622>|| আমার আমিকে খুঁজে পাওয়া ||
622>|| আমার আমিকে খুঁজে পাওয়া ||
আমার প্রিয় সাথী,যাকে পেয়েছি অনেক চিন্তার জাল বুনে। অনেক গোপনে ঈশ্বরের অপূর্ব সৃষ্টির একটু অংশীদার হয়ে। সেদিনের সেই না বলা কথা, কিছু কথা, কিছু ভাললাগা, কিছু হঠাৎ দেখা,সেই এক ঝলকের দেখা।
সেই মুহূর্তের দেখার স্মৃতির আবেশ
আজও মনে আছে। হয়তো সারা জীবন রয়ে যাবে মনের গভীরে। সময় দিন, মাস, বৎসর, পার হয়ে যায় মনের সেই দাগ মন বয়ে বেড়ায় নীরবে। কালের গতি চলতেই থাকে মন কিন্তু ভুলতে পারেনা ক্ষনিকের সেই দেখা,যেন গভীর ঘুমে স্বপ্ন দেখা।
পথ চলতে চলতে হঠাৎ সেই এক ঝলক দেখা, জীবন যেন থেমেজায়, সব গতি বোধহয় থেমেজায়। মন কিন্তু ভুলতে পারেনা সেই হঠাৎ সেই ক্ষনের দেখা।
সেই লাল ফ্রক পরা---টুকটুকে লাল ফ্রক পরা,একমাথা কালো চুলে, কুচ-কুচে কালো চুলে দৌড়ে বেড়ানো ছোট্ট মেয়েটি, উঠনের এক মাথা থেকে অন্য দিকে দৌড়ে বেড়ান সেই লাল ফ্রক পরা মেয়েটি, একমাথা কালো চুলে। কি অপূর্ব ছিলো সেই মুহূর্তের ছবি।সারাজীবন, আজও গেঁথে আছে মনের গভীরে সেই ছবি।
তখন আমি মহুদাতে টাটা কোম্পানির নামে এক ড্রিলিং কোম্পানিতে সবে কাজে যোগ দিয়েছে। সেই সময় একদিন
বিশেষ এক কাজে যাচ্ছিলাম উলিডি হসপিটালে, তপন মালাকারের ( এক জানা পরিচিত মানুষ যার নামটা ভুলে গেছি ) সাথে দেখা করতে।
টাটা,জামশেদ পুর, মানগোবাজারে কাছে উলিডি রোডে,
সে কেন যাচ্ছিলাম কি কাজ ছিলো সে সকল আজ ভুলে গেছি । কিন্তু পথে হঠাৎ ঘটেযাওয়া ঘটনা, চোখে দেখা এক ঝলক সেই মুহূর্তের দেখা আজও পারিনি ভুলতে।
মন,প্রাণ,সময়, যেন সেদিনের সেই সময়েই থেমে আছে। আজও সেই স্মৃতি স্পষ্ট মনে আছে।
আজ আর কিকরে ভুলবো।
কারণ সেই একঝলক দেখার স্মৃতি মনে মনে যে স্বপ্নের জাল বুনেছিলাম,যে ইচ্ছা মনে মনে, নিজের মনে গোপনে স্মৃতির ফ্রেমে বাঁধিয়ে রেখে ছিলাম মনের গভীরে।
তার স্বার্থকতা খুঁজে পেয়েছিলাম, যা চেয়েছিলাম তাতো পেয়েছি।
ভাগ্য দেবতা কোন চাওয়াই অপূর্ন রাখেনি।
হ্যাঁ একথা অতি সত্যি যে আমার মনের কোন চাওয়াই অপূর্ন থাকেনি।
যা চেয়েছি সবই পেয়েছি। সেই চাহিদা পূরণের জন্য যা যা করণীয় সবই করেছি,এবং চাহিদা পূরণের সহায়তা করার জন্য মনে মনে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিস্ময়ে অবাক হয়েছি সৃষ্টির অপূর্ব সকল সৃষ্টির জন্য। যে গুলি পাওয়ার জন্য মন ব্যাকুল হয়ে
কি-আসাধ্যইনা করতে পারে। তাইতো আজ ভাবতে পারি যে মানুষের অসাধ্য কোন কাজই নাই।
