611>।। রত্ন খুঁজে পাওয়া ।।----W
।। রত্ন খুঁজে পাওয়া ।।
<---------আদ্য নাথ --------->.
সেদিন 1978 সালের শীত কাল।
আমি সদ্য নাগরপুর থেকে বদলি হয়ে
মধ্য প্রদেশের অনুপপুরের ধানপুরি কলিয়ারি অঞ্চলে এসেছি।
বিকেল বেলা আমি আর আনোয়ার বাজারের দিকে গিয়েছিলাম ,কিছু সবজি কিনতে।
জানুয়ারি মাস তাই বেশ শীত লাগছিল।ফিরতে ফিরতে একটু দেরি হয়ে গেল।
হঠাৎ ঝর বৃষ্টি শুরু হোল। সেদিনের সালটা মনে আছে,তারিখ ভুলে গেছি ।
মধ্য প্রদেশের অনুপপুরের ধানপুরি কলিয়ারি অঞ্চলে এসেছি।
বিকেল বেলা আমি আর আনোয়ার বাজারের দিকে গিয়েছিলাম ,কিছু সবজি কিনতে।
জানুয়ারি মাস তাই বেশ শীত লাগছিল।ফিরতে ফিরতে একটু দেরি হয়ে গেল।
হঠাৎ ঝর বৃষ্টি শুরু হোল। সেদিনের সালটা মনে আছে,তারিখ ভুলে গেছি ।
আসলে এই ঘটনা নিয়ে কোনদিন লিখবো সেটা মোটেও ভাবিনি।
নয় বৎসর হল চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছি।
আজকাল রাত্রে ভালো ঘুম হয় না।তাই অনেক পুরনো স্মৃতি জেগে ওঠে মনে ।
নয় বৎসর হল চাকুরী থেকে অবসর নিয়েছি।
আজকাল রাত্রে ভালো ঘুম হয় না।তাই অনেক পুরনো স্মৃতি জেগে ওঠে মনে ।
সেদিনের বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে,কোন উপায় না পেয়ে একটি দোকানে আশ্রয় নিতে হোল।
বৃষ্টি আর থামতে চায়না।অপেক্ষা করতে করতে রাত হয়ে গেল ।বৃষ্টি একটু কম হতেই,
দোকানদার দোকান বন্ধ করবে তাই বাধ্য হয়ে আমরা বৃষ্টিতে ভিজেই রওনা দিলাম।
পথে আবার জোরে বৃষ্টি নামলো। আনোয়ারের চিন্তা ওর বউ চিন্তা করবে।
আমিতো ব্যাচেলার, তাই পিছু টান নাই ।চিন্তা করারও কেউ নাই।
বৃষ্টি জোর হতেই দৌড়ে গিয়ে একটা ঘাঙা একচালায় উঠলাম টিনের ছাউনি তাও অজস্র ফুটো।
যতনা বৃষ্টি তার থেকে জোরে চলার ভেতরেই বৃষ্টির জল পড়ছিল।
দেখলাম একদিকে কিছু খরের গাদা। দিগেও একটি শেড। শীতে কাঁপতে কাঁপতে ঐ দিকে গেলাম।
ওখানে পৌঁছেই একটি বাচ্চার মুখচাপা কান্নার আওয়াজ পেলাম।
কৌতুহল বশত ঐ দিকে খোজ করতেই দেখলাম, দুটি শিশু লুকিয়ে আছে , শীতে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে।
বড় শিশুটি এই দশ এগারো বৎসর হবে আর একটি এই পাঁচ ছয় হবে।
ওরা শীতে কাঁপছে। কি করি আমরাও তো ভিজে গোবর।
এতো রাত্রে দুটি বাচ্চাকে এভাবে দেখে বেশ অবাক হলাম আর তাই বাচ্চা দুটির সাথে কথা বলতে চাইলাম। বরো বাচ্চাটি কিছু বলছে।বাংলা বা হিন্দি নয় ওরা অন্য কোন ভাষায় কথা বলছে।
যার বিন্দু বিসর্গ আমি বা আনোয়ার কেউ বুঝতে পারলামনা।তবে মনে হচ্ছে ওরা তেলেগু ভাষা বলছে।
