616>||-সামুহিক বিবাহ-||
616>||-একটি সামুহিক বিবাহ-||
<--©➽--আদ্যনাথ-->
সেদিন রবিবার বিকেলে আমি কোয়াটারে বসে কিছু লিখছিলাম।
শ্যামডির তিনটি ছেলে এসে হাজির। ওরা নুতন নুতন রাজনীতি তে নেমেছে তাই নিজেদের প্রচার ও গ্রামের মানুষের সাথে নিজেদের পরিচয় বাড়া তে ব্যস্ত।
আজ ৮ জানুয়ারী ২০০৬ এসে বললো ওরা এসে বললো " বাবা থোৱা মদত চাহিয়ে ,"
আমি কিছু জানতে চাইলে ওরা বললো যে কিছু "লেড়কা লেড়কি কা সাদি করানা হায়।"
সব ঠিক ঠাক চলছিল,মেয়েদের পক্ষে দশ ঘর সকলের তাঁদের নিজের মতন যে যার হবু জামাই বেছে নিয়েছে। ছেলেরা ও যে যার মতন হবু স্ত্রী দেখে কথা বলে নিয়েছে। দীর্ঘ তিন মাস অনেক কষ্টে দশটি মেয়ের জন্য দশটি ছেলে জোগাড় করতে পেরেছি। তবে দুই এক জনের একটু কাই কুই আছে।
যেমন সতীশ টুডু সে কাজ করে এম ই সি অল এতে। ( মিনারেলস সক্সপ্লোরেশন করপোরেশন লিমিটেড)। গত ছয় মাস হল পার্মানেন্ট হয়েছে। এখন বিলাস পুরে পোস্টিং ।
আর ধনঞ্জয় বাউড়ি কাজ করে সি এম পি ডি আই এল য়ে। মহুদায় পোস্টিং ( সেন্ট্রাল/কোল মাইন প্লানিং এন্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউট লিমিটেড) এখনো পার্মানেন্ট হয়নি তবে যতদূর খবর নিয়েছি তাতে করে আগামী দুই এক মাসেই পার্মানেন্ট হয়ে যাবে।
ওই ধনঞ্জয় একটু বেগরা দিচ্ছে। আমি একটু অবাক হচ্ছিলাম কারন ধনঞ্জয় আমার কথা ফেলতে পারবেনা। ওনিজে আমাকে ভীষণ ভক্তি শ্রদ্ধা করে। আর যেহেতু ওর চাকুরিটা আমি করেদিয়ে ছিলাম সেই কারণে ওর বাবাও একটু মান্য করে। তবে রোজ সন্ধ্যার পরে ধেনো গিলে নেশা করে মাতাল হয়ে থাকে তখন অনেক উল্টা পুলটা বকে। এইতো সেদিন ধনঞ্জয়এর বাবা মাতাল হয়ে ওর স্ত্রী কে খুব মেরেছে। সেইনিয়ে ধনঞ্জয় নিজে এসে আমাকে অনুরোধ করে গেছে ওর বাবাকে একটু সুধরাবার জন্য।
আমি মাঝে মাঝেই ওনাকে বোঝাই তা সকালে ঠিক বোঝে। অনেক দিব্বি টিব্বি কাটে কিন্তু সন্ধ্যা
হলেই খেত থেকে ফিরে একদম অন্য মানুষ হয়ে যায়।
ওই মদের ভাটি টা বন্ধ কাবার অনেক চেষ্টা করেছি , কিন্তু পারিনি। অনেক বার পুলিশ দিয়েও চেষ্টা করেছি পুলিশ যায় সব ভেঙে ছুড়ে দুই চারটাকে আরেস্ট করে। কিন্তু আবার ছাড়া পেয়েই শুরু করে।
ওদের শায়েস্তা করতে প্রশাসন হিমশিম। কিছুতেই কিছু হয় না।সবাই বলে নেতারা দায়ী। আমি নিজে জানি নেতারাও বহু চেষ্টা করেছে ওই ভাটি বন্ধ করতে, পারেনি, আসলে এক শ্রেণীর মানুষ আসছে
যারা পয়সার লোভে কিছু মানুষ কে দিয়ে এমন কাজ করায়। নেতা বা পুলিশ তাদের সদিচ্ছা থাকলেও
কেউ কিছুই করতে পারেনা।এক অলিখিত অভাবনীয় শক্তি এদের মদত যোগায়।