সেদিন আমি মনে মনে স্থির কিরেছিলাম যে জীবনে যদি বিবাহ করতেই হয় তবে সেই মেয়েটিমেই বিয়ে করবো, সেই লাল ফ্রক পরা, একমাথা কালো চুল সেই দৌড়ে বেড়ানো মেয়েটি কে। সেই উলিডিহ রোডের সেই ঠাকুর বাড়ির মেয়েটি। আজও সে দৌড়ে বেড়ায় চোখের সামনে, মনের গভীরে।
যদিও আজ সকল অতীত স্মৃতি হয়ে গেছে বয়সের ভারে।
তবুও সেই স্মৃতি আজও দৌড়ে বেড়ায় মনের গভীরে।সেই এক ঝলক লাল ফ্রক পরা এক মাথা কালো চুলে।
আমার আমিকে খুঁজে পাওয়া, মনের সকল ইচ্ছা পূরণের তৃপ্তিতে মন ভরে যাওয়া। আমার আমিকে খুঁজে পাওয়া।
পরের ঘটনা গুলি যেন কাকতলীয় ভাবে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা।
আমার বন্ধু তথা আমাদের পাশের বারির তরুণ। এই তরুণের সহ কর্মী ছিলেন সবিতার মামা,
যাদব মামা। একদিন তরুণ নিয়ে আসলো
সেই ঠিকানা। যেন কোন গল্পের মতন ঘটে গেল সেই ঘটনা।আমিও পেয়েগেলাম মনের সুপ্ত ঠিকানা। মনের সুপ্ত ইচ্ছা পূরণের সুযোগ। এমনটাই বুঝি সেই বিধির বিধান।
তখন তো জামশেদ পুর, টাটা, ছিলো বিহারে। 2000 সালথেকে হয়েছে ঝাড়খন্ড।
কলকাতার ছেলের শশুরবাড়ি বিহারে,
ভাবতেই অবাক লাগে। অবাক লাগলেও
আমার আমিকে খুঁজে পাওয়ার সেই মুহূর্ত গুলি ভালো লাগে, মনকে জাগিয়ে রাখে, অনেক চিন্তার মাঝে এক ভালোলাগার পরশ পাওয়া ,আমার আমিকে খুঁজে পাওয়া। ভীষণ ভালো লাগা।
সেদিনের সেই এক ঝলকদেখা,
বয়ে চলেছে সংসারের দায়িত্বের বোঝা।
আমার সকল দায় দায়িত্বের বোঝা।
সেই একঝলক সুন্দরের ছবি,আজও সুন্দর।
তখন ছিল রূপে, আজ বয়সের ভারে খানিক স্তিমিত হলেও রূপ, গুণ ও সকল কর্মেই শ্রেষ্ঠ আজও অতি নিপুণ।B
এই শ্রেষ্ঠতা কিন্তু তার অহঙ্কার নয়,
এই শ্রেষ্ঠতাই তার গুণ, যে গুণের বর্ননা বা ব্যাখ্যা করা আমার দ্বারা সম্ভব নয়।
কারণ আমি নিজে এক বাউন্ডুলে,
ভবঘুরে, ছন্নছাড়া, গৃহকর্মবিমুখ অপদার্থ
অসহায়ক মাত্র। নিজেকে হেয় করছি না বা কাউকে তেল দিচ্ছিনা, যেটুকু সত্য বলে বুঝেছি সেই টুকুই লিখছি।
আমার ভবঘুরের জীবনে অনেক নারীকে দেখেছি, দেখেছি তাদের কর্ম কুশলতা।
কিন্তু এমন কর্ম কুশলতা, দুই হাতেই বুঝি দশ হাতের ক্ষিপ্রকুশলতা।
অতি অল্পে তুষ্ট,ছিলোনা কোন চাহিদা।
সত্যি বলছি কোনদিন ছিলোনা কোন প্রকার কোন চাহিদা।
উদাহরণ স্বরূপ আমি বলতে পারি যে
গত চল্লিশ (৪০)বৎসর বিবাহিত জীবনে মাত্র একটি শাড়ি ব্যতীত কিছুই দেয়নি,