কি করি ।শেষে আনোয়ারকে বললাম ও একা চলে যাক ক্যাম্পে , ওখানে গিয়ে পিল্লাই স্যারকে বুঝিয়ে বলে একটা জিপ পাঠিয়ে দিক। কিন্তু এই অন্ধকারে ঝরবৃষ্টির মধ্যে আনোয়ার একা যেতে রাজি নয়।
এর রাজি না হবার কারন হল আগে দুই দুই বার আনোয়ার ভাল্লুকের আক্রমন থেকে কোন মতে বেঁচেছে। তাই ওর ওই ভাল্লুকের ভয়। আমি আনোয়ার কে বললাম, তুমি কি বলো
এই বাচ্চা দুটিকে এইভাবে ফেলে আমরা চলে যাই। আনোয়ার জানালো যে সেটা কোন মতেই উচিত হবে না।ওদের এই ভাবে ফেলে গেলে শেয়াল ভাল্লুক ওদের ছিড়ে খাবে।
রাতের এই অন্ধকরে, বৃষ্টির মধ্যে ওদের নিয়ে যাবার একটাই উপায় । তা হলো ক্যাম্প থেকে জিপ আনতেই হবে। অগত্যা আনোয়ার আমাকেই যেতে বললো।
কারন যদি ক্যাম্পে কোন ড্রাইভার রাজি না হয় আসতে, আবার জোর করে আনলে যদি কিছু ঘটে তবে মহা বিপদ হবে। শেষে আমি একাই ক্যাম্পে দিয়ে ক্যাম্প ইন্ চার্জকে বলে , ভিকেল ইনচার্জ পিল্লাইয়ের থেকে চাবি নিয়ে নিজেই সমস্যার সমাধান করলাম, সাথে মানি( মাদ্রাজি ছেলে) ও
বিন্দুকে( ও কন্নর, এবং তেলেগু জানে)
তাই ওদের সাথে নিয়ে এসে বাচ্চা দুটিকে ক্যাম্পে নিয়ে আসলাম।আসার পথে বিন্দু বলছিলো বড় ছেলেটি বলছে ওর মায়ের জ্বর ,ওরা মায়ের কাছে যেতে চাইছে। কিন্তু ওদের মা কোথায় আছে তা ওরা বলতে পারছেনা। শুধু বলছে ট্রেনে শুয়ে আছে। আমরা ওদের নিয়ে যে কি করব তাই ভেবে উঠতে পারছিলাম না। ক্যাম্পে পৌঁছনোর পরে ক্যাম্প ইনচার্জ রাজারাম জী ও ওনার স্ত্রী ওই রাতে বাচ্চা দুটিকে আদর করে নিজেদের টেন্টে নিয়ে গেলেন।এতো রাত্রে এই বৃষ্টি তে কোন খোঁজ খবর করা সম্ভব নয়। যা করবার সকালেই করতে হবে। রাজারাম জী শুধু ফোন করে থানার নিচার্জকে সকল জানিয়ে দিয়েছিলেন। থানা থেকে বলেছে সকালে ওরা আসবে।
সকাল হতেই খোজ নিয়ে জানলা।( ওরা বলছিলো আর বিন্দু আমাদের হিন্দিতে ট্রানস্লেট করে সেইকথা বলে যাচ্ছিল )
মিসেস রাজারাম নিজেও তেলেগু ভাষী, আর তাই বাচ্চা দুটির সব খোজ উনি নিয়েছেন।
সকালে সাইট ভিজিট করবার আগে বাচ্চা দুটির খোজ নিয়ে গিয়ে যা জানলাম।
সে এক সিনেমায় কাহিনীর মতন।
বৃষ্টি আর থামতে চায়না।অপেক্ষা করতে করতে রাত হয়ে গেল ।বৃষ্টি একটু কম হতেই,
দোকানদার দোকান বন্ধ করবে তাই বাধ্য হয়ে আমরা বৃষ্টিতে ভিজেই রওনা দিলাম।
পথে আবার জোরে বৃষ্টি নামলো। আনোয়ারের চিন্তা ওর বউ চিন্তা করবে।
আমিতো ব্যাচেলার, তাই পিছু টান নাই ।চিন্তা করারও কেউ নাই।
বৃষ্টি জোর হতেই দৌড়ে গিয়ে একটা ঘাঙা একচালায় উঠলাম টিনের ছাউনি তাও অজস্র ফুটো।
যতনা বৃষ্টি তার থেকে জোরে চলার ভেতরেই বৃষ্টির জল পড়ছিল।