সেদিন রবিবার বিকেলে আমি কোয়াটারে বসে কিছু লিখছিলাম।
শ্যামডির তিনটি ছেলে এসে হাজির। ওরা নুতন নুতন রাজনীতি তে নেমেছে তাই নিজেদের প্রচার ও গ্রামের মানুষের সাথে নিজেদের পরিচয় বাড়া তে ব্যস্ত।
আজ ৮ জানুয়ারী ২০০৬ এসে বললো ওরা এসে বললো " বাবা থোৱা মদত চাহিয়ে ,"
আমি কিছু জানতে চাইলে ওরা বললো যে কিছু "লেড়কা লেড়কি কা সাদি করানা হায়।"
সব ঠিক ঠাক চলছিল,মেয়েদের পক্ষে দশ ঘর সকলের তাঁদের নিজের মতন যে যার হবু জামাই বেছে নিয়েছে। ছেলেরা ও যে যার মতন হবু স্ত্রী দেখে কথা বলে নিয়েছে। দীর্ঘ তিন মাস অনেক কষ্টে দশটি মেয়ের জন্য দশটি ছেলে জোগাড় করতে পেরেছি। তবে দুই এক জনের একটু কাই কুই আছে।
যেমন সতীশ টুডু সে কাজ করে এম ই সি অল এতে। ( মিনারেলস সক্সপ্লোরেশন করপোরেশন লিমিটেড)। গত ছয় মাস হল পার্মানেন্ট হয়েছে। এখন বিলাস পুরে পোস্টিং ।
আর ধনঞ্জয় বাউড়ি কাজ করে সি এম পি ডি আই এল য়ে। মহুদায় পোস্টিং ( সেন্ট্রাল/কোল মাইন প্লানিং এন্ড ডিজাইন ইনস্টিটিউট লিমিটেড) এখনো পার্মানেন্ট হয়নি তবে যতদূর খবর নিয়েছি তাতে করে আগামী দুই এক মাসেই পার্মানেন্ট হয়ে যাবে।
ওই ধনঞ্জয় একটু বেগরা দিচ্ছে। আমি একটু অবাক হচ্ছিলাম কারন ধনঞ্জয় আমার কথা ফেলতে পারবেনা। ওনিজে আমাকে ভীষণ ভক্তি শ্রদ্ধা করে। আর যেহেতু ওর চাকুরিটা আমি করেদিয়ে ছিলাম সেই কারণে ওর বাবাও একটু মান্য করে। তবে রোজ সন্ধ্যার পরে ধেনো গিলে নেশা করে মাতাল হয়ে থাকে তখন অনেক উল্টা পুলটা বকে। এইতো সেদিন ধনঞ্জয়এর বাবা মাতাল হয়ে ওর স্ত্রী কে খুব মেরেছে। সেইনিয়ে ধনঞ্জয় নিজে এসে আমাকে অনুরোধ করে গেছে ওর বাবাকে একটু সুধরাবার জন্য।
আমি মাঝে মাঝেই ওনাকে বোঝাই তা সকালে ঠিক বোঝে। অনেক দিব্বি টিব্বি কাটে কিন্তু সন্ধ্যা
হলেই খেত থেকে ফিরে একদম অন্য মানুষ হয়ে যায়।
ওই মদের ভাটি টা বন্ধ কাবার অনেক চেষ্টা করেছি , কিন্তু পারিনি। অনেক বার পুলিশ দিয়েও চেষ্টা করেছি পুলিশ যায় সব ভেঙে ছুড়ে দুই চারটাকে আরেস্ট করে। কিন্তু আবার ছাড়া পেয়েই শুরু করে।
ওদের শায়েস্তা করতে প্রশাসন হিমশিম। কিছুতেই কিছু হয় না।সবাই বলে নেতারা দায়ী। আমি নিজে জানি নেতারাও বহু চেষ্টা করেছে ওই ভাটি বন্ধ করতে, পারেনি, আসলে এক শ্রেণীর মানুষ আসছে
যারা পয়সার লোভে কিছু মানুষ কে দিয়ে এমন কাজ করায়। নেতা বা পুলিশ তাদের সদিচ্ছা থাকলেও
কেউ কিছুই করতে পারেনা।এক অলিখিত অভাবনীয় শক্তি এদের মদত যোগায়।
এইতো সেদিন হঠাৎ জানতে পারলাম যে টুনডুর এক পরিত্যক্ত খাদানে , রম রমিয়ে চলছে ভাটি। এতে যেকোন সময়ে আগুন লাগার ভয়ে কলিআরির মেনেজার সহ আমরা সবাই মিলে পুলিশ নিয়ে গিয়ে