এবং এহেন অপ্রাপ্তির জন্য কোনদিন কোন দুঃখ প্রকাশ বা কোন প্রকার কোন বিরূপ মনভাব প্রকাশও করেনি কখনো।
তাইতো গর্ব করে বলতে পারি আমার সহধর্মিনী চির নির্লোভ, চাহিদা বিমুখ,
অল্পে তুষ্ট,শ্রেষ্ঠ কর্মী, শান্ত সুশীলা।
ভক্তি মার্গেও অনেক উন্নত চিন্তা রাখে মনে। পূজা পাটে ও রন্ধন শিল্পে অতি নিপুণা। তাইতো আজও বলতে পারি
সর্ব গুণে গুণান্বিতা সেই লাল টুকটুকে ফ্রক ও একমাথা কালো কুচ- কুচে চুলের সেই অতি চঞ্চলা, মুহূর্তের দেখা সেই বালিকা আজও তেমনি অতি কর্ম ব্যস্ত,
আজও আমার শুভাকাঙ্খী অতি আপনজন,আমার সুপ্রিয়া, নামটি সবিতা। আগেও বলেছি।
ওর হাতের রান্না সকলেই ভালো বলতো,
অনেক সাধুসন্থ, পরম পূজনীয় মহারাজ গণ।
সবিতা নিজে রান্না করে সেবা করে আনন্দ লাভ করতো। পরিবর্তে সকলেই আশীর্বাদ করতেনও ব্যঞ্জনের প্রশংসা করতেন।
সংসারে অভাব তো সকলের থাকে,
কারোর শিক্ষার অভাব, কারোর টাকার অভাব, কারোর মনুষ্যত্বের অভাব, কারোর একটু ভালোবাসার অভাব।
সবিতারও ছিলো অভাব, ও চিরদিন ভালোবাসার কাঙ্গাল। একটু ভালোবাসা একটু স্নেহে পাবার লোভে ও অনেক অসাধ্য সাধন করতে সক্ষম। আজও
হাজার শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্বেও একটু স্নেহ ভালোবাসার লোভে সদা অসাধ্য সাধনে ব্রতী।
আমার পার্শ নায়িকা আমার সহধর্মিনী।
নারী যখন প্রেমিকা ভালোলাগার প্রেমে
প্রেমিক পুরুষ তখন মাতাল সেই প্রেমে।
কবির কলমে,গল্প গাঁথায় আছো তুমি,
তোমার ঠোঁটের একটুহাসিই ভীষণ দামী।
আমায় মনের আঙিনায় আলগে রাখো,
চিরদিন মনের কারাগারে বন্ধি রেখো।
সুপ্রিয়া তুমি, শুধু নও প্রেয়সী আমার,
তুমিই সাত জন্মের অর্ধাঙ্গিনী আমার।
তোমার শ্ৰেষ্ঠত্বের সম্বল সিঁথির সিঁদুর রেখা,
তাইবুঝি তোমার থাকতে নাই প্রেমের গল্প লেখা।
অর্ধাঙ্গিনী রূপেই চীর মুগ্ধ তুমি শ্রেষ্ঠা
পূর্ণতা লাভের নাইকোন তোমার প্রচেষ্টা।
রন্ধন শিল্পে নিপুণতাতেই তোমার সুখ,
তেল নুন ঝাল হলুদে স্তিমিত সকল দুঃখ।
ইষ্টপ্রেমে রাধাকে তো সকলেই জানে,
রুক্মিণীকেকি আর সকলে জানে ।
স্বামীর আদরে জড়িয়ে সংসারে,
পুরোটাই দিলে জীবন জুড়ে।
তুমি একনিষ্ঠ সেবিকা,বুঝেছিলাম সেদিন,
কেন্সারে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে ছিলাম যেদিন।
অবহেলায় কু-কথা বলেছিলাম তখন,
তোমার সেবাতেই পেয়েছি নুতন জীবন।
তুমি শ্রেষ্ঠা সমাজ সংসারে সজ্ঞানে,
তোমার সিঁথির সিঁদুরের অভিমানে।
<---আদ্যনাথ রায় চৌধুরী---->
==========================
Comments
Post a Comment