি আজ সত্যই কষ্ট পাই। "
আমি বললাম দেখুন মানুষ সমাজের শ্রেষ্ঠ জীব ,তার কাজ সমাজ কল্যাণ।
আর এই সমাজ কল্যাণের জন্য যার যতটুকু কাজ করবার প্রয়োজন ঈশ্বর ঠিক ততটুকুই তাকে দিয়ে করিয়ে নেবেন।
আপনাকে কোন চিন্তা করতে হবে না ঈশ্বরের কাজ ঈশ্বর করিয়ে নেবেন।
আপনি শুধু সকাল সন্ধ্যা ঈশ্বর চিন্তা করুন আর আপনার স্ত্রীর মঙ্গল কামনা করুন। যাতে করে ওনার কাজ উনি ঠিক মতন করেযেতে পারে।
আজ আপনার স্ত্রীর কর্ম ক্ষমতার কারণে শুধু আপনি একলাই সুখী নন। আপনার কোম্পানির প্রতিটি পরিবার সুখে জীবন কাটাচ্ছে। আর তাদের সকলের শুভ কামনায় ও ঈশ্বরের করুনায় আপনি ও আজ সুখী।
আর জানতে চাইলাম ছেলে মেয়ে রা ঠিক মতন পড়াশুনা করছে তো ?
জানলাম ছেলে দেরাদুনে সৈনিক স্কুলে ভালোই রেজাল্ট করছে আর মেয়ে দিল্লিতে মেডিকেলে চান্স
পেয়েছে।
এবার আমার ফেরার পালা তা ওনারা অনেক জোর করে আমাকে দুইদিন আটকে রাখলেন।
আর এই দুইদিনে আমিও নুতন জগৎ খুঁজে পেলাম। দেখলাম এক অর্থ লোভী ধনীর মনের
আমূল পরিবর্তন। অর্থের লোভ ভুলে চিনতে পেরেছেন জীবন ,আর তাই আনন্দে কাটায় দিন ও
রাত্রে ঘুমায় শান্তি তে। ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল কিন্তু কোনদিন একটি ফুলও দেয়নি ঠাকুরের ফটোতে।
বলতেন কিহবে ফুল দিয়ে ঈশ্বর কি গন্ধ শুঁকবে নাকি দেখবে। তাই ব্যর্থ পয়সা খরচ করা।
আজ সেই মানুষ মনের শান্তিতে দুইবেলা নিজে পূজা করেন। ওনার ঠাকুরের আসন টি দেখলাম
কিসুন্দন কত রকমের ফুল দিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন।
আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম এতো ফুল কেন একটি বা দুটি ফুলেই তো পূজা সারতে পারেন
উনি বলেছিলেন। সে কথা আজ মনে আছে।
বলেছিলেন " সুন্দর পরিবেশে ঠাকুরকে সুন্দর করে সাজিয়ে সামনে বসলে অতি সহজে ধ্যান করাযায়। মনে এক অনাবিল আনন্দ উপভোগ হয়। সাথে ফুলের গন্ধে মন প্রাণ জুটিয়ে যায়। আর তাই মনের মতন করে সাজিয়ে রাখি। যা দেখেও খুব আনন্দ পাই। আর এও সত্যি যে আজ আমি ব্যবসায়ী নয়। ওই ভার সামলান আমার স্ত্রী ,আর আমি আজকাল চাষ কিরি।
আমি এখন একজন চাষি। বাড়ির পাশের ছয় বিঘা জমি যা কিনেছিলাম মাল্টিস্টোরি বিল্ডিং ও বাজার বানাবার জন্য ,সেই জমি আজ আমি চাষের কাজে লাগিয়েছি। যার ফলে পরিবেশ অনেক সবুজ থাকে ,আমার পূজার নানান ফুল পাই ,আর নিজের হাতে তৈরী নানান সবজি। একেবারে খাঁটি অর্গানিক সবজি। আপনি যাবার সময় গাজর বিট এবং যত ইচ্ছা সবজি নিয়ে যাবেন। আর অনেক ডালিম, পেয়াড়া ও আঙ্গুর হয়েছে। আপনি কিছু নিয়ে গেলে আমি মনে শান্তি পাবো। "
আজ এই কাহিনী লিখতে গিয়ে একটা কথাই মনে হচ্ছে মানুষের জীবন কখন কার কিভাবে বদলে যায় সেটা বুঝতে পারা মানুষের অসাধ্য।
আর এই বদলের পেছনে নারী শক্তির প্রভাব অসীম।
মানুষের অসাধ্য কিছুই নাই ,আর এই অসাধ্য সাধনে নারী শক্তির অবদান অপরিসীম।
পুরুষ তান্ত্রিক সমাজে পুরুষের দম্ভ সংসারের মেরুদন্ড রূপে , কিন্তু আসল সত্য,এটাই যে প্রত্যক্ষ বা পরক্ষ ভাবে সেই মেরুদণ্ডে শক্তি যোগায় স্ত্রী শক্তি।
<--আদ্য নাথ রায় চৌধুরী---->
24/02/2020::রাত্রি 01:06:12.