বন্ধ করে আসলাম ভাটি।
সেদিন কাউকে আরেস্ট করতে পারেনি কারন ওরা খদানের ভেতরে ভেতরে
পালিয়ে গেছে। থাক ওসকল কথা ।
আজকাল তো বিহার গভর্মেন্ট মদের লাইসেন্স বন্ধ করে দিয়েছে। ঝাড়খন্ড সরকার ও এমন করলে হয়তো উপকার হতো।সে যাই হোক এবারে আসল কথায় ফিরে যাই।
আসল ব্যাপারটা অনেক পরে বুঝলাম। ধনঞ্জয়ের বাবা, চাইছে একটি
রাজদূত মটর সাইকেল কারন তার ছোট ছেলের বায়না। এই সকল সামুহিক বিবাহে একটাই মুশকিল
কাউকে কিছু আলাদা করে দেওয়া যায় না। যা দেবার সকলকে সমান দিতে হবে। ওদিকে ধনঞ্জয়এর বাবা বিগড়েছে। তিনি একটা রাজদূত না পেলে কোনমতেই ছেলের বিয়ে মেনে নেবে না। এখনএমন এক পরিস্থিতি তে এসে পড়তে হল যে রাজদূত দিতেই হবে নাহলে বিয়ে ক্যান্সেল হয়েযাবার উপক্রম ।
এই বিয়ে কেন্সেল হলে আবার নুতন করে ছেলে জোগাড় করা ।এমন ঝঞ্ঝাটে পড়তে হবে বুঝিনি।
এখন কোন অল্টারনেটিভ ব্যাবস্থাও নাই।
মন থেকে চাইলে অনেক সময় ঈশ্বর অনেক কাজ সহজ করে দেন।এখানেও ঠিক তেমনি এক ঘটনা ঘটলো যার কারনে আমরাও সুরাহার রাস্থা পেলাম। ধনঞ্জয়এর কাকার ছেলে বাইক নিয়ে হঠাৎ করে একসিডেন্ট করে হসপিটালে। খবর পেয়ে ধনঞ্জয়এর বাবা ,কাকা সকলে হসপিটালে পৌঁছে গেল, আমিও সেই সুযোগ নিলাম। ওনারা ছেলেকে দেখে বেশ চিন্তিত হয়ে আমার কাছে আসলো এবং বললেন যেন ডাক্তারের সাথে কথা বলে কিছু করতে। আমি ওনাদের অনেক আশ্বাসন দিলাম।
আমার আশ্বাসনের ফলে ওনারা খানিকটা স্বস্তি বোধ করে আমাকে বললেন দাদা ছোট ছেলে জতোই বায়না করুক আমি আর বাইক চাইনা। আমি বললাম এটাতো সত্যিই ভালো কথা। ঠিক আছে আমি কথা দিচ্ছি বিয়ের পরে, আপনার ছোট ছেলে দশক্লাস পাশ করলেই আমি ওকে আটো কিনে দেব।
আটো চালালে ওর শখও মিটবে ঘরে দুইপয়সা আসবে।
ওরা সকলেই এবারে বিয়ের মত দিয়ে দিল।
এখন বাঁধা রইল কেবল একটা সতীশ টুডু, সতীশের সমস্যা একটাই ।ওর কথা হল নিজে 12ক্লাশ পাস আর ওর বউ B.A.পাশ।এটা সতীশ মেনে নিতে পারছে না ।
বউ বেশি পাশ করা হলে লোকে কি বলবে।
আমি ওদের বুঝিয়ে বললাম দেখো এতে দুটি লাভ হতে পারে। এক বিবাহের পরে তুমিও নিজে পড়াশুনা করে B.A.পাশ করে নিতে পার।
আর তা নাহলে তোমার বউও কোন চাকরী করতে পারবে। এবং বর্তমানে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা জানা বিশেষ দর কার। আর কিছু না হোক আন্তত নিজের সন্তানদের তো পড়াতে পারবে। প্রাইভেট মাস্টার রাখতে হবে না। এ ছাড়া তুমি যে ক্যাম্প এতে আছো। বিলাস পুরের ওই ক্যাম্পে বর্তমানে ড্রিলার ইন চার্জ মোহিত বাবু, তোমার সাথে নিশ্চই পরিচয় আছে। একটু খোঁজ নিয়ে জেনে নিও তোমারে ড্রিলার