দেখলাম একদিকে কিছু খরের গাদা। দিগেও একটি শেড। শীতে কাঁপতে কাঁপতে ঐ দিকে গেলাম।
ওখানে পৌঁছেই একটি বাচ্চার মুখচাপা কান্নার আওয়াজ পেলাম।
কৌতুহল বশত ঐ দিকে খোজ করতেই দেখলাম, দুটি শিশু লুকিয়ে আছে , শীতে ভীষণ কষ্ট পাচ্ছে।
বড় শিশুটি এই দশ এগারো বৎসর হবে আর একটি এই পাঁচ ছয় হবে।
ওরা শীতে কাঁপছে। কি করি আমরাও তো ভিজে গোবর।
এতো রাত্রে দুটি বাচ্চাকে এভাবে দেখে বেশ অবাক হলাম আর তাই বাচ্চা দুটির সাথে কথা বলতে চাইলাম। বরো বাচ্চাটি কিছু বলছে।বাংলা বা হিন্দি নয় ওরা অন্য কোন ভাষায় কথা বলছে।
যার বিন্দু বিসর্গ আমি বা আনোয়ার কেউ বুঝতে পারলামনা।তবে মনে হচ্ছে ওরা তেলেগু ভাষা বলছে।
কি করি ।শেষে আনোয়ারকে বললাম ও একা চলে যাক ক্যাম্পে , ওখানে গিয়ে পিল্লাই স্যারকে বুঝিয়ে বলে একটা জিপ পাঠিয়ে দিক। কিন্তু এই অন্ধকারে ঝরবৃষ্টির মধ্যে আনোয়ার একা যেতে রাজি নয়।
এর রাজি না হবার কারন হল আগে দুই দুই বার আনোয়ার ভাল্লুকের আক্রমন থেকে কোন মতে বেঁচেছে। তাই ওর ওই ভাল্লুকের ভয়। আমি আনোয়ার কে বললাম, তুমি কি বলো
এই বাচ্চা দুটিকে এইভাবে ফেলে আমরা চলে যাই। আনোয়ার জানালো যে সেটা কোন মতেই উচিত হবে না।ওদের এই ভাবে ফেলে গেলে শেয়াল ভাল্লুক ওদের ছিড়ে খাবে।
রাতের এই অন্ধকরে, বৃষ্টির মধ্যে ওদের নিয়ে যাবার একটাই উপায় । তা হলো ক্যাম্প থেকে জিপ আনতেই হবে। অগত্যা আনোয়ার আমাকেই যেতে বললো।
কারন যদি ক্যাম্পে কোন ড্রাইভার রাজি না হয় আসতে, আবার জোর করে আনলে যদি কিছু ঘটে তবে মহা বিপদ হবে। শেষে আমি একাই ক্যাম্পে দিয়ে ক্যাম্প ইন্ চার্জকে বলে , ভিকেল ইনচার্জ পিল্লাইয়ের থেকে চাবি নিয়ে নিজেই সমস্যার সমাধান করলাম, সাথে মানি( মাদ্রাজি ছেলে) ও
বিন্দুকে( ও কন্নর, এবং তেলেগু জানে)
তাই ওদের সাথে নিয়ে এসে বাচ্চা দুটিকে ক্যাম্পে নিয়ে আসলাম।আসার পথে বিন্দু বলছিলো বড় ছেলেটি বলছে ওর মায়ের জ্বর ,ওরা মায়ের কাছে যেতে চাইছে। কিন্তু ওদের মা কোথায় আছে তা ওরা বলতে পারছেনা। শুধু বলছে ট্রেনে শুয়ে আছে। আমরা ওদের নিয়ে যে কি করব তাই ভেবে উঠতে পারছিলাম না। ক্যাম্পে পৌঁছনোর পরে ক্যাম্প ইনচার্জ রাজারাম জী ও ওনার স্ত্রী ওই রাতে বাচ্চা দুটিকে আদর করে নিজেদের টেন্টে নিয়ে গেলেন।এতো রাত্রে এই বৃষ্টি তে কোন খোঁজ খবর করা সম্ভব নয়। যা করবার সকালেই করতে হবে। রাজারাম জী শুধু ফোন করে থানার নিচার্জকে সকল জানিয়ে দিয়েছিলেন। থানা থেকে বলেছে সকালে ওরা আসবে।
সকাল হতেই খোজ নিয়ে জানলা।( ওরা বলছিলো আর বিন্দু আমাদের হিন্দিতে ট্রানস্লেট করে সেইকথা বলে যাচ্ছিল )