=====================================
কারণ এই সংসারের শেষ সীমানায় সকলকেই পৌঁছতে হবে। যেখানে টাকা পয়সা কিছুরই কোন মূল্য নাই। চাই শুধু মানুষের ভালোবাসা ও মানুষের সাহচর্য।
তাই দুঃখ একটাই এমনকরে জীবনকে দেখতে আগে শিখিনি। আজ মৃত্যুর এপারে দাঁড়িয়ে সময়ের অপেক্ষার কালে দেখতে পেলাম নিজেকে। এমন দেখা যদি দেখতে পেতাম কুড়ি বৎসর আগে তবে হয়তো জীবনটাই পাল্টে যেতে পারতো।"
আমি বললাম চিন্তার কোন কারণ নাই।
আপনার স্ত্রী বলেছেন, এবার থেকে আপনি আরাম করবেন আর শুধু পরামর্শ দেবেন ।
আর আপনার স্ত্রী ই ব্যবসা সামলাবেন। ভাগাভাগির কোন প্রশ্নই নাই।
ভেগড জি আমার হাত দুটো ধরে বললেন "দাদা আমিকী আর বাঁচবো !"
ডাক্তার বাবু বলেছেন এখন আপনি অনেকটাই ভালোর দিগে। শীগ্রই সুস্থ হয়ে যাবেন।
আমার কথায় বেগড জী একটু মৃদু হাসলেন। আবার বললেন
"মানুষের পয়সা আয় করা নিতান্ত প্রয়োজন। সাথে জীবনকে উপভোগ করাও কর্তব্য।
সময়ে জীবনের উপভোগ,আনন্দ, প্রকৃতিকে জানা ও ভালবাসা নিতান্ত জরুরি। সাথে যৎসামান্য হলেও সমাজের তথা দুস্থের সেবা করা অতি প্রয়োজন। আজ আমি বুঝতে পারছি জীবনে
কিভুল করেছি। পয়সা ছাড়া কাউকে ভালোবাসিনি চিনিওনি।"
তৎকালে ভেগড জী মৃত্যুর সাথে লড়াই করে নুতন জীবন পেলেন। যদিও সম্পূর্ণ সুস্থ
নাহলেও কার্যক্ষম হতে বৎসর গড়িয়ে গেল।
এই এক বৎসরে ওনার স্ত্রী ব্যবসা ঘর সংসার সামলে স্বামীকে সুস্থ করে তুলে সকল কিছুই আমূল পরিবর্তন করে ব্যবসার প্রচুর উন্নতি করে ভেগডজী র জ্ঞান চক্ষু খুলে দিয়েছিলেন।
আমি প্রায় বৎসর পাঁচেক পরে একবার চিরিমিরি কোলিয়ারির কিছু কাজ সেরে। কোলকাতা ফেরবার মন করছিলাম হঠাৎ মনে হলো একবার শ্যাডোল বাজার ঘুড়ে যাই।
মনের কৌতূহল পূরণের তাগিদে পৌঁছে গেলাম শ্যাডোল ডিস্ট্রিক বাজারে।তখন বেলা দুটো বাজে
কিছু খেতে হবে তাই খাবার হোটেল খুঁজছিলাম। এতো বেলায় কোনহোটেলেই কোন খাবার নাই।
অগত্যা রাস্তার ধারে এক চায়ের দোকানে রাস্তার পাশে বেঞ্চে বসে ডিমপাউরুটি ও চা খাচ্ছিলাম।
একটি রিক্সা এসে পাশের পান দোকানে দাঁড়াতেই দোকাদার কতগুলি পান এগিয়ে দিলো আর তখনি
রিক্সায় বসা ভদ্র মহিলা ও আমি দুজনে দুজনকে দেখলাম। আমি দেখেই চিনতে পারলাম যে উনি মিস্টার ভেগডএর স্ত্রী। কিন্তু কিকরে ডাকি,যদি একই রকম দেখতে অন্য কেউ হয় !
