614> || একটু গল্প ||--w


  614> || একটু গল্প ||

         <--©➽--আদ্যনাথ-->

 ( সত্য ঘটনার অবলম্বনে )

সেদিন নাগপুর থেকে ফিরছি বোম্বেমেলে। বহু চেষ্টা করেও কোন এসি ক্লাসের টিকিট পাইনি।নন এসি থ্রিটিয়ারে কোনমতে একটা টিকিট যোগাড় হয়েছিল।নাগপুর স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছি ,ট্রেন আসবার খবর হয়ে গেছে। হঠাৎ কেউ আমার পিঠে টোকা মারল।আমি ঘুড়ে দেখতেই চিনতে পারলাম দিলীপ কে। দিলীপ আমার বন্ধু ,জানতাম যে ও রেলের টিটি এবং বিলাসপুর থাকে।আমি বেশ আনন্দ অনুভব করলাম এই ভেবে যে দিলীপের ডিউটি এই ট্রেনে, তাই ও যেভাবেই হোক একটা ব্যবস্থা করে দেবে।যেমনি ভাবা তেমনি দিলীকে বলতেই, আমাকে ফাস্ট এসি র একটা সিটে বসিয়ে দিল।এবং আমার টিকিট টা নিয়ে একটা টিকিট বানিয়ে দিল। আমিও এতে খুশি হলাম। কিন্তু সেদিন বোধহয় আমার ভাগ্য প্রসন্য ছিল না তাই মাঝ রাস্তায় ইঞ্জিন খারাপ হবার কারনে ট্রেন টি দাঁড়িয়ে গেল। তবুও কোনমতে ট্রেনটি বিলাস পুর পর্যন্ত আসলো প্রায় ছয় ঘন্টা দেরিকরে। আমি দিলীপের পরামর্শে বিলাস পুড়ে ব্রেকজারনি করলাম। দিলীপ নিজে গিয়ে টিকিট কাউন্টার থেকে টিকিট স্টাম্প  করিয়ে আনলো।স্টেশনে দিলীপ নিজের কিছু কাজ সেরে আমাকে নিয়ে গেল ওর কোয়াটারে । সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম,ওর মেয়ে হবার সময় ওর স্ত্রী মারা যান ।আর সেই থেকে দিলীপ ওর নিজের মাকে নিয়ে এসেছে বিলাসপুরে ওর কোয়াটারে।দিলীপের মা আমাকে চেনেন।স্কুলে পড়বার সময় আমি অনেক বারযোতিনদাস নগরে দিলীপের বাড়ি গিয়ে ছিলাম।দেখলাম দিলীপের মেয়েটি বেশ সুন্দর ও স্মার্ট। স্কুলে প্রতি বৎসর প্রথম হয়। এখন ক্লাস টু এ পড়ে।ওর মায়ের অনেক বয়স হয়েছে তবুও বেশসুন্দর করে ঘর গুছিয়ে রেখেছেন।রাত্রে দিলীপের মা আমায় অনুরোধ করলেন দিলীপের আবার বিয়ে দেবার জন্য।দিলীপ কিছুতেই আবার বিয়ে করতে চাইছে না। আমি আর কোথায় কি চেষ্টা করবো , তাই চুপ থাকলাম।রাত্রে খাবার টেবিলে  বসে দিলীপ জানাল যে বীরেনের মেয়ের বিয়ে পরশু শুক্র বার।আমারও মনে পোরে গেল হ্যাঁ বীরেন তো আমাকেও একটা কার্ড পাঠিয়ে নেমন্ত্রন করেছিল, তবে ধানবাদে বসে ধানপুরিতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করার কথা ভাবিনি। তবে এখন যখন বিলাস পুরে আছি আর তুই যাবি ভাবছিস তখন আমি আর বেগড়া দেই কেন, চল আমিও যাব।বীরেনের সাথে দেখাও হবে, প্রায় 12/14 বৎসর পরে।বিলাস পুর থেকে 4 ঘন্টার পথ ধানপুরী। বীরেন তো এক বিত্ত শালী মানুষ।বীরেনের এই বিত্ত শালী হবার পেছনে বেশ ভালো এক গল্প আছে, সে কথা পরে অন্য গল্পে শোনাব।শুক্রু বার  দিলীপ,দিলীপের মা, দিলীপের মেয়ে ও আমি এই চারজনে চললাম ধানপুরী একটা কার ভাড়া করে ।বেলা 4টায় আমরা পৌঁছে গেলাম বীরেনের বাড়িতে। বিশাল বাড়ি। বাড়িতেই বিশাল প্যান্ডেল হয়েছে।অজস্র মানুষের ভিড়।আমরা পৌঁছতেই বীরেন খবর পেয়ে দৌড়ে এল ।আমাকে পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে যাচ্ছিল ,আমি বাঁধা দিয়ে বীরেনকে জড়িয়ে ধরে আলিঙ্গন করলাম।বুঝতে পারলাম যে আমরা আসতে বীরেন ভীষণ খুশি হয়েছে। কারন বীরেন আমাকে সকলের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়লো।আর দেখলাম যে দিলীপ কে এখানে অনেকেই চেনে। যারা বিলাসপুর থেকে এসেছেন তারা অনেকেই দিলীপ কে চেনে।বীরেনের বউ এসে আমাকে প্রণাম করলো এবং কেমন আছি সে কথা জেনে দিলীপের মা ও মেয়েকে নিয়ে গেল ভেতরে।আমাকে নিয়ে বীরেন একটু বেশিই উৎসাহী হয়ে পড়াতে আমি একটু বিব্রত বোধ করতে লাগলাম । যাই হোক এত বড়লোকের বাড়ির বিয়ে বহু নিমন্ত্রিত ,এখনই প্রায় হাজার খানিক মানুষের ভিড়। এখনই এত ভিড় দেখে ভাবতে বাধ্য হলাম যে রাত্রে কি অবস্থা হবে।সামনে খোলা মাঠে বিশাল বিশাল আট দশ টি সামিয়ানা । এক একটি সামিয়ানা মনেহচ্ছিল এক একটি বিয়ে বাড়ি।ঘুরে ফিরে দেখলেম ,বীরের বললো সকলকেই যাতে ঠিক মতন আপ্যান করা হয় তার জন্য এমন ব্যবস্থা।মোটামুটি 100 খানা চুলা ।প্রত্যেক প্যান্ডেলে দশটি করে চুলা। আজ সকলের জন্য নিরামিষ খাবার ।আগামী কাল হবে আমিষ।এমন বিয়ে বাড়ির এলাহী ব্যাপারে বর্ননা করতে গেলে আসল কথাই বলা হবে না।তবে মুটামুটি সংক্ষেপে বলতে গেলে বলা ভালো যে কোন রাজা বাদশাহের বিয়ে বাড়িতেও বোধ হয় এই বিয়ে বাড়ির কাছে হার মানাবে। গত দশ দিন ধরে চলছে এমন এলাহী খান পিনার ব্যবস্থা।প্রতিটি সামিয়ানাতে রয়েছে অঢেল মহুয়া ও বিলিতি মদের ব্যবস্থা । যাইহোক ওসকলের বর্ননা আর না দিয়েআসল কথায় ফেরা যাক।