মিসেস রাজারাম নিজেও তেলেগু ভাষী, আর তাই বাচ্চা দুটির সব খোজ উনি নিয়েছেন।
সকালে সাইট ভিজিট করবার আগে বাচ্চা দুটির খোজ নিয়ে গিয়ে যা জানলাম।
সে এক সিনেমায় কাহিনীর মতন।
পুরো ঘটনার বিস্তার না লিখে সংক্ষেপে লিখছি।
ওদের বাবা সার্কাসে কাজ করতো, ফাই ফরমাস খাটত। মা ভালো জিমন্যাসিয়াম ছিল আগে সার্কাসে খেলা দেখাত ,একবার দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়েছে। তারপরথেকে মা আরকিছু করে না। কিছু দিন আগে মা আর বাবা ভীষণ ঝগড়া হয়েছিল।তারপরথেকে বাবা ওদের ছেড়ে চলে গেছে অনেক দিন হল। তার পরথেকে ওরা তিনজনে ট্রেনে ট্রেনে ভিক্ষা করে। আজ দুইদিন হলো ওদের মা কোথায় চলেগেছে। ওরা ট্রেনে ছিল ওদের মা এর ভীষণ জ্বর। কথাও বলতে পারছিলনা। সেদিন ওরা ভিক্ষা করে যা পেয়েছিলো তাই দিয়ে ওরা মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বেরিয়ে ছিল। তার পরেই ভীষণ বৃষ্টি।
বৃষ্টিতে কুকুরের তাড়াখেয়ে ওই খড়ের গুদামে লুকিয়ে ছিল। ওরা শুধু ওই একটা কথাই বার বার করে বলে চলেছে যে ওদের মা ট্রেনে শুয়ে আছে, মায়ের ভীষণ জ্বর। কিন্তু কোন ট্রেন কোন স্টেশন কিছুই বলেতে পারছে না।
থানার ইনচার্জ জানালেন উনি খোঁজ খবর করবেন। ততদিন যেন বাচ্চা দুটি কে মিসেস রাজারাম নিজের কাছে রাখেন ,আর কোন অসুবিধা হলে যেন থানায় জানায়।
আমরাও বহু চেষ্টা করেছি আপ ডাউন সমস্ত স্টেশনে, বাজারে কিন্তু কোন লাভ হয়নি।
তাপরে আমরা আমাদের কাজে ব্যস্ত জীবনে ওই বাচ্চা দুটির কথা ভুলেই গিয়েছিলাম।
কিছু দিন বাদে আমিও সি,এম,পি ডি, আই ছেড়ে কোল ইন্ডিয়াতে জয়েন করেছি।
নানান জায়গাতে ঘুড়ে শেষে 1980 তে বি,সি,এল, ধানবাদে ট্রানফার হয়ে এসেছি।
2003 সালে একদিন বাড়িতে এসে জানতে পারলাম সি,এম,পি,ডি আই, অফিস থেকে একটা চিঠি এসেছে আমার পূরণ কিছু টিএ ,ডিএ ,এর ব্যাপারে। যার জন্য আমি এপ্লাই করেছিলাম।
আমাকে আমার সুবিধা অনুযায়ী ধানবাদের রিজিওনাল অফিসে দেখা করতে বলেছে। আমি সেই মতন একদিন ধানবাদের রিজিওনাল অফিসে গিয়ে ছিলাম। ওখানকার হেড ক্লার্ক বলেন রিজিওনাল হেড অফিসারকে আমার সকল প্রব্লেম জানাতে । আমিও সেইমতোন বড় সাহেবের অফিসে স্লিপ পাঠিয়ে অপেক্ষা করছিলাম।
হঠাৎ দেখি রতন লাল সাহেব, রাজারাম সাহেব একসাথে লিফ্ট থেকে নামলেন। আমি ওনাদের চিনতে পেরে উঠে দাঁড়িয়ে নমস্কার জানাতেই ওনারা আমাকে চিনতে পেরে রাজারাম সাহেব আমাকে অবাক করে একদম জড়িয়ে ধরলেন।
শুধু একটাই কথা বললেন " রায় চৌধুরী তুমি এতদিন কোথায় ছিলে ? তোমাকে অনেক খুঁজেছি ?"