মোহিত বাবু মাত্র এইট পাশ, কিন্তু ওনার স্ত্রী M.A পাশ, কলেজের লেকচারার। ওনার বড় ছেলে বর্তমানে U.S.A.তে আছে। দুই মেয়ে দুজনেই চাকরি করে। একজন বি,এস,এন,এল য়ে আর একজন ইউ,বি,আই ব্যাংকে। দুজনেই কোলকাতায় থাকে। তবে বলো তোমার অসুবিধা কোথায় । কে খোঁজ নিতে যাচ্ছে তোমার বউ কতো পড়াশুনা করেছে ! তার পরে যদি ভগবানের কৃপায় তোমার বউ কোন চাকুরী পেয়েজায় তবে তো লোকে তোমাকে হিংসা করবে। উদাহরণ দেবে। তোমার সম্মান বেড়ে যাবে সেটা ভেবেছো একবার? তথাপি সতীশ কোন কথা না বলে চুপ করে ছিল।শেষে আমাকে বলতে হল।
ঠিক আসছে তুমি আমাকে বিশ্বাস করতো। যদি তোমাকে কেউ হিংসা নাকরে টিটকারি করে তবে তার দায়িত্ব সম্পুর্ন আমার। এবারে সতীশ মুখ খুললো। বললো অন্য কেউ নয় ওর ছোট বোনের ভীষণ আপত্তি। আমি বললাম দেখো তুমি কতো কষ্ট করে তোমার বোনকে বিয়ে দিয়ে ছিলে।
আমরাও কতো করে ওকে একটু পড়াশুনা করতে বলে ছিলাম। কিন্তু ও কারুর কোন কথাই শুনলো না। তবুও সকলের চেষ্টায় অত সুন্দর ছেলের সাথে বিয়ে হোল।
দেখো তোমার বোন ওখানে থাকতে রাজি নয় ও নিজে একা সংসার করতে চায়। কিন্তু ওর স্বামী সত্যি ছেলেটি খুব ভালো। তাই ও চায়নি বউয়ের কথায় বুড়ো বাপ মাকে ছেড়ে থাকতে। ওর কি অসুবিধা ছিল বলো ? ওই তো ওরা সকলে মিলে চার জন। বুড়ো বাপ মা আর ওরা দুইজন। তাও পারলোনা ঘর করতে।
এখন তোমাদের জ্বালাচ্ছে। আশাকরি তোমরা ভালো ভাবেই যান যে তোমার বোনের আসল সমস্যা ওই লম্পট ছেলেটি। আমি তোমার বাবাকে বলে ছিলাম এভাবে দুটো সংসার না ভেঙে ওকে বিয়ে দিয়ে দিন ওই লম্পট ছেলেটির সাথে। তোমার বাবা বিচক্ষণ মানুষ উনি জানেন বিয়ে দিলে ওই ছেলে তোমাদের বাড়িতেই উঠবে। কারন ওর বাবা তো আরেকটা বিয়ে করে কোথায় চলে গেছে কেউ জানেনা।
আগে বলো তোমার বাবা যদি মেয়ের তরফে কোন অমতের ব্যাপার থাকলে বলো।
আর আমি তো বলবো তোমার উচিত তোমার ছোট দুই ভাই এবং ছোট বোনের চিন্তা করা।
তুমি যদি চাও তোমার ঐ এক বোনের খাম খেয়ালির জন্য তোমার পুরো সংসার টা বরবাদ হয়ে যাক , তাহলে আমার বলবার কিছুই নাই। দেখো চিন্তা করে তুমি কি করবে । তবে যাই করোনা কেন আমাকে দুই চার দিনের মধ্যে জানাবে। আশা করি এইটুকু সহযোগিতা তুমি করবে।
এতো করে বলার পরে একদিন পরেই সতীশ নিজে এসে আমার কাছে কেঁদে কেটে মাফ চাইলো।
এবং বিয়েতে মত দিয়ে দিল। আমি সতীশের বাবার কাছে গিয়ে সব কথা বলে আসলাম। সতীশের বাবার এক কথা "দেখুন আমিতো প্রথম থেকেই রাজি। কারন আমি তো দেখেছি আপনারা আজ পর্যন্ত যত গুলি বিয়ে দিয়েছেন কারুর কোন সমস্যা হয় নি, সকলেই খুব ভালো আছে।"