আমি চায়ের কাপ হাতেনিয়ে নানান চিন্তা করছি। হঠাৎ দেখি ওই ভদ্র মহিলা আবার রিক্সা ঘুরিয়ে ফিরে এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন " আপনি রায় চৌধুরী তো " আমি উঠে দাঁড়াতেই উনি
আমাকে প্রণাম করলেন। আমি একটু পিছিয়ে গিয়ে বলেছিলাম " না না একি করছেন আমাকে প্রণাম করবেন না। প্রণাম যদি করতেই চান তবে ঈশ্বরকে প্রণাম করুন "
আমার এমন কথার উত্তরে উনি বলেছিলেন " আমি ঠিক চিনতে পেরেছি আপাকে। শুধু আমার চেনায় ভুল হল কিনা সেটাই জানতে প্রণাম করেছিলাম। কারন আমার মনে আছে যে আপনি কারুর প্রণাম নেন না। সে যাই হোক এবারে যখন চিনেই ফেলেছি তখন তো আপনাকে সঙ্গে নানিয়ে আমি যাবোনা। "
আমি জানালাম যে আমি নিজেই ওনার বাড়ি তে যাবার জন্যই শ্যাডোল এসেছি।
আমি ওনার বাড়ি গিয়ে দেখে শুনে অবাক হলাম। আর মনে মনে ঈশ্বরকে জানালাম জগতের সকল পরিবারই যে এমনি হয়।
এবারে একটু ছোট করে বলি , ভেগড জীর বাড়িতে গিয়ে দেখলাম যে ভেগড জী এখন অনেকটাই
সুস্থ । তবে উনি বিশেষ কাজ না থাকলে অফিসে যান না। ওনার স্ত্রী অফিসের কাজ ,ফেক্টরীর কাজ ,
বাড়ির কাজ সকল কিছুই একলা করেন। ভেগড জী যেমন চালাতেন তার কোম্পানী তার থেকে অনেক ভালোই চালাচ্ছেন।
ভেগড জী বললেন " আমি যাকে ১০০টাকা দিয়ে অনেক কথা বলেছিলাম আজ সেই আমার স্ত্রী আজ সব সামলাচ্ছে ,কোম্পানির কারুর কোন অভিযোগ নাই। এইতো গতমাসে কেদার বদ্রি ঘুড়ে এলাম ,জীবনে এই প্রথম ঘড়ের বাইরের জগৎ দেখলাম।
জানেন আমার কোম্পানির যেমন বেড়েছে পোডাকশন তেমনি বেড়েছে মালের চাহিদা।
এ সকলি আমার স্ত্রীর গুন্। যে প্রতিভাকে আমি চিনতেই পারিনি।
আজ বুঝেছি সত্যি ঈশ্বর মঙ্গোল ময় ,আমার এমন অসুখ নাহলে একটা প্রতিভা চিরতরে ছাই চাপা থাকতো। আরও জানেন আমার কোম্পানির সকল মানুষ যারা আমার ব্যবহারে ক্ষুব্ধ ছিল। কিছু লোক তো শুধু নেতাগিরি করেই কাটাতো ,মাহিনা নিতো কোন কাজ করতোনা। আজ তারাও মনের আনন্দে কাজ করে প্রতিটি মানুষ দুই বেলা আমার খোঁজ রাখে।
আজ আমাকে আর কেউ গালি দেয় না। সকলেই আজ সুখী। আর এমন পরিস্তিতি পরিবর্তনের কারন
আমার স্ত্রীর কর্ম দক্ষতা। আজ আমি সত্যি সুখী। কিন্তু কষ্ট একটাই যে ওকে একলা সকল সামলাতে হচ্ছে। ফলে একটুও বিশ্রাম পায় না যা দেখে আমি আজ সত্যই কষ্ট পাই। "
আমি বললাম দেখুন মানুষ সমাজের শ্রেষ্ঠ জীব ,তার কাজ সমাজ কল্যাণ।
আর এই সমাজ কল্যাণের জন্য যার যতটুকু কাজ করবার প্রয়োজন ঈশ্বর ঠিক ততটুকুই তাকে দিয়ে করিয়ে নেবেন।
আপনাকে কোন চিন্তা করতে হবে না ঈশ্বরের কাজ ঈশ্বর করিয়ে নেবেন।
আপনি শুধু সকাল সন্ধ্যা ঈশ্বর চিন্তা করুন আর আপনার স্ত্রীর মঙ্গল কামনা করুন। যাতে করে ওনার কাজ উনি ঠিক মতন করেযেতে পারে।
আজ আপনার স্ত্রীর কর্ম ক্ষমতার কারণে শুধু আপনি একলাই সুখী নন। আপনার কোম্পানির প্রতিটি পরিবার সুখে জীবন কাটাচ্ছে। আর তাদের সকলের শুভ কামনায় ও ঈশ্বরের করুনায় আপনি ও আজ সুখী।
আর জানতে চাইলাম ছেলে মেয়ে রা ঠিক মতন পড়াশুনা করছে তো ?