আমাকে কোন কথা বলতে না দিয়ে সোজা আমাকে নিয়ে ওনার বাংলো তে নিয়ে গেলেন।
সাথে রতন লাল সাহেব আসলেন। রতনলাল সাহেব বললেন আমরা আমাদের কাজগুলি সেরেনি।
কারন বড়ো সাহেব আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। রাজারাম সাহেব বললেন আপনি যান কাজ সারুন। আমি পরে একদিন আসবো।
আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম রাজারাম সাহেব আমার কোন কথার গুরুত্ব না দিয়ে একরকম জোর করেই আমাকে নিয়ে ওনার বাংলোতে আসলেন। সেখানে মিসেস রাজারাম আমাকে দেখে বললেন
" কি রায় চৌধুরী আমাদের চিনতে পারছেন ?"
আমি বললাম দিদি 25 বৎসর পরে দেখা হোল কিন্তু আপনাদের ভুলতে পারিনি।
ভুলতে চেষ্টা করলেও ভুলতে পারতাম না।
উনি বললেন রায় চৌধুরী তোমার মুখে আবার এই দিদি ডাক টুকু শুনতে আমাকে 25 বৎসর অপেক্ষা করতে হল।
তুমিতো জানো যে আমার বাবা মা ,ভাই বোন কেউ নাই। একমাত্র তুমিই আমাকে দিদি বলে ডাকতে ,
আর তাই ওই দিদি ডাক শুনতে চাইতাম। তোমাদের সাহেব রিটায়ার করেছেন এক বৎসর হল।
এবার আমরাও চলেযাব দিল্লিতে ছেলেদের কাছে।
ওহ তোমাকেতো বলাই হয়নি , তোমার কি মনে আছে আজ থেকে 25 বৎসর আগে এক ঝড় বৃষ্টির রাত্রে তুমি দুটি ছেলেকে আমায় উপহার দিয়েছিলে। ঈশ্বর বোধ হয় সেই কারণেই আমার গর্ভে কোন সন্তান দেননি। ঈশ্বর নাদিলে কি হবে তুমি দিয়েছিলে আমাকে দুটি সন্তান।
আমরা সকল পুরোনো কথা মনে পরে গেল তাই জিজ্ঞাসা করলাম কেন সেই ছেলেদুটির মায়ের খোঁজ কি পাননি ? হ্যা ওদের মায়ের খোঁজ পেয়েছিলাম এক হসপিটালের মর্গে। সে নাকি ট্রেনেই মৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। সে যাইহোক ছেলে দুটি তাদের মা কে চিনতে পেরেছিলো।
পরে আমরা কোর্টে গিয়ে ওদের দত্তক নিয়েছিলাম।
আমি বললাম তা সেই ছেলে দুটি কোথায় ?