আমি বললাম দেখুন আমরা সবদিক দেখে শুনে ভালো করে খোঁজ খবর নিয়ে তবেই ছেলে মেয়ে দুজনকেই বাছি। তাই গড়বড় হবার চান্স কম থাকে যেটুকু সমস্যা থাকে তাও যথাসাধ্য মিটিয়ে দেই।
এইযে আপনার ছেলেকে বোঝাতে আমাকে দুইবার বিলাসপুর যেতে হোল।
যাই হোক শেষে ঈশ্বরের ইচ্ছাতে সব ঠিক হয়ে গিয়েছিল ।
বিবাহের নির্দিষ্ঠ নিয়ম-------
এবারে মোট 10টি ছেলে ও 10 টি মেয়ের বিবাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সর্ব সকুল্যে 5 লাখ থেকে 6লাখ খরচ হতে পারে এমন ভাবনা ছিল।
তবে বাজার দর হিসাবে এর থেকে বেশিও হতে পারে ।
আমাদের টার্গেট তাই ₹ 6 লাখ টাকা ধরেছি লাম।
তবে সকলের শেষে আমাদের খরচ হয়ে ছিল
সাড়ে পাঁচ লাখ।
অর্থাৎ প্রতি জোড়া ছেলে মেয়ে র জন্য খরচ হয়ে ছিল ₹ 55,000/-টাকা করে।
ছেলেদের দেওয়া হয়েছে আন্টি,ঘড়ি,ধুতি গেঞ্জি গামছা। মেয়েদের দেওয়া হয়েছে গলার চেন,আন্টি,
শাড়ি,সায়া ব্লাউজ, গামছা। আর ছেলে,ও মেয়ে মাথা পিছু 50 জন নিমন্ত্রিত ছিল।
খাদ্য সামগ্রী পুরী,সবজি,বুন্দিয়া, দই।
বিবাহের পরে পাত্র পাত্রী সহ বাড়ির লোকদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়ে ছিল।
বন্ধ করে আসলাম ভাটি।
সেদিন কাউকে আরেস্ট করতে পারেনি কারন ওরা খদানের ভেতরে ভেতরে
পালিয়ে গেছে। থাক ওসকল কথা ।
আজকাল তো বিহার গভর্মেন্ট মদের লাইসেন্স বন্ধ করে দিয়েছে। ঝাড়খন্ড সরকার ও এমন করলে হয়তো উপকার হতো।সে যাই হোক এবারে আসল কথায় ফিরে যাই।
আসল ব্যাপারটা অনেক পরে বুঝলাম। ধনঞ্জয়ের বাবা, চাইছে একটি
রাজদূত মটর সাইকেল কারন তার ছোট ছেলের বায়না। এই সকল সামুহিক বিবাহে একটাই মুশকিল
কাউকে কিছু আলাদা করে দেওয়া যায় না। যা দেবার সকলকে সমান দিতে হবে। ওদিকে ধনঞ্জয়এর বাবা বিগড়েছে। তিনি একটা রাজদূত না পেলে কোনমতেই ছেলের বিয়ে মেনে নেবে না। এখনএমন এক পরিস্থিতি তে এসে পড়তে হল যে রাজদূত দিতেই হবে নাহলে বিয়ে ক্যান্সেল হয়েযাবার উপক্রম ।
এই বিয়ে কেন্সেল হলে আবার নুতন করে ছেলে জোগাড় করা ।এমন ঝঞ্ঝাটে পড়তে হবে বুঝিনি।
এখন কোন অল্টারনেটিভ ব্যাবস্থাও নাই।
মন থেকে চাইলে অনেক সময় ঈশ্বর অনেক কাজ সহজ করে দেন।এখানেও ঠিক তেমনি এক ঘটনা ঘটলো যার কারনে আমরাও সুরাহার রাস্থা পেলাম। ধনঞ্জয়এর কাকার ছেলে বাইক নিয়ে হঠাৎ করে একসিডেন্ট করে হসপিটালে। খবর পেয়ে ধনঞ্জয়এর বাবা ,কাকা সকলে হসপিটালে পৌঁছে গেল, আমিও সেই সুযোগ নিলাম। ওনারা ছেলেকে দেখে বেশ চিন্তিত হয়ে আমার কাছে আসলো এবং বললেন যেন ডাক্তারের সাথে কথা বলে কিছু করতে। আমি ওনাদের অনেক আশ্বাসন দিলাম।
