613> || অদিতির এক টুকরো গল্প ||--w

     613>  || অদিতির এক টুকরো গল্প ||

               <--©➽--আদ্যনাথ-->


1969সাল তখন আমি প্রি-উনিভারসিটি পড়ি বি কে সি কলেজে।

বাবা রোজ কলেজে যাবার জন্য চার আনা করে দিত। তাই বাসে না গিয়ে পায়ে

হেটেই যেতাম কলেজে।

শর্টকার্টে যাবার জন্য বরানগর স্টেশনের 

কাছে লাইন পার হয়ে সতীন সেন নগর হয়ে কলেজে যেতাম।


সেদিন বর্ষা কাল ,দিন ক্ষণ মনে নাই।

রোজের মতন কলেজে যাচ্ছিলাম।

ফাস্ট পিরিয়ড অফ ছিল তাই বেলা সাড়ে এগারটা হবে, রেল লাইন পার হচ্ছিলাম।

সময়টা মনে থাকার কারণ ,এক্ষুণি শিয়ালদা  জম্বু তাওয়াই পাস করলো।

লাইনের দুই ধারেই বেশ জঙ্গল।

হঠাৎ শুনতে পেলাম এক শিশুর কান্নার আওয়াজ ।

আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম এবং কোথা থেকে 

আওয়াজ আসছে খুঁজে দেখবার চেস্টা

করতেই দেখি একটি কুকুর একটা কাপড়ের পোটলা মুখে করে টানছে।

আমি কাছে যেতেই কুকুর টা  সরে

গিয়ে দূরে দাঁড়িয়ে  রইলো।

আমি বুঝলাম যে ওই কাপড়ের পোটলার

ভিতরে কিছু আছে।

তাড়াতাড়ি পোটলাটা খোলার চেষ্টা করতেই বুঝতে পারলাম কেউ এখানে ফেলে গেছে ,সদ্যজাত শিশুটি কে।

পোটলা খুলতেই যেমনি ভাবা ঠিক তেমনি,দেখি একটি শিশু কন্যা রক্তমাখা কাপড়ে জড়ানো।

আমি কোনমতে তুলে নিলাম শিশু টিকে।

হঠাৎ এমন ঘটনাতে আমি কিমকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে কিছুই না ভেবে 

বাচ্চাটি নিয়ে সোজা সতীন সেন নগরের 

গোপালদের বাড়িতে এসে গোপালের মাকে সব কথা বললাম ।

গোপালের মা তাড়াতাড়ি বাচ্চাটিকে পরিষ্কার করে ঝিনুকে করে দুধ খাওয়ালেন। দুধ খাবার পরেই শিশুটি বোধহয় ঘুমিয়ে পড়লো।

গোপালের দাদা প্রদোষ দা পালপাড়া থানার একজন  সেকন্ড অফিসার।

উনি বাড়িতেই ছিলেন ।

উনি সব শুনে আমাকে নিয়ে বাচ্চাটি সহ

বরানগর স্টেশনে নিয়ে গিয়ে রেলওয়ে পুলিশের ডাইরিতে পুরো লিপি বদ্ধ করিয়ে 

ওখান থেকে পালপাড়া থানায় একটা ডাইরি করে আমরা ফিরলাম ।

আমি গোপালের মায়ের কাছে বাচ্চাটিকে রেখে চলে এসে ছিলাম।

এর প্রায় মাস দুয়েক পরে হঠাৎ গোপাল বললো আগামীকাল ওদের বাড়িতে যেতে।

আমি গেলাম গিয়ে দেখি গোপালদের বাড়িতে অনেক ভিড়।

কিছু পুলিশ ও কয়েকজন নেতা এবং কিছু বিশিষ্ঠ মানুষ উপস্থিত ।

এতক্ষনে ব্যাপারটা আমার কাছে পরিষ্কার হোল। 

জানলাম এক দম্পতি অনিমেষ ঘোষ ও ওনার স্ত্রী সেদিনের ওই শিশু কন্যাটিকে

যার নাম রেখেছে লীলা তাকে ওনারা

 দত্তক নিতে ইচ্ছুক।আর সেই কারণেই 

এত তোর জোর ।

যাইহোক সেদিন আইন সম্মত ভাবে  লীলা তার বাবা মা পেল।

আমিও বেশ খুশি হলাম ।

তার পরে সময়ের প্রবাহে দিন মাস বৎসর 

পার হয়ে গেল।

লীলা পড়াশুনায় বেশ ভালো ছিল।

ও বার ক্লাসে তিনটি লেটার পেয়ে 

ফাস্ট ডিভিশনে পাশ করেছিল।


সেদিন বিশেষ কারনে আমি R.G. KAR. 

হসপিটালে দাঁড়িয়ে আছি। 

আমার ভগ্নিপতি এখানে ভর্তি তাই দেখতে 

এসে ছিলাম ।শ্যামল দার সাথে দেখা করে 

এবার বাড়ি ফিরব।

হঠাৎ একজন নার্স আমার কাছে এসে 

পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে উদ্যত হল

আমি আবাক হয়ে সরেগিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কে আপনি ?

কেন প্রণাম করতে চাইছেন।

এত বলার পরে ভালো করে তাকিয়ে দেখি আরে" তুমি লীলা , তাই তো"

মেয়েটি সম্মত জানালো।

বললো হ্যাঁ আমি লীলা, তবে ওটা আমার বাড়ির নাম, এখন আমার নাম অদিতি।

লীলা অর্থাৎ অদিতি আজ নার্স হয়েছে জেনে ভীষণ ভালো লাগলো।

ওর কাছে থাকে ই জানলাম ওর বাবা মায়ের কথা। মনে সেই বরানগরের  নিয়োগী পাড়ার অনিমেষ ঘোষ

এবং তার স্ত্রী র সকল খবর।

( সত্য ঘটনা অবলম্বনে, কিন্তু নাম গুলি কাল্পনিক) 

=====<--©➽--আদ্যনাথ-->=====

==========================






Comments

Popular posts from this blog

618> || এক জন্ম দিন ||

626>||--দাদু ভাই--||

627>এক বর্ষার রাত::-