উনি বললেন ওরা আছে দিল্লিতে ,বড়ো ছেলেটি পি,এম সি,এইচ এর ডাক্তার।
আর ছোট ছেলেটি আর্কিটেচার ,সেও ভালো নাম করেছে।
ওরা লেখা পড়ায় বেশ ভালো ,মাধ্যমিক ও উচ্ছ মাধ্যমিকে দুজনেই ফোর্থ, ফিফ্থ হয়েছিল।
আর দিন দুই পরে আমরাও ওখানে চলে যাব। বড় ছেলেটির হাউস সার্জেন্টের ট্রেনিং শেষ হলেই ওর বিয়ে দেব। তোমাকে কিন্তু আসতেই হবে।
আমি বললাম আমি নিশ্চই যাব এমন রত্ন যুগল কে দেখতে নিশ্চই যাবো।
তাহলে বলুন আপনাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ রত্ন যুগল আমিই খুঁজে দিয়েছি।
সেদিন আমরা একসাথে ডিনার করলাম।
2006 এর ফেব্রূয়ারিতে গিয়ে ছিলাম দিল্লিতে।
দেখে আসলাম ওনাদের রত্ন ভান্ডার দুটিকে।
মিসেস রাজারাম নিজে গর্ভ ধারণ না করেও দুই রত্ন সন্তানের মা হয়ে জীবনে সকল সুখ
খুঁজে পেয়ে জীবন সার্থক করেছেন।
==========================================================
ওদের বাবা সার্কাসে কাজ করতো, ফাই ফরমাস খাটত। মা ভালো জিমন্যাসিয়াম ছিল আগে সার্কাসে খেলা দেখাত ,একবার দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়েছে। তারপরথেকে মা আরকিছু করে না। কিছু দিন আগে মা আর বাবা ভীষণ ঝগড়া হয়েছিল।তারপরথেকে বাবা ওদের ছেড়ে চলে গেছে অনেক দিন হল। তার পরথেকে ওরা তিনজনে ট্রেনে ট্রেনে ভিক্ষা করে। আজ দুইদিন হলো ওদের মা কোথায় চলেগেছে। ওরা ট্রেনে ছিল ওদের মা এর ভীষণ জ্বর। কথাও বলতে পারছিলনা। সেদিন ওরা ভিক্ষা করে যা পেয়েছিলো তাই দিয়ে ওরা মায়ের জন্য ওষুধ কিনতে বেরিয়ে ছিল। তার পরেই ভীষণ বৃষ্টি।
বৃষ্টিতে কুকুরের তাড়াখেয়ে ওই খড়ের গুদামে লুকিয়ে ছিল। ওরা শুধু ওই একটা কথাই বার বার করে বলে চলেছে যে ওদের মা ট্রেনে শুয়ে আছে, মায়ের ভীষণ জ্বর। কিন্তু কোন ট্রেন কোন স্টেশন কিছুই বলেতে পারছে না।
থানার ইনচার্জ জানালেন উনি খোঁজ খবর করবেন। ততদিন যেন বাচ্চা দুটি কে মিসেস রাজারাম নিজের কাছে রাখেন ,আর কোন অসুবিধা হলে যেন থানায় জানায়।
আমরাও বহু চেষ্টা করেছি আপ ডাউন সমস্ত স্টেশনে, বাজারে কিন্তু কোন লাভ হয়নি।
তাপরে আমরা আমাদের কাজে ব্যস্ত জীবনে ওই বাচ্চা দুটির কথা ভুলেই গিয়েছিলাম।
কিছু দিন বাদে আমিও সি,এম,পি ডি, আই ছেড়ে কোল ইন্ডিয়াতে জয়েন করেছি।
নানান জায়গাতে ঘুড়ে শেষে 1980 তে বি,সি,এল, ধানবাদে ট্রানফার হয়ে এসেছি।
2003 সালে একদিন বাড়িতে এসে জানতে পারলাম সি,এম,পি,ডি আই, অফিস থেকে একটা চিঠি এসেছে আমার পূরণ কিছু টিএ ,ডিএ ,এর ব্যাপারে। যার জন্য আমি এপ্লাই করেছিলাম।
আমাকে আমার সুবিধা অনুযায়ী ধানবাদের রিজিওনাল অফিসে দেখা করতে বলেছে। আমি সেই মতন একদিন ধানবাদের রিজিওনাল অফিসে গিয়ে ছিলাম। ওখানকার হেড ক্লার্ক বলেন রিজিওনাল হেড অফিসারকে আমার সকল প্রব্লেম জানাতে । আমিও সেইমতোন বড় সাহেবের অফিসে স্লিপ পাঠিয়ে অপেক্ষা করছিলাম।
হঠাৎ দেখি রতন লাল সাহেব, রাজারাম সাহেব একসাথে লিফ্ট থেকে নামলেন। আমি ওনাদের চিনতে পেরে উঠে দাঁড়িয়ে নমস্কার জানাতেই ওনারা আমাকে চিনতে পেরে রাজারাম সাহেব আমাকে অবাক করে একদম জড়িয়ে ধরলেন।
শুধু একটাই কথা বললেন " রায় চৌধুরী তুমি এতদিন কোথায় ছিলে ? তোমাকে অনেক খুঁজেছি ?"