আমার আশ্বাসনের ফলে ওনারা খানিকটা স্বস্তি বোধ করে আমাকে বললেন দাদা ছোট ছেলে জতোই বায়না করুক আমি আর বাইক চাইনা। আমি বললাম এটাতো সত্যিই ভালো কথা। ঠিক আছে আমি কথা দিচ্ছি বিয়ের পরে, আপনার ছোট ছেলে দশক্লাস পাশ করলেই আমি ওকে আটো কিনে দেব।
আটো চালালে ওর শখও মিটবে ঘরে দুইপয়সা আসবে।
ওরা সকলেই এবারে বিয়ের মত দিয়ে দিল।
এখন বাঁধা রইল কেবল একটা সতীশ টুডু, সতীশের সমস্যা একটাই ।ওর কথা হল নিজে 12ক্লাশ পাস আর ওর বউ B.A.পাশ।এটা সতীশ মেনে নিতে পারছে না ।
বউ বেশি পাশ করা হলে লোকে কি বলবে।
আমি ওদের বুঝিয়ে বললাম দেখো এতে দুটি লাভ হতে পারে। এক বিবাহের পরে তুমিও নিজে পড়াশুনা করে B.A.পাশ করে নিতে পার।
আর তা নাহলে তোমার বউও কোন চাকরী করতে পারবে। এবং বর্তমানে ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা জানা বিশেষ দর কার। আর কিছু না হোক আন্তত নিজের সন্তানদের তো পড়াতে পারবে। প্রাইভেট মাস্টার রাখতে হবে না। এ ছাড়া তুমি যে ক্যাম্প এতে আছো। বিলাস পুরের ওই ক্যাম্পে বর্তমানে ড্রিলার ইন চার্জ মোহিত বাবু, তোমার সাথে নিশ্চই পরিচয় আছে। একটু খোঁজ নিয়ে জেনে নিও তোমারে ড্রিলার
মোহিত বাবু মাত্র এইট পাশ, কিন্তু ওনার স্ত্রী M.A পাশ, কলেজের লেকচারার। ওনার বড় ছেলে বর্তমানে U.S.A.তে আছে। দুই মেয়ে দুজনেই চাকরি করে। একজন বি,এস,এন,এল য়ে আর একজন ইউ,বি,আই ব্যাংকে। দুজনেই কোলকাতায় থাকে। তবে বলো তোমার অসুবিধা কোথায় । কে খোঁজ নিতে যাচ্ছে তোমার বউ কতো পড়াশুনা করেছে ! তার পরে যদি ভগবানের কৃপায় তোমার বউ কোন চাকুরী পেয়েজায় তবে তো লোকে তোমাকে হিংসা করবে। উদাহরণ দেবে। তোমার সম্মান বেড়ে যাবে সেটা ভেবেছো একবার? তথাপি সতীশ কোন কথা না বলে চুপ করে ছিল।শেষে আমাকে বলতে হল।
ঠিক আসছে তুমি আমাকে বিশ্বাস করতো। যদি তোমাকে কেউ হিংসা নাকরে টিটকারি করে তবে তার দায়িত্ব সম্পুর্ন আমার। এবারে সতীশ মুখ খুললো। বললো অন্য কেউ নয় ওর ছোট বোনের ভীষণ আপত্তি। আমি বললাম দেখো তুমি কতো কষ্ট করে তোমার বোনকে বিয়ে দিয়ে ছিলে।
আমরাও কতো করে ওকে একটু পড়াশুনা করতে বলে ছিলাম। কিন্তু ও কারুর কোন কথাই শুনলো না। তবুও সকলের চেষ্টায় অত সুন্দর ছেলের সাথে বিয়ে হোল।
দেখো তোমার বোন ওখানে থাকতে রাজি নয় ও নিজে একা সংসার করতে চায়। কিন্তু ওর স্বামী সত্যি ছেলেটি খুব ভালো। তাই ও চায়নি বউয়ের কথায় বুড়ো বাপ মাকে ছেড়ে থাকতে। ওর কি অসুবিধা ছিল বলো ? ওই তো ওরা সকলে মিলে চার জন। বুড়ো বাপ মা আর ওরা দুইজন। তাও পারলোনা ঘর করতে।