জানলাম বড় আসছে চিরিমিরী কোলিয়ারী থেকে। গোধূলি লগ্নে বিয়ে। কিন্তু রাত্রি আরটা পর্যন্ত বড় ও যাত্রীর কোন পাত্তা নাই। ফলে সকলেই ভীষণ উদ্বেগে অস্থির। লগ্ন পার হতে হতে দুঃসংবাদ  এলো বড় যাত্রীর গাড়ি তে ডাকাতি হয়েছে। গোলা গুলিও চলেছে।সব চাইতে দুঃখের খবর যে বরের বুকে গুলি লেগে বড় মারা গেছে। এমন দুঃসংবাদে বীরেন ও ওর বউ হাউ মাউ করে কেঁদে ভাসাচ্ছে।কি হবে কি উপায় হবে সেকথা ভেবেই সকলে অস্থির। হঠাৎ বীরেন এসে আমার পা ধরে ভীষণ কান্না কাটি শুরু করলো। আমি বার বার বোঝাতে চেষ্টা করলাম যে আমি কি করতে পারি।এখানে তো আমার  তেমন কোন পরিচিত  নাই যে যাতে করে এই বিপদ থেকে বীরেনের মেয়েকে আমি বাঁচাতে পারি। হঠাৎ বীরের বললো " দাদা  তুমিই পারো আমাকে রক্ষা করতে।" আমি বললাম ভুল করছো বীরেন আমি এখানে কি করতে পারি বলো। তখন বীরের আমার চোখ খুলে দিল বললো আমি যদি চাই তবে দিলীপের সাথে ওর মেয়ের বিয়ে দিতে পারি। আমি তৎক্ষণাৎ দিলীপের মায়ের কাছে গিয়ে ভিক্ষা চাইলাম।দিলীপের মা এক কথায় রাজি হয়ে গেল।তার পরে দিলিপকে রাজি করাতে আর বেশি কষ্ট করতে হয় নি।দিলীপ নিজেও খানিকটা মর্মাহত হয়েই একটি মেয়েকে বাঁচাতে এমন বিয়ে করতে রাজি হয়ে গেল।ব্যাস সেই রাতেই পরের লগ্নে দিলীপের বিয়ে হয়ে গেল।সকলেই খুশিতে খুব মজা করে করল। এদিকে আমিও আরও চার দিনের ছুটি বাড়িয়ে ।ধানবাদে ফিরলাম।সেদিন আমাকে সিঅফ করতে দিলীপ এর সাথে বীরেনও হাজির ছিল বিলাস পুড়ে। আবার দেখলাম বীরেন কান্নায় ভেঙে পড়ছে। তবে আজকের কান্না বীরেনের দুঃখের কান্না নয় ,এমন আনন্দের কান্নায় আমার চোখেও জল ভরে গেল।

(আমায় জীবনে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা)

=====<--©➽--আদ্যনাথ-->=====

==========================




Comments

Popular posts from this blog

618> || এক জন্ম দিন ||

626>||--দাদু ভাই--||

627>এক বর্ষার রাত::-