আমাকে কোন কথা বলতে না দিয়ে সোজা আমাকে নিয়ে ওনার বাংলো তে নিয়ে গেলেন।
সাথে রতন লাল সাহেব আসলেন। রতনলাল সাহেব বললেন আমরা আমাদের কাজগুলি সেরেনি।
কারন বড়ো সাহেব আমাদের জন্য অপেক্ষা করছেন। রাজারাম সাহেব বললেন আপনি যান কাজ সারুন। আমি পরে একদিন আসবো।
আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম রাজারাম সাহেব আমার কোন কথার গুরুত্ব না দিয়ে একরকম জোর করেই আমাকে নিয়ে ওনার বাংলোতে আসলেন। সেখানে মিসেস রাজারাম আমাকে দেখে বললেন
" কি রায় চৌধুরী আমাদের চিনতে পারছেন ?"
আমি বললাম দিদি 25 বৎসর পরে দেখা হোল কিন্তু আপনাদের ভুলতে পারিনি।
ভুলতে চেষ্টা করলেও ভুলতে পারতাম না।
উনি বললেন রায় চৌধুরী তোমার মুখে আবার এই দিদি ডাক টুকু শুনতে আমাকে 25 বৎসর অপেক্ষা করতে হল।
তুমিতো জানো যে আমার বাবা মা ,ভাই বোন কেউ নাই। একমাত্র তুমিই আমাকে দিদি বলে ডাকতে ,
আর তাই ওই দিদি ডাক শুনতে চাইতাম। তোমাদের সাহেব রিটায়ার করেছেন এক বৎসর হল।
এবার আমরাও চলেযাব দিল্লিতে ছেলেদের কাছে।
ওহ তোমাকেতো বলাই হয়নি , তোমার কি মনে আছে আজ থেকে 25 বৎসর আগে এক ঝড় বৃষ্টির রাত্রে তুমি দুটি ছেলেকে আমায় উপহার দিয়েছিলে। ঈশ্বর বোধ হয় সেই কারণেই আমার গর্ভে কোন সন্তান দেননি। ঈশ্বর নাদিলে কি হবে তুমি দিয়েছিলে আমাকে দুটি সন্তান।
আমরা সকল পুরোনো কথা মনে পরে গেল তাই জিজ্ঞাসা করলাম কেন সেই ছেলেদুটির মায়ের খোঁজ কি পাননি ? হ্যা ওদের মায়ের খোঁজ পেয়েছিলাম এক হসপিটালের মর্গে। সে নাকি ট্রেনেই মৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। সে যাইহোক ছেলে দুটি তাদের মা কে চিনতে পেরেছিলো।
পরে আমরা কোর্টে গিয়ে ওদের দত্তক নিয়েছিলাম।
আমি বললাম তা সেই ছেলে দুটি কোথায় ?
উনি বললেন ওরা আছে দিল্লিতে ,বড়ো ছেলেটি পি,এম সি,এইচ এর ডাক্তার।
আর ছোট ছেলেটি আর্কিটেচার ,সেও ভালো নাম করেছে।
ওরা লেখা পড়ায় বেশ ভালো ,মাধ্যমিক ও উচ্ছ মাধ্যমিকে দুজনেই ফোর্থ, ফিফ্থ হয়েছিল।
আর দিন দুই পরে আমরাও ওখানে চলে যাব। বড় ছেলেটির হাউস সার্জেন্টের ট্রেনিং শেষ হলেই ওর বিয়ে দেব। তোমাকে কিন্তু আসতেই হবে।
আমি বললাম আমি নিশ্চই যাব এমন রত্ন যুগল কে দেখতে নিশ্চই যাবো।
তাহলে বলুন আপনাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ রত্ন যুগল আমিই খুঁজে দিয়েছি।
সেদিন আমরা একসাথে ডিনার করলাম।
2006 এর ফেব্রূয়ারিতে গিয়ে ছিলাম দিল্লিতে।
দেখে আসলাম ওনাদের রত্ন ভান্ডার দুটিকে।
মিসেস রাজারাম নিজে গর্ভ ধারণ না করেও দুই রত্ন সন্তানের মা হয়ে জীবনে সকল সুখ
খুঁজে পেয়ে জীবন সার্থক করেছেন।
==========================================================
Comments
Post a Comment