জানলাম ছেলে দেরাদুনে সৈনিক স্কুলে ভালোই রেজাল্ট করছে আর মেয়ে দিল্লিতে মেডিকেলে চান্স
পেয়েছে।
এবার আমার ফেরার পালা তা ওনারা অনেক জোর করে আমাকে দুইদিন আটকে রাখলেন।
আর এই দুইদিনে আমিও নুতন জগৎ খুঁজে পেলাম। দেখলাম এক অর্থ লোভী ধনীর মনের
আমূল পরিবর্তন। অর্থের লোভ ভুলে চিনতে পেরেছেন জীবন ,আর তাই আনন্দে কাটায় দিন ও
রাত্রে ঘুমায় শান্তি তে। ঈশ্বরে বিশ্বাস ছিল কিন্তু কোনদিন একটি ফুলও দেয়নি ঠাকুরের ফটোতে।
বলতেন কিহবে ফুল দিয়ে ঈশ্বর কি গন্ধ শুঁকবে নাকি দেখবে। তাই ব্যর্থ পয়সা খরচ করা।
আজ সেই মানুষ মনের শান্তিতে দুইবেলা নিজে পূজা করেন। ওনার ঠাকুরের আসন টি দেখলাম
কিসুন্দন কত রকমের ফুল দিয়ে সাজিয়ে রেখেছেন।
আমি জিজ্ঞাসা করেছিলাম এতো ফুল কেন একটি বা দুটি ফুলেই তো পূজা সারতে পারেন
উনি বলেছিলেন। সে কথা আজ মনে আছে।
বলেছিলেন " সুন্দর পরিবেশে ঠাকুরকে সুন্দর করে সাজিয়ে সামনে বসলে অতি সহজে ধ্যান করাযায়। মনে এক অনাবিল আনন্দ উপভোগ হয়। সাথে ফুলের গন্ধে মন প্রাণ জুটিয়ে যায়। আর তাই মনের মতন করে সাজিয়ে রাখি। যা দেখেও খুব আনন্দ পাই। আর এও সত্যি যে আজ আমি ব্যবসায়ী নয়। ওই ভার সামলান আমার স্ত্রী ,আর আমি আজকাল চাষ কিরি।
আমি এখন একজন চাষি। বাড়ির পাশের ছয় বিঘা জমি যা কিনেছিলাম মাল্টিস্টোরি বিল্ডিং ও বাজার বানাবার জন্য ,সেই জমি আজ আমি চাষের কাজে লাগিয়েছি। যার ফলে পরিবেশ অনেক সবুজ থাকে ,আমার পূজার নানান ফুল পাই ,আর নিজের হাতে তৈরী নানান সবজি। একেবারে খাঁটি অর্গানিক সবজি। আপনি যাবার সময় গাজর বিট এবং যত ইচ্ছা সবজি নিয়ে যাবেন। আর অনেক ডালিম, পেয়াড়া ও আঙ্গুর হয়েছে। আপনি কিছু নিয়ে গেলে আমি মনে শান্তি পাবো। "
আজ এই কাহিনী লিখতে গিয়ে একটা কথাই মনে হচ্ছে মানুষের জীবন কখন কার কিভাবে বদলে যায় সেটা বুঝতে পারা মানুষের অসাধ্য।
আর এই বদলের পেছনে নারী শক্তির প্রভাব অসীম।
মানুষের অসাধ্য কিছুই নাই ,আর এই অসাধ্য সাধনে নারী শক্তির অবদান অপরিসীম।
পুরুষ তান্ত্রিক সমাজে পুরুষের দম্ভ সংসারের মেরুদন্ড রূপে , কিন্তু আসল সত্য,এটাই যে প্রত্যক্ষ বা পরক্ষ ভাবে সেই মেরুদণ্ডে শক্তি যোগায় স্ত্রী শক্তি।
<--আদ্য নাথ রায় চৌধুরী---->
24/02/2020::রাত্রি 01:06:12.
=====================================
Comments
Post a Comment