এখন তোমাদের জ্বালাচ্ছে। আশাকরি তোমরা ভালো ভাবেই যান যে তোমার বোনের আসল সমস্যা ওই লম্পট ছেলেটি। আমি তোমার বাবাকে বলে ছিলাম এভাবে দুটো সংসার না ভেঙে ওকে বিয়ে দিয়ে দিন ওই লম্পট ছেলেটির সাথে। তোমার বাবা বিচক্ষণ মানুষ উনি জানেন বিয়ে দিলে ওই ছেলে তোমাদের বাড়িতেই উঠবে। কারন ওর বাবা তো আরেকটা বিয়ে করে কোথায় চলে গেছে কেউ জানেনা।
আগে বলো তোমার বাবা যদি মেয়ের তরফে কোন অমতের ব্যাপার থাকলে বলো।
আর আমি তো বলবো তোমার উচিত তোমার ছোট দুই ভাই এবং ছোট বোনের চিন্তা করা।
তুমি যদি চাও তোমার ঐ এক বোনের খাম খেয়ালির জন্য তোমার পুরো সংসার টা বরবাদ হয়ে যাক , তাহলে আমার বলবার কিছুই নাই। দেখো চিন্তা করে তুমি কি করবে । তবে যাই করোনা কেন আমাকে দুই চার দিনের মধ্যে জানাবে। আশা করি এইটুকু সহযোগিতা তুমি করবে।
এতো করে বলার পরে একদিন পরেই সতীশ নিজে এসে আমার কাছে কেঁদে কেটে মাফ চাইলো।
এবং বিয়েতে মত দিয়ে দিল। আমি সতীশের বাবার কাছে গিয়ে সব কথা বলে আসলাম। সতীশের বাবার এক কথা "দেখুন আমিতো প্রথম থেকেই রাজি। কারন আমি তো দেখেছি আপনারা আজ পর্যন্ত যত গুলি বিয়ে দিয়েছেন কারুর কোন সমস্যা হয় নি, সকলেই খুব ভালো আছে।"
আমি বললাম দেখুন আমরা সবদিক দেখে শুনে ভালো করে খোঁজ খবর নিয়ে তবেই ছেলে মেয়ে দুজনকেই বাছি। তাই গড়বড় হবার চান্স কম থাকে যেটুকু সমস্যা থাকে তাও যথাসাধ্য মিটিয়ে দেই।
এইযে আপনার ছেলেকে বোঝাতে আমাকে দুইবার বিলাসপুর যেতে হোল।
যাই হোক শেষে ঈশ্বরের ইচ্ছাতে সব ঠিক হয়ে গিয়েছিল ।
বিবাহের নির্দিষ্ঠ নিয়ম-------
এবারে মোট 10টি ছেলে ও 10 টি মেয়ের বিবাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
সর্ব সকুল্যে 5 লাখ থেকে 6লাখ খরচ হতে পারে এমন ভাবনা ছিল।
তবে বাজার দর হিসাবে এর থেকে বেশিও হতে পারে ।
আমাদের টার্গেট তাই ₹ 6 লাখ টাকা ধরেছি লাম।
তবে সকলের শেষে আমাদের খরচ হয়ে ছিল
সাড়ে পাঁচ লাখ।
অর্থাৎ প্রতি জোড়া ছেলে মেয়ে র জন্য খরচ হয়ে ছিল ₹ 55,000/-টাকা করে।
ছেলেদের দেওয়া হয়েছে আন্টি,ঘড়ি,ধুতি গেঞ্জি গামছা। মেয়েদের দেওয়া হয়েছে গলার চেন,আন্টি,
শাড়ি,সায়া ব্লাউজ, গামছা। আর ছেলে,ও মেয়ে মাথা পিছু 50 জন নিমন্ত্রিত ছিল।
খাদ্য সামগ্রী পুরী,সবজি,বুন্দিয়া, দই।
বিবাহের পরে পাত্র পাত্রী সহ বাড়ির লোকদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়ে ছিল।
----------------------------------<--©➽--আদ্যনাথ রায় চৌধুরী -->------------------
==================================================================
Comments
Post a Comment